<?xml version="1.0" encoding="utf-8" standalone="yes"?>
<rss version="2.0" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/">
  <channel>
    <title>হোম on অপরেশ ভৌমিকের সমগ্র রচনা</title>
    <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/</link>
    <description>Recent content in হোম on অপরেশ ভৌমিকের সমগ্র রচনা</description>
    <generator>Hugo -- 0.147.3</generator>
    <language>bn</language>
    <lastBuildDate>Sat, 03 Jan 2026 00:00:00 +0000</lastBuildDate>
    <atom:link href="https://www.bhowmickarchives.in/bn/index.xml" rel="self" type="application/rss+xml" />
    <item>
      <title>অতর্কিত আক্রমণ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-1/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-1/</guid>
      <description>&lt;p&gt;গুডুম্, গুডুম্।&amp;hellip;&amp;hellip;.. গুডুম্, গুডুম্।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;আজকাল প্রায়ই পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেদ করে দূর থেকে দূরে গুলির আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হয়ে থাকে। মিজো ন্যাশন্যল ফ্রন্টের স্বঘোষিত স্বাধীন মিজোরামের সামরিক বিভাগের ভলান্টিয়ার্সরা রাইফেল ধরেছে। শত্রুকে নিশানা করে নাজেহাল করে। প্রত্যেকেরই মনোবল দৃঢ় এবং অটুট। &amp;lsquo;আমাদের স্বঘোষিত মিজোরামের স্বাধীনতা এবং অখণ্ডতা বজায় রাখতে দেহে শেষ রক্ত বিন্দু থাকা পর্যন্ত শত্রুর সাথে লড়াই চালিয়ে যাব। শত্রু বাহিনী যতই শক্তিশালী হোক না কেন। আমরা যখন আমাদের দেশকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছি তখন এই স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাবই&amp;rsquo;। প্রত্যেক বিদ্রোহী মিজোর একই মনোভাব। এ মনোভাব নিয়েই গুপ্ত বাহিনীর আগাম খবর পেয়ে থু-আয়া তাঁর সহ কর্মীদেরকে নিয়ে সদর রাস্তার পাশে জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ের ঝোপে এমবুশ করেছে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>প্রত্যাবর্তনের খবর</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-2/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-2/</guid>
      <description>&lt;p&gt;তখন রাত্রি প্রায় আটটা। শীতের রাত্রি। চারিদিক কুয়াশায় আচ্ছন্ন করে ফেলছে। ঘর থেকে বেরুলে কিছুই দেখা যায় না। সারা এলাকা জুড়ে একটা নিস্তব্ধতার ভাব। রেমা একবার ঘরের বাইরে গিয়ে শীতের ঝাপটা খেয়ে পুণরায় ভিতরে এসে চুল্লীর পাশে বসে রইল। রোসাঙ্গী ততক্ষণে রাত্রির আহারের জিনিসগুলো প্রায় তৈরী করে ফেলছিল। এমন সময় দরজা ঠেলে জিটিঙ্গা প্রবেশ করল। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে গিয়ে কেবলমাত্র মুখখানা ছাড়া শরীরটাকে যে ভাবে গরম কাপড়ে আচ্ছাদিত করেছে তাতে এক ঝলক দেখে অতি আপনজনও বুঝতে পারবে না যে সে আসলে জিটিঙ্গা। রেমা ও রোসাঙ্গী দুজনেই আগন্তুকের দিকে ভালভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>যুদ্ধ ও বন্দী</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-3/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-3/</guid>
      <description>&lt;p&gt;থিংডলের পাশে রাস্তা থেকে সামান্য দূরে দুর্গম জঙ্গলে ওৎপেতে রয়েছে রাংচোয়াঙ্গা তাঁর সহকর্মীদেরকে নিয়ে। মিলিটারী ভ্যাণ রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দেখেই রাংচোয়াঙ্গা নিজেকে সামলে রাখতে পারেনি। ভ্যানকে নিশানা করে ওর বন্দুক থেকে গুলি গুডুম্, গুডুম্ করে বেরিয়ে আসল। সাথে সাথে সহকর্মীরাও লক্ষ্য করে ছুড়ল। কয়েকটা গুলি ছুড়ার পর অপর পক্ষ থেকে সমানে ট্যাক ট্যাক করে গুলি ক্রমাগত বেরিয়ে আসতে লাগল।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— ওরে বাবা এযে দেখছি ভিমরুলের চাকে ঘা দিয়েছি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— হু, ওরাতো সস্তাগুলি পেয়েছে তাই না থেমে সমানে ঝাড়ছে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>গোপন বৈঠক</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-4/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-4/</guid>
      <description>&lt;p&gt;পশ্চিম দিগন্তে সূর্য ক্রমশঃ ঢলে পড়ছে। য়‍্যাঙ্গায়া, জিটিঙ্গা এবং আরেকজন সহকর্মী পাহাড়ের দুর্ভেদ্য জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে তৈরি আঁকা বাঁকা সর্পিল রাস্তা দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে। দূরে পাহাড়ের চুড়ায় সূর্যরশ্মি বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। মূহুর্তের মধ্যে সেগুলির রং পরিবর্তন করে ক্রমাগত ফিকে হয়ে আসছে। রাত্রির অন্ধকার গ্রাস করার আগেই তাঁদেরকে সাইলো পুঞ্জিতে গিয়ে পৌঁছতে হবে। জিটিঙ্গা প্রথমে ভেবেছিল দীর্ঘদিন বিদেশে বাস করার ফলে হয়তবা য়‍্যাঙ্গায়ার এই দুর্গম পথে চলতে অসুবিধা হবে। কিন্তু বস্তুতপক্ষে য়‍্যাঙ্গায়া ওদের সাথে ঠিক ভাবেই পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে। ওর চোখে মুখে বাড়তি কোন ক্লান্তিকর ছাপ ফুটে উঠেনি। তালে তালে পা ফেলে এগিয়ে চলছে সাইলো পুঞ্জির আস্তানায়।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>ফাঁদ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-5/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-5/</guid>
      <description>&lt;p&gt;চড়াই উৎড়াই ভেঙ্গে সরু পথ ধরে রোসাঙ্গী এবং লালচুঙ্গী জুমক্ষেত থেকে নিজেদের পুঞ্জীতে এগিয়ে চলছে। দু&amp;rsquo;জনই পাশাপাশি হাটছে। দুজনেরই পিঠে দুটো ঝুড়ি। ঝুড়িগুলো সমতল অঞ্চলে তৈরি ঝুড়ির মত নয়। দেখতে বেশ বড় আকারের এবং শক্ত ও মজবুত। উপরে বেত বা কাপড় দিয়ে বেল্ট লাগানো থাকে। পিঠের উপর সমস্ত ঝুড়িটা রেখে বেল্টা কপালে আটকে রাখা হয়। এধরণের ঝুড়ি গুলি নিয়ে চলা ফেরা করতে দুহাতের প্রয়োজন হয় না। আসামের পার্ব্বত্য অঞ্চলের প্রায় সব পাহাড়ীয়া অধিবাসীরা এ ধরণের ঝুড়ি ব্যবহার করে থাকে। দুহাত উন্মুক্ত রেখে ঝুড়ি গুলি বোঝাই করে সহজ ভাবেই চড়াই উৎড়াই পাড়ি দেওয়া যায়। রোসাঙ্গী এবং লালচুঙ্গী তাঁদের পিঠের উপর সমস্ত ঝুড়িটা রেখে বেল্টল্টা কপালে আটকে হাতগুলি উন্মুক্ত রেখেই এগিয়ে চলেছে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>কারাগারের জীবন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-6/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-6/</guid>
      <description>&lt;p&gt;আইজলের সামরিক সেনা নিবাসের একটি প্রহরারত সেলের মধ্যে রাংচোয়াঙ্গা এবং তার সহকর্মীদেরকে আবদ্ধ করে রাখা হয়। অন্যান্য যে সমস্তদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের চেয়ে রাংচোয়াঙ্গাদের গ্রেপ্তার অন্য ধরনের। খোদ Place of operation থেকে ঘেরাও দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা ওদেরকে পাকড়াও করে এনেছে। যুদ্ধরত অন্যান্য বিদ্রোহী মিজোদের সাথে ওদের যোগাযোগ বিদ্ধমান। কাজেই যেভাবে হোক ওদের নিকট থেকে তথ্য বের করে আনতে হবে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;রাংচোয়াঙ্গা এবং তাঁর সহকর্মীরা ধরা পড়ার পর বন্দী অবস্থায় যখন জওয়ানরা তাঁদেরকে নিয়ে চলে তখনই ভেবেছিল যে এই ধরা পড়ার ঘটনা ওদেরকে অনেকদূর নিয়ে যাবে। ধরা পড়ার আসল ধাক্কা সামনে অপেক্ষা করছে। নানান ভাবে কৌশল করে, ছলে বলে ওদের কাছ থেকে তথ্য বের করে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করবে। নানা রকম অত্যাচার করবে। সে অত্যাচার হবে বড় ভয়াবহ। মানসিক, শারীরিক দুভাবেই নির্যাতন চালিয়ে ওদেরকে বেসামাল করবে। অবশ্য যারা মৃত্যু মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছে তাঁদের আবার ভয় কিসের? মাভৈঃ মন্ত্রে এগিয়ে যেতে হবে। মাভৈঃ বলে সব পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>রাজনৈতিক পরিস্থিতি</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-7/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-7/</guid>
      <description>&lt;p&gt;জেনারেল থু-আয়া এবং য়‍্যাঙ্গায়া একটি গোপন আড্ডায় বসে আলাপ করছে। মিজো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকাতে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে সবগুলির খুটিনাটি খবর জিটিঙ্গাই পারে সবচেয়ে বেশী বলতে। য়‍্যাঙ্গায়া এবং থু-আয়া জিটিঙ্গার জন্যই অপেক্ষা করছে। বিগত দিনের ঘটনাগুলির একটা মোটামোটি চিত্র পাওয়ার আশায় য়‍্যাঙ্গায়া এবং থু-আয়ার আলাপ চলাকালীন অবস্থায় জিটিঙ্গা নিদ্ধারিত সময়ের সামান্য দেরীতে এসে হাজির হল। পৌঁছার সাথে সাথেই জিটিঙ্গাকে থু-আয়া বলল&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— কিহে তোমার যেন আজকে কিছু দেরী হয়ে গেল।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-8/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-8/</guid>
      <description>&lt;p&gt;আজকে আমরা আমাদেরকে যে মিজো বলছি সেটা হচ্ছে আমাদের নূতন নামাকরণ। আমাদের ভাষায় মিজো মানে হচ্ছে যারা উঁচুতে বাস করে অর্থাৎ those who live in the high land. আমরা লুসাই, কুকি, মহার, পাইতো, রিয়াং, পাওয়াই, চাকমা, লাখের প্রভৃতি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সম্মিলিত নাম দিয়েছি মিজো।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এখন পর্যন্ত এমন কোন তথ্য সমৃদ্ধ আমাদের কোন পুরাতন গ্রন্থ নেই যা থেকে আমরা আমাদের প্রাচীন ইতিহাস জানতে পারি। তবে বংশ পরম্পরাগত ভাবে মুখে মুখে যে কাহিনী চলে এসেছে তা থেকে আমরা জানতে পারি এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরানো বাসিন্দা ছিল লুসাই, চীন এবং কাচিন এই তিনটি গোষ্ঠী। তারা সম্ভবত সুদুর চীন সীমান্ত থেকে ক্রমে ক্রমে গভীর জঙ্গলের মধ্যপথ ধরে এগিয়ে বার্মা হয়ে এখানে এসে বসবাস করতে আরম্ভ করে। তাদের বংশধররাই ক্রমে ডাল পালা মেলে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে এ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেক গোষ্ঠীরই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই গোষ্ঠীকে পরিচালনা করতেন। তাকে বলা হত লাল।জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে যখন সমস্যা বাড়তে থাকে তখন লালরা তাদের নিকটবর্তী অঞ্চলের লালের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধে মেতে থাকত। তখন যুদ্ধটা হত লালদের দ্বৈতযুদ্ধ। দুই পুঞ্জীর সীমান্ত অঞ্চলে দাঁড়িয়ে দুই গোষ্ঠীর প্রধান দুই লাল সাধারণ ভাবে নিজেদের প্রচলিত অস্ত্রদ্বারা যুদ্ধ করত। সে যুদ্ধ চলতে থাকত যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন মারা যেত। তারপর বিজিত লালের অনুগামীরা বাধ্য হয়ে বিজয়ী লালের অনুগামী হত। বিজয়ী লাল বিজিত লালের মাথার খুলি নিয়ে নিজের গৌরব বৃদ্ধির জন্য বাড়িতে রেখে দিত। যে লাল যতবেশী খুলি নিয়ে রাখতে পারত সেই ছিল সে সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী। এমনিভাবে বিভিন্ন লালদের পরিচালনাধীন বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলির জীবনযাত্রায় কালের প্রবাহে বিবর্তন ঘটে এগিয়ে চলছিল। লালরা তাদের ক্রমে ক্রমে বর্দ্ধিত জনসংখ্যা নিয়ে কেবলমাত্র পাহাড়ের সীমাবদ্ধ গভীর অরণ্যে থাকতে পারেনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে ওরা বাধ্য হয়ে নিজেদের বসবাসের অঞ্চলের পরিধি বৃদ্ধি করছিল। অরণ্যের দুর্গম অঞ্চল থেকে ক্রমশঃ সমতলের নিকটবর্তী পাহাড়ী টিলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। মনিপুর, কাছাড় এবং ত্রিপুরা প্রভৃতি সীমান্ত অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ওদের পুঞ্জীর বিস্তৃতি লাভ করেছিল।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>পরিবর্তনের ছোঁয়া</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-9/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-9/</guid>
      <description>&lt;p&gt;দিন এগিয়ে চলছে। মিজো জেলার কলোডিন, সাইরেং প্রভৃতি নদী বয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। জলপ্রবাহ বন্ধ হয়নি। থু-আয়া জিটিঙ্গা য়‍্যাঙ্গায়া, রেমাও অন্যান্যদের সশস্ত্র অভিযান কলোডিন নদীর মতই বয়ে চলছে। কখনও বর্ষার খরস্রোতের মত। আবার শীতের চর পড়া নদীর ক্ষীণস্রোতের মত। দীর্ঘ চার বৎসরের মধ্যে বিদ্রোহী মিজোদের সশস্ত্র লড়াই চলাকালীন অবস্থায় রেমা কোনদিন সমতলে নেমে আসেনি। অনেকদিন পর রেমা তার দুজন সাথীর সঙ্গে শিলচর শহরে আসে। মিজোপাহাড়ে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হওয়ার প্রথম দিকে যে সমস্ত মিজোরা নেমে সমতলে আসত তারা স্বভাবতই ভয়ে ভয়ে চলাফেরা করত। তখন অনেক সময় শহরের সমতলবাসী কোন কোন শ্রেণীর লোকদের দ্বারা তারা প্রকাশ্য রাস্তাতেই নিগৃহীত হত। কিন্তু আজ আর তেমনটি নয়। রেমা সহরে ঢুকেই বড় রাস্তা ধরে শিলচর শহরের কেন্দ্রাভিমুখে এগিয়ে যেতে যেতে যা দেখল সেটা তার কাছে নূতন ঠেকল। জোরাম হোটেলের পাশ থেকে আরম্ভ করে বড় রাস্তার পাশে দেওয়ালে লাল কালির বড় বড় হরফে লিখা রয়েছে&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>জেলের জীবন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-10/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-10/</guid>
      <description>&lt;p&gt;রাংচোয়াঙ্গাদেরকে যখন শিলচর জেল থেকে বের করে নিয়ে রেলগাড়ীর সাহায্যে দূরপাল্লার পাড়ি দেয় তখন ওরা টের পায়নি যে ওদেরকে কোথায় এবং কি উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে। রাংচোয়াঙ্গা এবং অন্যান্যদের মন এক অজানা আশঙ্কায় ভারাক্রান্ত ছিল। কি হবে ভাবনাটাই সর্বক্ষণের জন্য ওদের মনে পীড়াপীড়ি করছিল। কর্তৃপক্ষ রাংচোয়াঙ্গাদের সাথে অন্যান্য বিদ্রোহী মিজোদেরকে আসামের বিভিন্ন জেলে ভাগ বাটোয়ারা করে পাঠিয়ে স্বতন্ত্র ভাবে রাখে। আসামের বিভিন্ন জেল ছাড়া অনেককে আসামের বাইরেও চালান দেয়। বিভিন্ন জেলে বিদ্রোহীদেরকে কালযাপনের অধিকাংশ সময়ই অজানা ভবিষ্যতের অমঙ্গল চিন্তায় কাটে। রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে অভিযুক্ত করে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২১ ধারা মতে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন চলে যাওয়ার পরও সত্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য মহামান্য আদালত বিচার শুরু করেনি। বিচারাধীন বন্দী হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে জন্মভুমি থেকে বিচ্ছিন্ন করে সুদুর অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ করে রেখে দেয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২১ ধারা ছাড়াও অনেককে বিভিন্ন ধারাতে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু যখন চার্জশীট দাখিল করতে পারেনি তখন কর্তৃপক্ষ অনেকের ক্ষেত্রে পূর্বের অভিযোগ বাতিল করে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। তখন স্বভাবতই সে সমস্ত বন্দীরা ভাবে যে যাক তাহলে এত দিন পর মুক্তি পেয়ে আবার জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া যাবে। তখন মনে নূতন প্রাণের স্পন্দন বইতে থাকে। অনেকেই নিজেদেরকে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়, কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কর্তৃপক্ষের কারসাজি তাদের সেই আনন্দের জোয়ার বেশীক্ষণ বইতে দেয় না। তাদেরকে পূর্ব্বের অভিযোগ থেকে খালাস করে জেল থেকে বের করে আবার অন্যান্য ধারা প্রয়োগ করে জেলে ঢুকিয়ে দেয়। ন্যায় এবং সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা সেটার মহিমা প্রকাশ করতে কর্তৃপক্ষ এমনি ভাবে মিজো বন্দীদেরকে জেল গেইট থেকে বের করে দেয় এবং অন্য ধারা দিয়ে আবার গ্রেপ্তার করে জেলে ঢুকিয়ে দেয়। এগুলি করেই হয়তো কর্তৃপক্ষ বাইরের লোকদের কাছে প্রমাণ করতে চান যে, দেখ আমরা মিজো বন্দীদেরকে এমনিতেই ফেলে রাখিনি। কিন্তু এমনিতর প্রশাসনিক এবং বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা কার্যকরী হতে গিয়ে বিচারাধীন মিজো বন্দীদেরকে যে কষ্ট সহ্য করতে হয় সেটা বাইরের জনগণ পুরাপুরি টের পায় না। আবার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ওদেরকে পূর্বের ধারা থেকে মুক্তি দেওয়ার খবর ঢালাও ভাবে প্রচার করলেও সাথে সাথে নূতন ধারায় অভিযুক্ত করে যে আবার জেলে আবদ্ধ করে রাখছে সেটা তেমন ব্যাপকহারে প্রচারিত হয় না। প্রসাশনিক ব্যবস্থার আবর্তে পড়ে রাংচোয়াঙ্গা এ জেল সে জেল থেকে স্থানান্তরিত হতে হতে দীর্ঘদিন পর আবার শিলচর জেলে পৌঁছল। রাংচোয়াঙ্গা দেখল তার ব্যাপারে মূলত কোন পরিবর্তন না হলেও জেলের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি একটু ভিন্ন ধরণের।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>মুক্তি</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-11/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-11/</guid>
      <description>&lt;p&gt;সকাল বেলার খাবার খেয়ে রাংচোয়াঙ্গা একটা বিড়ি ধরিয়ে নিজের ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় অনেকদিন আগে এ জেলেই দেখা পরিচিত একজনকে দেখে দাঁড়ালো। কয়েক বৎসরে চেহারার পরিবর্তন হলেও চিনতে অসুবিধা হয়নি। তাকে লক্ষ্য করে বলল,&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— আরে থাংলুরা না?&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— হ্যাঁ, আমি থাংলুরাই।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— তোমার ত বেশ পরিবর্তন হয়েছে।
— একটু মোটা হয়ে গেছি। তাই তোমার চিনতে অসুবিধা হচ্ছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— অসুবিধা হচ্ছে না। অসুবিধা হলে ত তোমাকে থাংলুরা বলে ডাকতে পারতাম না। তোমাকে দেখে অন্য কেহ ভেবে পাশ কেটে চলে যেতাম। সে যাহোক। তোমাকে যে আজকাল জেলের ভিতরে ঘুর ঘুর করতে দেখি না। কি ব্যাপার?&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>শেষের শুরু</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-12/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-12/</guid>
      <description>&lt;p&gt;রাংচোয়াঙ্গা এবং অন্যান্যরা জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর মিজো পাহাড়ে অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনীর সহিত আইজলের পাশে ঝুমপাই অঞ্চলে এবং অন্যান্য পার্বত্য এলাকায় বৈরী মিজোদের সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং উভয় পক্ষে হতাহত ঘটতে থাকলেও সেসমস্ত খবর গুলিকে যথাযথো গুরুত্ব না দিয়ে মিজো পাহাড়ের শহর ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপ প্রাধান্য পেতে থাকে। দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রী সহ ভারত সরকারের অন্যান্য নেতৃবর্গের সঙ্গে মিজো জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং মিজো জেলাকে পূর্ণ রাজ্যে রূপান্তরিত করার দাবী পেশ করা হয়। ইত্যাবসারে খবরের কাগজের শিরোনামায় আসতে থাকে যে কিছু সংখ্যক মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের কর্মী সরকারের সহিত বোঝাপড়ায় আসতে থাকে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>সেতু সমুদ্রম প্রকল্প প্রসঙ্গে</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_04/</link>
      <pubDate>Sat, 03 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_04/</guid>
      <description>সেতুসমুদ্রম শিপিং ক্যানেল প্রকল্পের বিভিন্ন দিক, বিতর্ক এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন।</description>
    </item>
    <item>
      <title>গো-রক্ষায় বিশ্বমঙ্গল গো-গ্রাম যাত্রা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_06/</link>
      <pubDate>Sun, 20 Dec 2009 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_06/</guid>
      <description>বিশ্বমঙ্গল গো-গ্রাম যাত্রা, যা গোরক্ষার জন্য একটি দেশব্যাপী উদ্যোগ, তার উপর একটি পত্রিকার প্রতিবেদন। এই যাত্রা কুরুক্ষেত্র থেকে নাগপুর পর্যন্ত আয়োজিত হয় এবং এর একটি অংশ বরাক উপত্যকাতেও অনুষ্ঠিত হয়।</description>
    </item>
    <item>
      <title>প্রিয় প্রসূনদা স্মরণে</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_02/</link>
      <pubDate>Sat, 03 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_02/</guid>
      <description>লেখক অপরেশ ভৌমিকের তার গৃহশিক্ষক প্রসূনদার প্রতি একটি মর্মস্পর্শী স্মৃতিচারণ।</description>
    </item>
    <item>
      <title>আব্রাহাম লিঙ্কনের স্মৃতিধন্য কেনটাকির হোজেনভাইল</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_01/</link>
      <pubDate>Sat, 03 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_01/</guid>
      <description>আব্রাহাম লিঙ্কনের জন্মস্থান, আমেরিকার জাতীয় ঐতিহাসিক উদ্যান, কেনটাকির হোজেনভাইল নিয়ে একটি পত্রিকার প্রতিবেদন।</description>
    </item>
    <item>
      <title>আরএসএসকে রাজনীতির সঙ্গে জড়াতে চাননি গোলওয়ালকর</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_05/</link>
      <pubDate>Sat, 03 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_05/</guid>
      <description>রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দ্বিতীয় সরসংঘচালক মাধব সদাশিব গোলওয়ালকরের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জীবন ও কার্যাবলীর উপর একটি প্রতিবেদন।</description>
    </item>
    <item>
      <title>একনাথ রানাডে: স্বামীজির এক যোগ্য ভাবশিষ্য</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_03/</link>
      <pubDate>Sat, 03 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/articles/newspaper_03/</guid>
      <description>স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত একনাথ রানাডের জীবন ও তাঁর কর্মকাণ্ডের উপর একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন।</description>
    </item>
    <item>
      <title>আব্রাহাম লিঙ্কনের স্মৃতিধন্য কেনটাকির হোজেনভাইল</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/lincoln_birth_place/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/lincoln_birth_place/</guid>
      <description>&lt;p&gt;বাউলিং গ্রিন শহরটা আমেরিকার কেনটাকি রাজ্যের দ্বিতীয় বড় শহর। আধুনিক শহরের আনুষঙ্গিক সবকিছু থাকার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে আরও দু&amp;rsquo;টো উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান। একটি হলো দেশ-বিদেশ থেকে আগত ছাত্রদের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য বিখ্যাত ওয়েস্টার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটি এবং অপরটি হলো একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এডওয়ার্ড ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হেথাওয়ে ইনভেস্টার-এর নিয়ন্ত্রণাধীন ফুইট অফ দি লুমের হেডকোয়ার্টার।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;আব্রাহাম লিংকনের জন্মভিটায় মেমোরিয়েল বিল্ডিং এর সামনে।
ফুইট অফ দি লুমের হেডকোয়ার্টারেই আমার ছেলে কাজ করতো আর সেজন্যই প্রবাসে ওর সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে বাউলিং গ্রিন শহরের উইলকিনসন ট্রেসের ফেয়ারওয়েজ অ্যাট হার্টল্যান্ড কমপ্লেক্সের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে হয়।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>কালসঙ্গী ম্যাকনামারা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/mcnamara/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/mcnamara/</guid>
      <description>&lt;p&gt;ম্যাকনামারা নামটা মনের কোন গহীন অতলে যে চাপা পড়েছিল জানি না, সেটা হয়ত বা চিরদিনের মতই চাপা পড়ে থাকত যদি না আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডিটিডব্লু ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে আসতাম।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কিছুদিন আগেও আরেকবার এই এয়ারপোর্টে এসেছি। তবে তখন ছিল ডমেস্টিক ফ্লাইট, ডেট্রোয়েট থেকে নিউইয়র্ক। সেসময় অবশ্য এই ম্যাকনামারা টারমিনালে আসতে হয়নি। আমাকে স্মিথ টারমিনালে যেতে হয়েছিল। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের আমেরিকান ঈগল নামক ছোট জেট বিমানে চেপে ডেট্রয়েট থেকে নিউইয়র্ক লা-গার্ডিয়া এয়ারপোর্টে অবতরণ করেছিলাম। আমেরিকার স্মিথ নামে কোন্ বরেণ্য ব্যক্তির স্মৃতিতে স্মিথ টার্মিনাল রাখা হয়েছে তা জানি না। সেটা অনুসন্ধানের জন্য মন তেমন কোনও পীড়াপীড়িও করেনি। কিন্তু ম্যাকনামারা টার্মিনাল নাম শুনেই মনে হয়েছে সেটা নিশ্চয়ই সেই ম্যাকনামারা যে নাকি বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে বিশ্বব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমেরিকার কৃতি পুরুষদের অন্যতম ম্যাকনামারার স্মৃতি রক্ষার্থেই সম্ভবত ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের এই টার্মিনালের নাম রাখা হয়েছে ম্যাকনামারা টার্মিনাল।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>কালাডি দর্শন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/kaladi/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/kaladi/</guid>
      <description>&lt;p&gt;কোচিন শহরের ভাইটিলা এলাকায় এল, এম, পাইলি লেনের বাড়িটাতে আমাদের বসবাসের বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো। বাড়ির মালিক কেরলের স্থায়ী বাসিন্দা, মালয়ালম ভাষাভাষী এবং সম্ভ্রান্ত হিন্দু। সম্প্রতি একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। ভদ্রলোক এবং উনার গিন্নি বাড়িতে থাকেন। ভাড়াটিয়ার প্রতি ওদের ব্যবহার অমায়িক।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;নূতন জায়গায় গিয়ে বসবাস করতে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় খুটিনাটি অনেক জিনিসের খোঁজ খবর নিতে ওদের সাহায্য অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের নিজস্ব ভাষায় সেই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর নাম ওদেরকে বলে বুঝানো যায় না। আর জিনিস পত্রের সঠিক স্থানীয় নাম জানা না থাকলে দোকানে গিয়ে কিছুই কেনা কাটা করা যায় না। রান্নার উপকরণ যথা কালীজিরা, গুলমরিচ, আদা এবং মাছ কুটার বটিদা, নারকেল কুড়ানি প্রভৃতির স্থানীয় নাম জানতে গিয়ে গলদগম হতে হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে বাড়িতে ঠাকুরের নিত্য পূজা করার জন্য ঠাকুর রামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং গুরুদেব স্বামী গহনানন্দজীর ফটো কোথায় পাওয়া যাবে জিজ্ঞেস করে অতি সহজেই তাদের কাছ থেকে জানতে পারি যে, আমাদের এল,এম, পাইলি লেন থেকে পাথর ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে ভাইটিলা রামকৃষ্ণ মঠ এবং সেখানে গেলেই ওগুলো পাওয়া যাবে।
এল,এম, পাইলি লেন থেকে বেরিয়ে ভাইটিলা চৌমাথায় যাওয়ার রাস্তায় পা ফেললেই সামনে রয়েছে ৪৭নং জাতীয় সড়ক। উত্তরে তামিলনাড়ুর শেষ প্রান্ত থেকে দক্ষিণে ভারত মহাসাগরের পার অবধি আরব সাগরের উপকূল ঘেঁষে চলে গেছে চার লাইনের ৪৭নং জাতীয় সড়ক এবং তার দু&amp;rsquo;ধারের কিছু ফাঁকা জায়গা নিয়ে চওড়া হবে প্রায় একশ মিটারের কাছাকাছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যা থেকে সকাল অবধি সবসময়ই বিশাল বিশাল ষোল চাকার মালবাহী ট্রাক এবং নানা ধরণের যানবাহন এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>চলো যাই মুন্নার</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/munnar/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/munnar/</guid>
      <description>&lt;p&gt;মুন্নার সম্বন্ধে আমার কিছুই জানা ছিল না। কয়েকমাসের জন্য শিলচরের বাড়ি থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে কোচিনে পাড়ি দেওয়ার প্রাক্কালে পার্থিব বসুর মুখেই আমি মুন্নারের কথা প্রথম শুনি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;পার্থিব হলো আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তব্য বিদ্যার অধ্যাপক। বনগাঁর ছেলে, পড়াশুনা কলকাতায় করেছে এবং পরবর্তীতে বিদেশ বিভুইয়ে সে অনেক ঘুরাঘুরি করেছে। পড়াশুনার বিষয়বস্তু নিয়ে গবেষণার জন্য ওকে কয়েকমাস আফ্রিকার শ্বাপদ সঙ্কুল ও হিংস্র প্রাণী সম্বলিত গভীর জঙ্গলেও দিনাতিপাত করতে হয়।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার জন্য নিযুক্তিপত্র নিয়ে কলকাতা থেকে শিলচরে আসার দুতিন দিন পরই আমার বাড়িতে ও ভাড়াটে হয়ে আসে। প্রথম দর্শণেই আমার বাড়িটা ওর খুব পছন্দ হয়। তাছাড়া ভাড়াটের সুযোগ সুবিধা এবং বিনিময়ে প্রদেয় মাসিক শুল্ক প্রভৃতি সবকিছুই মনোমত হওয়ায় পার্থিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবাসনে চলে যাওয়ার কোন চেষ্টা করেনি। একই ছাতের নিচে বসবাসে উভয়েরই উভয়ের প্রতি দিনে দিনে টান বাড়ে। তাই আচমকা শিলচরের পাততাড়ি গুটিয়ে কোচিন চলে যাবো বলে আমার অবর্তমানে অধ্যাপক পার্থিব বসুকেই বাড়িটা দেখভাল করার জন্য অনুরোধ করি। পার্থিব খুশী মনেই দেখভালের দায়িত্ব নেয়। ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে উঠোন সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময়ই পিছু পিছু এগিয়ে এসে ও আমাকে বলে- “দাদা কোচিন থেকে মুন্নার কিন্তু দূর নয়। মুন্নারের হিল রিসোর্টে গিয়ে কয়েকদিন থাকবেন।”
কোচিনে এসে বসবাস করার কয়েকমাস হয়ে যায়। শহর এলাকার হাটবাজার, মল এবং কোচিন শহরের পশ্চিমে দৃষ্টির অগোচরে চলে যওয়া দিগন্ত বিস্তৃত সীমাহীন সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর জলরাশির উথাল পাথাল বার কয়েক ছুটির দিনে দেখা হয়েছে। তাই কোচিন শহরের নিকটবর্তী দর্শনীয় জায়গায় যাওয়ার চিন্তা ভাবনা শুরু হয়।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে দিনযাপনের ভাষ্য</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/newyork/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/newyork/</guid>
      <description>&lt;p&gt;কৃপাংশু চৌধুরী আমার চাকুরী জীবনের প্রথম পর্বে স্বল্প সময়ের সহকর্মী। সে আসাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংএ ডিগ্রি লাভ করার পরই লেকচারার পদের নিযুক্তি পেয়ে শিলচর পলিটেকনিকে যোগ দেয়। প্রায় ছ ফুট লম্বা, সুশ্রী ও সুঠাম দেহের অধিকারী কৃপাংশুর ছাত্র পড়ানোর বিশেষ দক্ষতা এবং সহকর্মীদের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তুলার বিশেষ গুণ ছিল। তাছাড়া ছাত্রদের খেলাধূলা এবং সাংস্কৃতিক মান উন্নয়নেও তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;আমিও চাকুরী জীবনের পূর্বে ছাত্রাবস্থায় শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত এ ডিভিশনের লীগ এবং নক আউট প্রতিযোগীতায় ফুটবল এবং ক্রিকেট দু ধরণের খেলাই খেলেছি। ফুটবল খেলেছি শিলচর স্পোটিং ক্লাবের হয়ে এবং ক্রিকেট খেলেছি শিলচর টাউন ক্লাবের হয়ে। পরবর্তীতে চাকুরী জীবনে শিক্ষক হয়েও ছাত্রদেরকে নিয়ে ফুটবল এবং ক্রিকেট টিম গঠন করে খেলাধূলায় অংশগ্রহণ এবং পরিচালনায় যুক্ত থেকেছি। এসুবাদেই কৃপাংশুর সঙ্গে আমার ভাব বিনিময় এবং সম্প্রীতি গড়ে ওঠে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>পরবাসের ব্যতিক্রমী গল্প</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/omaha/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/omaha/</guid>
      <description>&lt;p&gt;আমেরিকায় আমাদের প্রথম প্রবাস ছিল মিশিগান রাজ্যের আববাার্ণ হিলস্ শহরের এডামস্ ক্রীক এপার্টমেন্টে। আববার্ণ হিলস্ শহরেই ছিল ক্রাইসলার কোম্পানীর বড় অফিস। ক্রাইসলার হলো আমেরিকায় মটর তৈরির বিখ্যাত কোম্পানী। এক সময় জার্মানের ডেইমলার কোম্পানীর সাথে যুক্ত হয়ে ক্রাইসলার এণ্ড ডেইমলার নামে ওরা পৃথিবীজুড়ে মটর তৈরির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। আমার ছেলে শ্রীমান অশোকতরু ব্যাঙ্গালোর শহরেই ডেইমলার কোম্পানীর নিযুক্তি পেয়ে প্রথমে জার্মানের স্কুট গার্ট শহরে কিছুদিন কাজ করে পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের আববার্ণ হিলস্ শহরে বদলি হয়ে যায়। আববার্ণ হিলস্ শহরটি আবার আমেরিকার বিখ্যাত অটোমোবাইল সিটি ডেট্রয়েটের লাগোয়া শহর। ডেট্রয়েট শহরটি এক সময়ে পৃথিবীর সেরা মোটর গাড়ি উৎপাদনের কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে অবশ্য ডেট্রয়েট তার পুরাতন ঐতিহ্যের ঠাট রাখতে পারেনি। ফোর্ড, জেনারেল মটরস, চেভ্রলেট প্রভৃতি কোম্পানীর এক সময়ের চাকচিক্যপূর্ণ বৃহৎ বৃহৎ অট্টালিকাগুলো বর্তমানে ভগ্নদশা প্রাপ্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় বিরাজমান।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>ফক্স টিভি নেটওয়ার্ক ও থাইলুর মাসীমা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/foxtv/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/foxtv/</guid>
      <description>&lt;p&gt;আমেরিকার আরকানসাস ষ্টেটের রোজার্স নামক ছোট্ট শহরের পাইনেকল্ হিলস্ এলাকার একটা কনডেমোনিয়ামে কিছুদিনের জন্য আমাদের বসবাস ছিল। আমাদের ঐ বাসগৃহ থেকে অনতিদূরেই ছিল একটা ওয়ালমার্ট আর সেটাই নাকি ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের প্রথম দোকান। আমরা ঠিক করেছিলাম রবিবার বন্ধের দিন সকালবেলা রোজার্সের ঐ ঐতিহাসিক ওয়ালমার্টে যাবো। কিন্তু শনিবার মাঝরাত থেকে বরফ পড়তে শুরু করে এবং এলাকার রাস্তাঘাটে বরফ প্রায় তিন ইঞ্চি উচু হয়ে জমাট বেঁধে থাকে। অগত্যা রবিবার সকালবেলা প্রতিকুল আবহাওয়ায় ঘর থেকে বের না হয়ে কম্পিউটারের সামনে বসে মাউস নিয়ে নাড়াচাড়া করি। গুগুলস্-এ চাঁদ প্রসঙ্গে কিছু দেখতে গিয়ে কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে আসে &amp;lsquo;ফক্স টিভি এন্ড দি এপেলো মুন হোয়াক্স&amp;rsquo;। সেটাতে মনোনিবেশ করতেই মনে এক বিরাট ধাক্কা লাগে। হায় হায়, এটা যদি সত্যি হয় তাহলে কি সর্বনাশের কথা! এত বড় মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমেরিকা পৃথিবীর মানুষকে বোকা বানিয়েছিলো?&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>বাউলিং গ্রীন, ন্যাসভাইল ও ওকরীজের খণ্ডকথা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/nashville/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/nashville/</guid>
      <description>&lt;p&gt;ইউনাইটেড স্টেটস্ অফ আমেরিকার রাজ্যগুলির মধ্যে কেনটাকি অন্যতম।
কেনটাকি রাজ্যের রাজধানী হলো লুইসভাইল এবং লুইসভাইলের পরই দ্বিতীয় বড়
শহর হলো বাউলীং গ্রীন। বাউলিং গ্রীন শহরে রয়েছে বিখ্যাত ওয়েস্টার্ণ কেনটাকি ইউনিভার্সিটি। এই ইউনিভার্সিটিতে দেশ বিদেশের ছাত্ররা এসে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এছাড়া এ শহরে আরো একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেটা হলো (Fruit of the Loom) ফ্রুইট অফ দি লুমসের হেডকোয়ার্টার। ফ্রুইট অফ দি লুমস হলো গেঞ্জি, আণ্ডারওয়ার, মোজা ইত্যাদি সহ নানা ধরণের অন্তর্বাস তৈরির বিখ্যাত কোম্পানী যার উৎপাদন কেন্দ্র পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আছে এবং উৎপাদিত দ্রব্য বিশ্বের বাজারে বিক্রি হয়।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>মায়াবী সেতুনগরী পিটস্বার্গ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/pittsburg/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/pittsburg/</guid>
      <description>&lt;p&gt;আববার্ণ হিলসের এডামস্ত্রীক এপার্টমেন্টে আমাদের বসবাসের তিনমাস হয়ে গেছে। শীতের দাপট আর নেই। তখন বসন্তের শেষ। চারদিকের শুকনো ডালপালা নিয়ে গাছের কঙ্কালগুলো নূতন রূপ ধরেছে। মনে হয় কোন এক ঐন্দ্রজালিক শক্তির প্রভাবে পত্রবিহীন গাছের শুকনো কঙ্কালগুলো হঠাৎ সজীব মহীরুহে রূপান্তরিত হয়েছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এডামস্ত্রীক এপার্টমেন্টে আবির্ভূত আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রথম পুরুষ শ্রীমান অরুণীম ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। দেখতে দেখতে ওর বয়স আড়াই মাস হয়ে গেলো। ওকে কারসীটে ভালোভাবে রেখে ভ্রমণ করা যায়। ছুটির দিনে আশেপাশের শহর ডেট্রয়েট, ট্রয়, হ্যামট্রেক, পন্টিয়াক, রোচেষ্টার হিলস্ প্রভৃতি জায়গাগুলো দেখা হয়েছে। তাই পরবর্তীতে শনি রবি দু&amp;rsquo;দিনের ছুটিতে পেনসেলভেনিয়া ষ্টেটের পিটস্বার্গ শহরে যাওয়ার কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়।
শনিবার দিন সকালবেলা আববার্ণ হিলস্ থেকে নিজেদের ক্রাইসলার জীপে চেপে রওয়ানা দেই পিটস্বার্গের উদ্দেশ্যে। ড্রাইভিং সীটে অশোকতরু এবং তার ডানপাশে আমি। পিছনে মধ্যিখানে কারসীটে বেল্ট বেঁধে রাখা হয় অরুণীমকে এবং তার দু&amp;rsquo;পাশের দুটো আসনে ঠাম্মা রুবি এবং মা সোনা।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>শিকাগো ভ্রমণ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/chicago-bhraman/</link>
      <pubDate>Thu, 01 Jan 2026 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/travelogue/chicago-bhraman/</guid>
      <description>&lt;h2 id=&#34;পরককনধন&#34;&gt;প্রাক্কন্ধন&lt;/h2&gt;
&lt;p&gt;তিন মাস হলো আমরা পরবাসী। আমেরিকার মিশিগান স্টেটে এসেছি। ছেলে ডেইমলার অ্যান্ড ক্রাইসলার কোম্পানীর সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। একসময়ে বিশ্বের এক নম্বর অটোমোবাইল সিটি ডেট্রয়েটের পাশে আববার্ণ হিলসের এডামস্ ক্রীকে ওর বাসস্থান। আমরা সেখানেই উঠি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ডেট্রয়েটে শীতের প্রকোপ খুব বেশি। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে এখানে আসার পর মার্চ মাস অবধি অধিকাংশ দিনই বরফ পড়েছে এবং তাপাঙ্ক -৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে -৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওঠানামা করেছে। দীর্ঘদিন আকাশে সূর্য দেখার সুযোগ হয়নি। কেবল আহার সামগ্রী কিনতে বাইরে যেতে হয়েছে। বিশেষ শীতবস্ত্র গায়ে জড়িয়ে এয়ার কন্ডিশনড ঘর থেকে বেরিয়ে এয়ার কন্ডিশনড গাড়ি চেপে শপিং মলে বাজার করেই ঝটাপট আস্তানায় ফিরে আসা। বাস্, এ পর্যন্তই আমাদের বাইরে বেরোনোর ব্যাপার। বস্তুত সে সময় ঘরবন্দীই ছিলাম।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>“হে অবাঞ্ছিত অতিথি!” - সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রতিবাদ সভা (১৯৫৮)</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/newspaperclip_02/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/newspaperclip_02/</guid>
      <description>১৯৫৮ সালের একটি পত্রিকার প্রতিবেদন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর বিরুদ্ধে সোশ্যালিস্ট পার্টির একটি প্রতিবাদ সভা ও খোলা চিঠি প্রদানের বিবরণ রয়েছে।</description>
    </item>
    <item>
      <title>নরেশ চন্দ্র ভৌমিক ও দীপালি সেনের বিবাহ আমন্ত্রণপত্র (১৯৫১-৫২)</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/misc_02/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/misc_02/</guid>
      <description>নরেশ চন্দ্র ভৌমিক ও শ্রীমতী দীপালি সেনের বিবাহের দুটি হস্তলিখিত আমন্ত্রণপত্র, যা ১৯৫১-৫২ সালের।</description>
    </item>
    <item>
      <title>নরেশ ভৌমিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার প্রতিবেদন (১৯৬০)</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/nc_clip_04/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/nc_clip_04/</guid>
      <description>১৯৬০ সালের একটি পত্রিকার প্রতিবেদন, যেখানে আইনজীবী পরেশ চন্দ্র চৌধুরী কর্তৃক নরেশ ভৌমিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মানহানির মামলার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।</description>
    </item>
    <item>
      <title>নরেশ ভৌমিকের শোকসভার বিজ্ঞপ্তি (১৯৬৭)</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/misc_03/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/misc_03/</guid>
      <description>বিশিষ্ট ফরওয়ার্ড ব্লক কর্মী নরেশ ভৌমিকের প্রয়াণে আয়োজিত একটি শোকসভার বিজ্ঞপ্তি, যা ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।</description>
    </item>
    <item>
      <title>নরেশ ভৌমিকের স্মৃতিসভা (২য় পত্রিকার প্রতিবেদন)</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/np_clip_01/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/np_clip_01/</guid>
      <description>বিপ্লবী নরেশ ভৌমিকের পঞ্চম মৃত্যু-দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মৃতিসভার আরও একটি পত্রিকার প্রতিবেদন।</description>
    </item>
    <item>
      <title>নলিনী কান্ত গুহের চিঠি (মে ১৯৮৫)</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/communication_04_b/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/communication_04_b/</guid>
      <description>অপরেশ ভৌমিকের কাছে লেখা নলিনী কান্ত গুহের একটি চিঠি, যেখানে নরেশ ভৌমিকের পেনশন ফাইল সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।</description>
    </item>
    <item>
      <title>পেনশন মামলার স্থিতি সম্পর্কে পোস্টকার্ড</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/post_card_04/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/post_card_04/</guid>
      <description>নলিনী গুহের লেখা একটি পোস্টকার্ড, যেখানে তিনি অপরেশ ভৌমিককে তাঁর দাদার পেনশন মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাচ্ছেন।</description>
    </item>
    <item>
      <title>পেনশন সংক্রান্ত নলিনী কান্ত গুহের পোস্টকার্ড</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/post_card_03/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/post_card_03/</guid>
      <description>অপরেশ ভৌমিককে লেখা নলিনী কান্ত গুহের একটি পোস্টকার্ড, যেখানে পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত ফাইলের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।</description>
    </item>
    <item>
      <title>বাংলা-বিহার সংযুক্তি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিবৃতি (১৯৫৬)</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/newspapar_clip_01/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/newspapar_clip_01/</guid>
      <description>রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা-বিহার সংযুক্তির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কলকাতা সোশ্যালিস্ট পার্টির সম্পাদক শ্রীনরেশ ভৌমিকের একটি বিবৃতি।</description>
    </item>
    <item>
      <title>বিপ্লবী নরেশ ভৌমিকের স্মৃতিসভা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/nc_clip_02/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/nc_clip_02/</guid>
      <description>প্রখ্যাত ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা ও বিপ্লবী নরেশ ভৌমিকের মৃত্যু-দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি স্মৃতিসভার পত্রিকার প্রতিবেদন।</description>
    </item>
    <item>
      <title>ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠনের সমর্থনে বিবৃতি (১৯৫৬)</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/sp_04/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/sp_04/</guid>
      <description>সোশ্যালিস্ট পার্টির কলকাতা শহর কমিটির সম্পাদক হিসেবে নরেশ ভৌমিকের একটি বিবৃতি, যেখানে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।</description>
    </item>
    <item>
      <title>শিলচর মেডিকেল কলেজ গৌহাটিতে স্থানান্তরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/np_clip_03/</link>
      <pubDate>Mon, 29 Dec 2025 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/archive/np_clip_03/</guid>
      <description>প্রস্তাবিত শিলচর মেডিকেল কলেজ গৌহাটিতে শুরু করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিলচরে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ জনসভার পত্রিকার প্রতিবেদন।</description>
    </item>
    <item>
      <title>অফিসার ব্রজমোহন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/officer-brajamohan/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/officer-brajamohan/</guid>
      <description>&lt;p&gt;মলির জন্যেই বাড়তি জ্বালাটুকু সহ্য করতে হচ্ছে। অফিসে দশটা পাঁচটায় কোন ঝামেলা নেই। চেম্বারে সীটের পাশেই আলাদা একটা ষ্ট্যান্ডে জুতসই ভাবে ফোনটা রাখা হয়েছে। আড়াই হাজার টাকার অল পারপাস চেয়ার টায় হেলে বা হাত বাড়ালেই রিসিভারটা হাতের মুঠোয় চলে আসে। ইচ্ছে হয় কানে মুখে লাগিয়ে হ্যালো করো না হয় পড়ে থাক। ক্রিং ক্রিং শব্দ শুনে অফিসের কেহ না কেহ অবশ্যিই ধরবে। কিন্তু বাসারটা নিয়েই হচ্ছে ঝামেলা। সময়-অসময়ের জ্ঞানগম্যি নেই, যখন তখন ক্রিং ক্রিং করে মাথাটা বেদুরস্ত করে দেয়। ডাইনিং টেবিলে জুত হয়ে বসে খাবারটা মুখে দিতে যাচ্ছ আর ঠিক তখনই টেলিফোনটা চীৎকার করে উঠবে। অথচ আশ্চর্য্য, যে মলির পীড়াপীড়িতে লাইনটা অফিস থেকে রেসিডেন্সে এক্সটেনশন করা হয়েছে সে তখন নির্বিকার। সকাল বিকাল যখন ফোন আসে সে হয়ত খাটে শুয়ে ইভস, ম্যাগাজিনের চটকদার রঙীন ছবিগুলো ওলোট পালোট করে দেখবে কিংবা দুপুর বেলা এলোচুলে ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দেখে আক্ষেপ করে বলবে, &amp;ldquo;ইস্ এ রকম একটা পাঁচশ টাকার হেয়ার ড্রায়ার না থাকায় ভিজে চুলে কি ঝামেলাই না পোহাতে হচ্ছে।” অন্যদিকে ফোনটা বাজতেই থাকবে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>আমি, মুনীণ গগৈ ও রমিজ শেখ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/ami-munin-gogoi-o-ramiz-sheikh/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/ami-munin-gogoi-o-ramiz-sheikh/</guid>
      <description>&lt;p&gt;-আপনি একা একা যেতে পারবেন? -হ্যাঁ নিশ্চয়ই যেতে পারব।
মুনীণ গগৈ তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে কিছুদূর অবধি আমার সাথে এল। তারপর আমাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলল, – এই যে দেখছেন এলাকাটা, এটার নামই রূপাহি গ্রাম। বড় রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে দক্ষিণ পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। তারপর কতগুলো বড় অর্জুন গাছ দেখতে পাবেন এবং সেগুলোর সামান্য আগে বা দিক দিয়ে একটা খাল বয়ে চলেছে। খালের উপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটা পার হয়েই চারদিকে বাঁশঝাড় দিয়ে ঘেরা একটা শণের ছাউনির বাড়ি দেখবেন। সে বাড়িটাই রমিজ শেখের বাড়ি।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>কমলেশের পনেরোই আগষ্ট</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/kamalesher-poneroi-august/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/kamalesher-poneroi-august/</guid>
      <description>&lt;p&gt;সকালবেলা ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পরই কমলেশের মনে পড়ল আজ পনেরোই আগষ্ট। ভেন্টিলেটারের ফাঁক দিয়ে ভোরের সূর্য ওর বিছানায় এসে পড়েছে। হঠাৎ বেশী আলোর ঝাপটা, চোখে সহ্য হয় না। এই আলোর ঝাপটাতেই সকাল বেলার আরামের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। মাথায় একরাশ বিরক্তি নিয়ে পাশ ফিরল। টুটুন এখনো শুয়ে আছে। ওর গায়ে রোদ পড়েনি। ছুই ছুই করছে। জয়া অনেক আগেই বিছানা ছেড়ে চায়ের সরঞ্জাম নিয়ে লেগে পড়েছে। কাপ প্লেটের টুং টাং আওয়াজ ভেসে আসছে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>গুলিয়া</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/guliya/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/guliya/</guid>
      <description>&lt;p&gt;এইরে! কামজারীর সাইরেণটা বেজে গেল।
ভুইঞাভাঙার ঘিঞ্জি বস্তীট। ক্ষণিকের মধ্যে চঞ্চল হয়ে উঠল। শান্ত পরিবেশটা নিমেষের মধ্যে চাঙ্গা হয়ে উঠল। ঝগডু, মংলা, সুমিতা প্রভৃতিরা সবাই এক এক করে দল বেঁধে &amp;lsquo;লম্বরে&amp;rsquo; যেতে লাগল। সিত্যি নিত্যিই এরকমটা হয়ে থাকে। এ সবগুলোই যেন একরকম তালে তালে চলে। সুষমাও তালে তাল মিলিয়ে নিত্যি নিত্যি কামজারীর সাইরেণ শুনে ঝুড়ি নিয়ে ঝগডু মংলাদের সাথে &amp;lsquo;লম্বরে&amp;rsquo; চলে যেত। কিন্তু তালে তালে চলতে চলতে হঠাৎ তার বেলায় বেতাল হয়ে গেল। কোম্পানির নতুন কানুনে সুষমা ছাটাই হয়ে গেল। অবশ্যি এ বেতাল ভাবটা ওর কাছে সামান্য ক&amp;rsquo;দিনই ছিল। তারপর আবার ও নিজের মধ্যে একটা তাল এনেছে। এখন সাইরেণে কামজারীর নির্দেশ পেয়ে ভুইঞাডাঙ্গার ঝগড়ু, মংলা বা সুমিতাদের মত লম্বরে যায় না। সাইরেণ বাজার অনেক আগেই তাল রেখে সুষমা শহরের দিকে রওয়ানা হয়। কিন্তু আজকে সুষমা তাল রেখে কামজারীর &amp;lsquo;সাইরেণ বাজার আগে রওয়ানা হতে পারেনি।
-চল চল, তাড়াতাড়ি চল। আজ জবর দেরী হয়ে গেল। সুষমা তাঁর আট বছরের মেয়ে গুলিয়াকে হাত ধরে প্রায় টানতে টানতেই ভূইঞাডাঙ্গার ঘিঞ্জি বস্তী থেকে বের হয়ে বাগানের বড় রাস্তা ধরে চলল। গুলিয়া ওর কোমর থেকে খসে পড়ে যাওয়া ছেড়া পেন্টটা এক হাতে উপরে টানতে টানতে এবং অন্য হাতে মায়ের হাত ধরে এগিয়ে চলল। কিছুদূর যেতেই সে দেখল নাচঘরের পাশে বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে বসে বিলটু ঘুটুয়ারা প্রায় নাঙ্গা হয়ে বসে পাথরকুচি নিয়ে খেলছে। ওরা খুসী মনে খেলছে দেখে গুলিয়ার মনটা কেমন হয়ে গেল। সে মনে মনে ভাবল দূর ছাই, মা রোজ রোজ কেবল শহরে যায়। বিলটু ঘুটুয়াদের মায়েরা কামজারীতে যায় আর ওরা কি সুন্দর বসে বসে কেবল খেলা করে। মা শহরে না গেলে আমিও ওদের মত খেলতে পারতাম। এসব ভাবতে ভাবতে সে হঠাৎ তার মাকে বলল, হে মা, বিলটু ঘুটুয়াদের মায়ের মত তুই কামজারীতে কাহে নাই যাস? কেবল রোজ রোজ শহরলে যাছিস্।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>জামতলীতে শ্বেত বিপ্লব</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/jamtoli-te-shwet-biplob/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/jamtoli-te-shwet-biplob/</guid>
      <description>&lt;p&gt;অতুল তার কালি গাইটাকে মাঠে চরতে দিয়ে সাধুটিলার প্রকাণ্ড তেতুলগাছটার নীচে ডাংগুটি খেলছে। এক দুই তিন করে ঠুকে ঠুকে জোরে ডাং দিয়ে গুটিটাকে অনেক দূর পাঠিয়ে দিচ্ছে। ওর মারের বাহনা দেখে রামের তাক লেগে যায়। রাম গুটিতে জোরে মারতে গিয়ে কেবল হাওয়ায় ডাংটা ঘুরায়। সে অতুলের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে ঝগড়া বাঁধাবার ফিকির করছে। অতুল গুটিটাকে আরেকবার ডাং দিয়ে মেরে অনেকদূর পাঠিয়ে দিল। সে মাথা নিচু করে মাটিতে ডাং ঘুরিয়ে এক্কা দুক্কা গুনে গুনে আসছে। রাম এটা কিছুতেই সইতে পারছে না। সে দূর থেকেই দাঁড়িয়ে চীৎকার করে বলল - আমি তোর সাথে নাই খেলব। তুই গিন্তিতে কান্টুসবাজি করছিস।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>ডাঃ মতি বৈদ্যর বারান্দা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/dr-moti-baidyar-baranda/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/dr-moti-baidyar-baranda/</guid>
      <description>&lt;p&gt;দরজার কড়ানাড়া শুনে ধড়মড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়লাম। দরজাটা তাড়াতাড়ি খুলব বলে এগিয়ে যেতে ঘরের আবছা অন্ধকারে চৌকির পায়া উচু করে রাখার জন্য ইটের কোথায় একটা হোচট খেলাম। মনটা সাথে সাথেই একদম বিগড়ে গেল। কিছুটা সামলে নিয়ে দরজা খুলে দেখি উঠমুখো লাম্বস সনাতনদা দাঁড়িয়ে আছে। ও আমাকে দেখেই চীংকার দিয়ে বলতে লাগল,- তোরা আর কোনদিন মানুষ হবি? সকাল আটটা সাড়ে আটটা বেজে গেলো অথচ ঘুম থেকে উঠার কোন পাত্তা নেই। আমার গলা ফাটানি চেচামেচিতে পাড়ার লোক উকিঝুকি মারছে কিন্তু তোমার আর ঘুম ভাঙছে না।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>দহন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/dahan/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/dahan/</guid>
      <description>&lt;p&gt;Yes, I hate Shamik, Bilash and their associates হ্যা আমি শমীক, বিলাস এবং তাদের ঘৃণা করি। I hate myself. আমি নিজেকে ঘৃণা করি। অবশ্য কোন কোন সময়ে আমি শমীকদের প্রতি অনুকম্পা প্রকাশ করি। Sometimes I feel pity for them, sometimes I feel pity for myself. আমি আমার জন্য ও অনুকম্পা বোধ করি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এ বলেই অনিকেত মদের গেলাসে চুমুক দিয়ে মুখ বিকৃত করে কিছুটা গলাধকরণ করল। তারপর সে মাথাটা ঝাকুনি দিয়ে চেয়ার ছেড়ে টেবিলে ভর দিয়ে একটু কাত হয়ে দাঁড়াল। মুখে জড়তা নিয়ে টেনে টেনে বলল, – No, I have made a mistake. আমি ভুল বলেছি। হ্যা ভুল। শমীক বিলাসকে আমি ঘৃণা করি না। I do not hate them. They are right. তারা যা করছে তা ঠিক করছে। আমি ঘৃণা করি প্রিন্সিপাল সামন্তকে। I hate Principal Samanta. I hate Principal Samanta not because of his sincerity, but because of his কি বলব? ধ্যাত শালা ইংরেজীতে কি বলব খুঁজে পাচ্ছি না। যাহোক, আমি প্রিন্সিপাল সামন্তকে তার সততার জন্য ঘৃণা করি না। ঘৃণা করি অজ্ঞতার জন্য। হ্যা অজ্ঞতা। অধ্যক্ষ সামন্তই শমীক বিলাস এবং আমরা সবাইকে বলেছিল যে আমরাই আগামী দিনের আলোক বতিকা। He told that we will be the torch bearer of the impending days. We, the Engineers will have vital role to make our Country prosperous. তিনি বলেছিলেন, আমাদের দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তুলতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। So we should study sincerely and try to be successful engineers. &amp;lsquo;তোমরা সত্যিকারের ইঞ্জিনীয়ার হতে ভালভাবে পড়াশুনা করো”।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>বিপন্ন সময়</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/bipanna-samay/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/bipanna-samay/</guid>
      <description>&lt;p&gt;এন্টারিকটিকা কিংবা ট্রপিক অফ কেনসারের পার্শ্ববর্তী যে কোন অঞ্চলের অধিবাসীই হোক না কেন সে মৃত্যুর মুখোমুখি হলে মরীয়া হয়ে বাঁচার চেষ্টা করবেই করবে। সেটা প্রতিরোধ করেই হোক কিংবা পালিয়েই হোক। তীক্ষ্ণ বল্লম কিংবা চকচকে ধারালো তলোয়ার নিয়ে যদি একটি লোক পাশবিক উন্মত্ততায় আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে ঠিক সেই মূহুর্তে আমি নিশ্চয়ই পৃথিবী অন্যকোন জায়গায় নির্মমভাবে নিহতদের জন্যে দুঃখ প্রকাশে উদ্বেল হয়ে পড়ব না। এমতাবস্থায় বোধ হয় কেউই শোকে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ন্যুব্জ হয় না। অবশ্যি যারা নিরাপদ দূরত্বে অক্ষত থাকে, আঘাত হুমড়ি খেয়ে যাদের ঝাপটে ধরেনি তারাই ভাববার অবকাশ পায়। শোক দুঃখ সারা বুক জুড়ে আসন পেতে বসে। নির্মম হত্যাকাণ্ডে যারা ধরাধাম থেকে চলে যায় তাদের জন্যে মর্মবেদনায় হৃদপিণ্ড চেপে ধরে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>বিলাসপুর স্বর্ণপ্রভা কলেজ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/bilaspur-swarnaprabha-college/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/bilaspur-swarnaprabha-college/</guid>
      <description>&lt;pre&gt;&lt;code&gt;“কন্যা কেশবতী। সুশ্রী। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা। বি, এ পাঠরতা। বয়স ২০ বৎসর। পূর্ব্ববঙ্গীয় ভরদ্বাজ পাত্র চাই। পোঃ বঃ  ৭০১।”

“সুন্দরী, তন্বী। দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট। গৃহকর্মে সুনিপুণা। আই, এ প্লাকন্ড পাত্রীর জন্য যোগ্য শাণ্ডিল্য পাত্র চাই। উপযুক্ত যৌতুক দেওয়া হবে। পোঃ বঃ ২৭৩০১”

– “&#39;আরে বাবাঃ যৌতুক দেওয়া হবে! ডাওরী অ্যাক্টকে অমান্য করে! আইনকে সব দিক দিয়েই ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে তা এদিক দিয়ে হলে ক্ষতি কি? এই দুদিনে দু একটা বছরত দাম্পত্য জীবন মধুরেণ সমাপয়েত হবে। অবশ্য আমাদের ভাগ্যে এসব কুলোবে না। এ লাইনে আমাদের সাড়ি অনেক পিছনে! ফাষ্ট প্রিফারেন্স টুদা ইঞ্জিনীয়ারস। তারপর ডাক্তার, চাটার্ড একাউন্টেন্ট, মিলিটারী অফিসারস আরও কত কি। এসব ভাবতেও যেন কেমন লাগে।”

রবিবারের পত্রিকা পড়াটা সুকান্তের একটা বিশেষ নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বামপন্থী ও দক্ষিণ পন্থী কোন্দলের খবর ওর কাছে সেকেণ্ডারী! প্রাইমারী হচ্ছে কৰ্ম্ম খালির বিজ্ঞাপন। তাই সুকান্তের নিয়মের শুরু হয় কৰ্ম্মখালির বিজ্ঞাপন দেখে। সব কিছু দেখে শেষ পর্যন্ত যখন আর বিশেষ কিছুই থাকে না তখন অজান্তেই সুকান্তের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় ভরদ্বাজ, শাণ্ডিল্য আর সদগোপ পাত্র পাত্রীর বাজারে। পাত্র পাত্রীর চাহিদা ও গুণাগুণের বাহার দেখে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সুকান্ত খাপছাড়া নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করে পত্রিকা পড়ার সমাপ্তি ঘোষণা করে। বলে “আরে বাবাঃ যৌতুক দেওয়া হবে....। এসব ব্যাপারে ফাষ্ট প্রিফারেন্স টুদা ইঞ্জিনীয়ারস ইত্যাদি ইত্যাদি।&amp;quot; 

মাঝে মাঝে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে। কিন্তু নিগূঢ় ভাবে ভাবলে বলতে হবে সেটাও একটা নিয়ম। যাহোক অবশেষে একদিন সুকান্তর নিয়মেও ব্যতিক্রম ঘটল। রবিবারের পত্রিকা পড়াটা অসমাপ্ত রয়ে গেল। তবে এতদিন মনের আবেগে যা চেয়েছিল তা পেয়েছে। বিলাসপুর স্বর্ণপ্রভা কলেজের পরিচালক সমিতি একজন ইকনমিকসে এম, এ চাইছে। সুকান্ত ভাবল আবেদন করলে নিশ্চয়ই চাকরীটা পেয়ে যাবে। তারপর আরও চিন্তা করল- “জায়গাটা কি রকম? পরিবেশ? যদি একেবারে হয় যদি নিজেকে খাপ খাইয়ে না নিতে পারি? – তা যত গেয়েই হোক বা জঙ্গল হোক আমি যাবই আমাকে একটা কিছু করতে হবে।” 

আমি যাবই। সুকান্তর শেষ সিদ্ধান্তই ঠিক রইল। কার্যক্ষেত্রে হলও তাই। স্বর্ণপ্রভ। কলেজের পরিচালক সমিতি তার আবেদন পত্র মঞ্জুর করে সাথে নিয়োগ পত্র পাঠিয়ে দিয়েছে। সুকান্ত চলছে। নূতন আশা এবং উৎসাহ নিয়ে। মধ্যে মধ্যে ভয়ও হচ্ছে কি করে প্রথম সামলিয়ে নিবে। সুকান্ত ভাবছে-“আজ কালকার ছেলেগুলি কি আগের চেয়ে বেয়াড়া? আমাদের সময়ও ত ছাত্ররা দুষ্টুমি করত। কিন্তু এখনকার ছাত্ররা যেন দুনিয়ার সাথে তাল রেখে বেয়াড়াপনায় কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। না না-এসব আমার ভুল ধারণা, নিতান্তই স্বার্থপরতার পরিচয়। আমাদের যা ছিল সবই ভাল, এ ধারণা ঠিক নয়।” টেনে বসে বসে কেবল এসবই ভাবছে। সম্বিৎ ফিরে পেল যখন গাড়ীখানা হুইসেল দিতে দিতে বিলাসপুর ষ্টেশনে প্ল্যাটফর্মে ঢুকে গেল।

ট্রেন থেকে নেমে একখানা রিক্সায় চড়ে স্বর্ণপ্রভা কলেজের উদ্দেশে ছুটল যেতে যেতে সুকান্ত তার দৃষ্টি দুদিকে তটুকু যায় নিক্ষিপ্ত করতে লাগল। জায়গাটা মন্দ নয়। প্রগতির হাওয়া যেন জোর বইছে। হোটেল, রেস্তরা, দোকানপাট সব কিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়াচ আছে। সুকান্ত কলেজ প্রান্তে পৌঁছে রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া ঢুকিয়ে দিয়ে কলেজের দিকে পা বাড়াল। নানা রকমের ছেলেমেয়ে সুকান্তর পাশ দিয়ে যাওয়া আসা করছে। নানা জনের নানা রকম কথাবার্তার ঢেউ তার কানে বাজতে লাগল।
– &amp;quot;নারে আজ আর ১-৪৫ মিঃ ক্লাস করছি না।” 
– “বুঝেছি &#39;দিল হিতু হ্যায়’ তে যাচ্ছিস&#39;। তা রেড লাইটকে সাথী করে নিয়ে যাস।”
– “হোয়াট রেড লাইট? রেড লাইট কি?” সুকান্ত। মনে মনে বুঝবার চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুই বুঝল না। আজকাল টেকনীসীয়ানদের যুগ। কথাবার্তা ও টেকনিক্যাল হচ্ছে। এসব ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চলল। কলেজে প্রফেসরস কমনরুমে প্রবেশ করে নিয়োগ পত্র ও পরিচয় পত্র দেখিয়ে সবাইর নিকট পরিচিত হল।

বিলাসপুর স্বর্ণপ্রভ। কলেজের কোন হোষ্টেল ছিল না। না ছাত্রদের না প্রফেসরদের। বাইর থেকে যে সব প্রফেসাররা আসে ওরা আলাদা মেস করে থাকে। তাই সুকা তকেও অন্যান্য প্রফেসরদের সাথে মেসে থাকতে হচ্ছে। কলেজ ছুটির পর সুকান্ত অন্যান্য প্রফেসর সমভিব্যাহারে মেসে যেতে লাগল কলেজ থেকে বেরিয়ে সোজা রাস্তা ধরে কিছুদূর এগোল। তারপর বাঁ দিকের গলিটা দিয়ে যাচ্ছে। এগোতে এগোতে সুকান্ত দেখতে পেল একটা দোতালা ঘরে বারিন্দার সামনে সাইন বোর্ড এটে দেওয়া আছে। লিখা &amp;quot;প্রমীলা, বজ্জিত নিবাস”। সুকান্তর কৌতুহল হল! কিন্তু মনে মনে হাসল। প্রমীলা বজ্জিত নিবাসটা ছাড়িয়েই ওদের মেসে উঠল। নির্দ্ধারিত রুমে প্রবেশ করে সুকান্ত বিশ্রামের জন্য সেবারকার মত সবাইকে ইতি জানাল। সেদিনই রাত্রে নৈশভোজনের পর সুকান্তর সমবয়সী এক সহকর্মী এসে সুকান্তর সাথে বেশ আলাপ জমিয়ে দিল। সমবয়সী হলে কি হবে দেখলে কিন্তু মনে হয় বেচারা অকালেই বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুরুতেই বেচারা সুকান্তকে বলছে- &amp;quot;আমার পিতৃপ্রদত্ত নাম হচ্ছে প্রদ্যুত চ্যাটার্জী আর ছাত্রদের কাছে পিসেমশাই বলে পরিচিত”

– “পিসেমশাই? কেন?” সুকান্ত প্রশ্ন করে।
– “তা ওরাই জানে। আমার সাথে ত আলোচনা করে ওরা নাম দেয়নি। অবশ্য সরাসরি কোনদিন পিসেমশাই বলে সম্বোধন করেনি। তবে অগোচরে ছাত্রমহলে বললেও আমাদের কাছে অর্থাৎ প্রফেসরমহলে সেটা ওপেন সিক্রেট।” 

সুকান্ত এক টু ভ্যাবচ্যাকা হয়ে গেল। মনে মনে কিছু ভাবতে চেষ্টা করল। কিন্তু ভাবার পথে ছেদ দিয়ে প্রদ্যুত আবার বলতে আরম্ভ করল– &amp;quot;আমি পিসেমশাই। এক নম্বর রুমের কালো বৃদ্ধ ভদ্রলোক অর্থাৎ শিবেন্দ্র লাল চক্রবর্তী বাংলার অধ্যাপক হচ্ছেন শিয়াল পণ্ডিত। পাঁচ নম্বর রুমের বিশ্বনাথ বটব্যাল দর্শনের অধ্যাপক তিনি হচ্ছেন ব্রোকেন হার্টেড অর্থাৎ ভগ্ন হৃদয়বান! আর আমাদের শান্তশিষ্ট নিৰ্ম্মল গুহ, মিসেস গুহ বলেই ছাত্রমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাদের প্রদত্ত নামগুলির ব্যাকগ্রাউন্ডে কি আছে তা ঠিক করে বুঝতে পারিনি। বিশ্লেষণ করলে হয়তো বা কিছুটা আঁচ করা যেতে পারে। আচ্ছা বলুন দিখিনি মশাই কাহাতক ছাদের এই পরোক্ষ টিটকারি সহ্য করা যায়?”

সুকান্ত, তন্ময় হয়ে সব শুনছিল। এখন কি উত্তর দিবে ভেবে পায় না, পুরাপুরি বোকার মত প্রদ্যুতের মুখপানে তাকিয়ে রইল।

কোন উত্তর না পেয়ে প্রদ্যুত আবার বলে যেতে আরম্ভ করল,... &amp;quot;আপনি ত এসেছেন মশাই কয়েক দিন পরখ করে দেখুন। আরে মশাই রাস্তা দিয়ে আপনি মাথা উচু করে হাটতে পারবেন না। রাস্তা দিয়ে যখন চলছেন তখন দেখবেন আপনার বিপরীত দিক থেকে ছাত্র কয়টা সিগারেট ফুকতে ফুকতে প্রায় আপনার সামনে এসে গেছে। তখন আপনার মনে ইলেকটিক শকের মত বাজবে সখি আপন মান আপনি রাখ। মান রক্ষার্থে বাধ্য হয়ে তখন ডান বায়ে না চেয়ে অধোবদন করে ফরওয়ার্ড মার্চ করবেন।” প্রত্যুত বলতে বলতে এক রকম পরিশ্রান্ত হয়ে গেছে। একদিনে নূতন সহকর্মীকে আর কত বলা যায়। তাই প্রসঙ্গ শেষ করার নিমিত্তে বলল-“কিছুদিন পরে আপনি নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। আপনার সাথে অনেকক্ষণ আজে বাজে বকে গেলাম । আচ্ছা যাই।”

সুকান্তর তখন ছেড়ে দেমা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। তাই কিছু না বলে নিদ্রাদেবীর আরাধনায় মন নিবিষ্ট করল। আজ সুকান্তকে ক্লাস নিতে হচ্ছে। সকাল থেকেই ভাবছে কি করে নেবে! কেমন করে ক্লাসে যাবে। কি করে ক্লাস কনটোল করবে। কারেন্ট টপিকস নিয়ে আলোচনা করবে না ইকনমিক্স এর প্রাথমিক সম্বন্ধে কিছু বলবে। কিছুই চট করে ভেবে ফেলতে পারল না। অবশেষে ঠিক করল কারেন্ট টপিকস নিয়েই আলোচনা করবে। প্রথমে ১০-৪৫ মিঃ ফাষ্ট ইয়ারের ক্লাস আরম্ভ তারপর ২-২৫ মিঃ থার্ড ইয়ার। ক্লাস আরম্ভ হওয়ার সঙ্কেত পরার সাথে সাথেই সুকান্ত রেজিষ্টারীখানা নিয়ে ফার্স্ট ইয়ার ক্লাসে প্রবেশ করল। আস্তে আস্তে রোল কল করতে লাগল। ছেলেদের উপস্থিতি চিহ্নিত করার ফাঁকে ফাঁকে সুকান্ত ক্লাসটাকে লক্ষ্য করল। পিছনের সারির ছাত্রছাত্রীদের মৃদু গুঞ্জন আর ফিস ফিসানি শুনতে পেল। রোল কল শেষ করার পর সুকান্ত নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় দিল। কোন্ ইয়ারে কোন ইউনিভাসি টি থেকে পাশ করেছে। তারপর বর্তমানে সিংহল, জাঞ্জিবার, ব্রহ্মদেশ ও পাকিস্থান থেকে বিপুলভাবে উদ্বাস্তু আগমনের ফলে ভারতে অর্থনৈতিক অবস্থার উপর কিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে সে সম্বন্ধে কিছু বলল। পিরীয়ড শেষের সঙ্কেত পেয়ে আলোচনা অসমাপ্ত রেখেই বেরিয়ে আসল। বেরিয়ে কোলাহলের মধ্যে -সুকান্ত ভাবতে লাগল যে, সে যা বলতে চেয়েছিল তা সব বলা হয়েছে কিনা। সে মনে মনে ভাবল যে. এভাবে না বলে ওভাবে যদি বলত তাহলে বোধ হয় আরও ভাল হত। .. এরকম ভাবতে ভাবতে সুকান্ত প্রফেসারস কমনরুমে এসে একটা চেয়ার দখল করল। চেয়ারে বসেও সুকান্ত ভাবছে। তখন আর একটা নির্দিষ্ট ভাবনা নয়। একটা জিনিষ নিয়ে ভাবনা শুরু হয়। এই ভাবনাটাই শাখা প্রশাখায় বিজ্ঞ হয়ে যায়। অবশেষে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যে, সুকান্ত নিজেই বুঝতে পারে না সে কি নিয়ে ভাবছে। ভাবনার উৎসটা কোথায়। এরকম চিন্তার জাল বুনার ফাঁক দিয়ে সময়টা যেন বড় তাড়াতাড়ি চলে গেল। সুকান্ত ২-১৫ মিঃ থার্ড ইয়ারের রাস নিতে ছুটল। এখন আগের চেয়ে মনের জোর বেশি। ক্লাসটা সুকান্তর কাছে ভাল মনে হল। ছারাই সুকান্তকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্নকরল। সুকান্ত উত্তর দিল। পিরীয়র্ড শেষে সুকান্ত ক্লাস থেকে বেরিয়ে এল। পাশের রুমে থেকে ছাত্রদের &#39; ডেস্ক চাপরানি আর হৈ হল্লার আওয়াজ ভেসে আসল। ডেস্ক .. এবং টেবিল চাপরানির আওয়াজের মধ্যে সুকান্ত একটা অদ্ভুত প্রাণীর চীৎকার শুনল। &amp;quot;হুক্কা হুয়া হুয়া !&amp;quot; সুকা&#39;ত ঠিক বুঝল না ছাত্ররা কেন এই বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করার চেষ্টা করছে। সুকা&#39;ত আরও এগিয়ে গেল। দেখল এক নম্বর রুমের কালো বৃদ্ধ ভদ্রলোক অর্থাৎ শিবেন্দ্র লাল চক্রবর্তী নাকের ডগায় চশমা লাগিয়ে হন হন করে কমনরুমের দিকে চলে যাচ্ছেন। সুকান্ত প্রদ্যুতকে মনে করল। সুকান্ত মনে মনে হাসল। কিন্তু বুঝতে পারল না ছাত্ররা হুক্কা হুয়া করে পণ্ডিত মশাইয়ের যোগ্য শিষ্য হবার চেষ্টা করছে না পণ্ডিত, মশাইকে তাদের উপযুক্ত শিক্ষক হবার জন্য আহ্বান করছে।

কলেজ শেষে মেসে ফেরার পথে কলেজের নূতন লব্ধ অভিজ্ঞতা সুকাতর মনে তোলপাড় করল। কখন যে সোজা বড় রাস্তাটি পেরিয়ে এল টেরই পেল না। গলির ভেতর ঢুকে একটু তাড়াতাড়ি হাটতে লাগল। প্রমীলা বজ্জিত নিবাসের বারান্দায় কয়েকটা ছেলে ছোকরা দাঁড়িয়ে আছে। সুকাতকে লক্ষ্য করে নিজেদের মধ্যে যেন কি বলাবলি করল। সুকান্ত তাদের হাবভাব দেখে কিছুটা বুঝতে পারল নিবাসটা ছাড়িয়েই সুকান্ত তার মেসে নিদ্দিষ্ট রুমে প্রবেশ করল।

আজ একটু তাড়াতাড়ি প্রদ্যুত এসে গেল। তারপর দুজনে আলাপ আলোচনা আরম্ভ করল। সুকান্ত আজ আর কেবলমাত্র নির্বাক শ্রোতা নহে। মধ্যে মধ্যে সেও বলছে। দুজনের আলাপ যখন বেশ জমে উঠেছে তখন রসভঙ্গ করে একটা মঝাবয়েসী ছোকরা প্রবেশ করল। সুকান্ত জানল ছেলেটা প্রমীলা বজ্জিত নিবাসের একজন। প্রমীলা বজ্জিত নিবাসে যারা বাস করে তারা সবাই চাকুরী করে। বেশীর ভাগই টাইপিষ্ট ও কেরাণী। ছেলেটা প্রাইভেট কোম্পানীর কেরাণী। সুকান্ত বুঝল ছেলেটার সাথে প্রদ্যুতের হৃদ্যতা আছে। হাসির খোরাক পেলেই ছেলেটি একেবারে প্রাণখোলা হাসি হাসে! ছেলেটি প্রথমে মরসুমের ক্রী-াজগত সম্বন্ধে কিছু আলোকপাত করল। এই সূত্র থেকেই আলাপ চলতে চলতে দেশীয় রাজনীতি তথা বিশ্বরাজনীতি ছেড়ে শেষ পর্য&#39;ত প্রত্যুত নিজের প্রফেসর জীবনে লব্ধ অভিজ্ঞ ভার উপর আস্থা করে বর্তমানে তার মত প্রফেসরদের আশা আকাঙ্খা ও ভবিষ্যতের উপর আলোচনার মোড় ঘোরায়। নিজেই বলতে থাকে মান, ইজ্জত, সমাজে প্রতিষ্ঠা কিছুই তাদের নেই। প্রত্যুত বলতে বলতে উত্তেজিত হয়ে যায়। সুকান্ত দেখল ছেলেটি প্রদুতের বাক ভঙ্গিমা দেখে ও কথা শুনে হো হো করে হাসছে। প্রদ্যুত একটু বিকৃত মুখে ছেলেটার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। ছেলেটি হাসি থামিয়ে বলতে আরম্ভ করল- &amp;quot;দেখুন প্রদ্যুতদা যুগটা গণতন্ত্রের। তা আপনারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজের সম্মান রক্ষার্থে আন্দোলন শুরু করুন। বেতন বাড়ানোর জন্য মিছিল করতে পারেন আর সম্মান রক্ষার্থে আন্দোলন করতে পারবেন না? আপনারা সমিতি করুন। &amp;quot;সেইভ প্রফেসরস প্রেষ্টিজ কমিটি।” অর্থাৎ অধ্যাপক সম্মান রক্ষা সমিতি। ব্যাপক- ভাবে সমস্ত দেশে এই আন্দোলন মড়কের মত ছড়িয়ে দিন। দেখবেন কিস্তি মাত হয়ে যাবে। তখন ছেলেরা আর পরোক্ষ ব্যর্থ প্রেমিক অধ্যাপককে ব্রোকেন হার্টেড বলতে পারবে না। আপনাদের রাস্তায় বেরোবার সময় আপনা মান আপনি রাখ ভেবে আর তধোবদন করে কুইক মার্চ করতে হবে না।”

এতটুকু বলেই ছেলেটি আবার প্রাণখোলা হাসি হাসতে লাগল সুকান্ত ছেলেটির কথা মন দিয়ে শুনল। &#39;কিন্তু প্রাণখোলা হাসি হাসেনি। ভাবল ছেলেটি সত্যিই রসিক। মনে মনে ছেলেটিকে তার যুক্তির জন্য তারিফও করল। ছেলেটি ততক্ষণে হাসি থামিয়ে সুকান্তকে নমস্কার করে বলল-&amp;quot;দাদা এ&#39; বাচালকে মাপ করবেন। আমি নিতান্তই বড় বেশি কথা বলি।” এই বলেই ছেলেটি চলে গেল। সুকান্ত এবং প্রত্যুত ও নৈশভোজের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল।

সুকান্ত কলেজে যায় আসে। বেশির ভাগ অবসর সময়ই সুকান্ত প্রহাতের কথা নিয়ে মনে মনে ভাবে। অবশ্য ছেলেটার কথাও মনে পরে ছেলেটার কথা মনে পরলেই সুকাতর মনে খানিক হাসির ঝিলিক ঝরে। আবার ভাবে তার নাম জানি ছাত্ররা কি রেখেছে। তা দিক না বাবা যত খুশী। কৃষ্ণেরত অষ্টোত্তর শত নাম। ছাত্রদের দৌলতে তাদের না হয় দু চারটে নাম হল। এমন সব ভেবে ভেবেই সুকান্তর দিন যায়।

অবশেষে কলেজে গ্রীষ্মের বন্ধ এসে গেল। কলেজ বন্ধ ও হলো। সুকান্ত তৈরী হয়েছে বাড়ী ফিরবার জন্য। দিন ঠিক করে বেরিয়ে গেল। প্রমীলা বজ্জিত নিবাসটা ছাড়িয়ে গেল। পিছে তাকিয়ে দোতালার বারান্দাটা দেখল । না,- সুকান্ত ছেলেটিকে দেখতে পেল না। সুকান্ত কয়েক মাস অধ্যাপনা করেও ঠিক করতে পারল না যে সে আবার এখানে আসবে কিনা। যাবার সময় সেই অদ্ভুত ছেলেটিকে দেখবার জন্য সুকান্তর মন ব্যাকুল হল। আবার পিছে তাকিয়ে বারান্দাটা দেখল। না, - ছেলেটি নেই। বোধ হয় কর্মক্ষেত্রে। সুকাত এগোচ্ছে। প্রহাতকে মনে করল। প্রদ্যুতকে ভাবতেই মনের মধ্যে যেন ঢেউ উঠল। ঢেউয়ে ঢেউয়ে আঘাত হচ্ছে। ব্রোকেন হার্টেড, শিয়াল পণ্ডিত সেইভ প্রফেসরস প্রেস্টিজ কমিটি সব কথাগুলি যেন ঢেউয়ে পরে ঘুরপাক খাচ্ছে। সুকাত এগিয়ে চলছে। ষ্টেশন থেকে গাড়ী ছাড়বার পূর্ব্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সুকান্ত ভাবছে, হয়ত বা বাড়ী গিয়ে তাকে আবার রোজ রবিবারের পত্রিকাতে কর্মখালির বিজ্ঞাপন দেখে যখন কিছুই পাবে না যেন অজান্তেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামবে- কন্যা কেশবতী...........।&amp;quot;

সচিত্র ভারত, ২৫ শে জুলাই ১৯৬৪ ইং
&lt;/code&gt;&lt;/pre&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>যো খায়া ওহী পস্তায়া</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/jo-khaya-wohi-pastaya/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/jo-khaya-wohi-pastaya/</guid>
      <description>&lt;p&gt;“দিল্লীকা লাড্ডু যো খায়া ওহী পস্তায়া, যো নেহী খায়া ওহভী পস্তায়া”। প্রায় চীৎকার দিয়ে বলতে বলতে আমাদের রুমে প্রবেশ করলেন ভেজুদা।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ক্রিষ্টিন কীলারের পায়ে ধরে আয়ুবের সাঁতার, মাও সে তুঙএর তৃতীয় বিয়ের পর বর্তমান চীনা চিত্র জগতের সেক্সী অভিনেত্রীর সহিত চতুর্থ বিয়ে এবং অধুনা বিধান সভায় মহিলা সদস্যার উপর ডিম্ব নিক্ষেপের কাহিনী – সব কিছুই ভেজুদা অবসর সময়ে রসিয়ে রসিয়ে আমাদেরে শুনাতেন । তাই সাথে সাথে বলি, কিন্তু আজকেরটির মত কোনদিন দেখিনি।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>রাজা এলেন রাজা গেলেন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/raja-elen-raja-gelen/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/raja-elen-raja-gelen/</guid>
      <description>&lt;p&gt;ইষ্টিশনের প্ল্যাটফর্মে ছমরু মিঞা ফুলের মালা নিয়ে পায়চারী করছে। একবার সে হাটতে হাটতে আর, এম এস, অফিসটার সামনে যাচ্ছে আবার মুখ ঘুরিয়ে পুবদিকে ফিরে আসছে।  দূর থেকে ওর হাতের ফুলের মালাটি খুবই উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। কিন্তু আসলে সেটা বাগান থেকে সংগৃহীত সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল- দিয়ে তৈরী নয়। মনোহারী দোকান থেকে বেশ মোটা টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে। একবার বা হাত এবং একবার ডান হাতে মালাটিকে দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে প্ল্যাটফর্মে হাটছে আর মাঝে মাঝে ওভার ব্রীজের ফাঁক দিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে। সে দেখছে হিল এক্সপ্রেস আসছে কিনা। কারণ, ওরা আজ রাজার বেশে আসছে। ওদেরকে ভালভাবে স্বাগত জানাতে হবে। গাড়ীর দেরী দেখে ছমরু মিঞার তর সইছে না। ভাগ্যিস, মালাখানা প্ল্যাষ্টিকের তৈরী নইলে এত সময়ে নেতিয়ে একাকার হয়ে যেত।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>সুন্দরা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/sundara/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/sundara/</guid>
      <description>&lt;p&gt;সুশীতল মজুর সর্দার বীরওয়াকে নিয়ে ওর এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাজ দেখছে। বীরওয়ার ওয়ার্ডে কেবল মেয়ে মজুর। সমান তালে দুটি পাতা ও একটি কুড়ি গাছ থেকে তুলে পিঠের ঝুড়িতে ফেলছে। চায়ের গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ ও ঝুড়িতে রাখা এই দুইয়ে একটা &amp;lsquo;ছন্দ আছে। সুশীতলের সহজ মন সায় দিচ্ছে না এই অদ্ভুত ছন্দের পতন ঘটাতে। কিন্তু বাহাদুরীর জন্য মধ্যে মধ্যে পতন ঘটাতে হয়। তদারকী না করলে আবার কিসের তদারক! বাবু যদি কেবলমাত্র চুপ করে দেখেই চলেন তাহলে কেমন হবে। বকা বকি করতে হয়, ধমক দিতে হয়। না হলে বাবুর বাবুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। মজুররা ভয়ে সন্ত্রস্থ থাকে না। তাই সুশীতল নিজেকে আচ্ছা বাবু বলে জাহির করতে একবার রূপমতিয়ার কাছে যায় আবার রুছলির কাছে আসছে। শুধু শুধুই কাজে খুঁত ধরবার চেষ্টা করে। কিন্তু পারছে না।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
  </channel>
</rss>
