<?xml version="1.0" encoding="utf-8" standalone="yes"?>
<rss version="2.0" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/">
  <channel>
    <title>বিদ্রোহী মিজো on অপরেশ ভৌমিকের সমগ্র রচনা</title>
    <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/</link>
    <description>Recent content in বিদ্রোহী মিজো on অপরেশ ভৌমিকের সমগ্র রচনা</description>
    <generator>Hugo -- 0.147.3</generator>
    <language>bn</language>
    <lastBuildDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</lastBuildDate>
    <atom:link href="https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/index.xml" rel="self" type="application/rss+xml" />
    <item>
      <title>অতর্কিত আক্রমণ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-1/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-1/</guid>
      <description>&lt;p&gt;গুডুম্, গুডুম্।&amp;hellip;&amp;hellip;.. গুডুম্, গুডুম্।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;আজকাল প্রায়ই পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেদ করে দূর থেকে দূরে গুলির আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হয়ে থাকে। মিজো ন্যাশন্যল ফ্রন্টের স্বঘোষিত স্বাধীন মিজোরামের সামরিক বিভাগের ভলান্টিয়ার্সরা রাইফেল ধরেছে। শত্রুকে নিশানা করে নাজেহাল করে। প্রত্যেকেরই মনোবল দৃঢ় এবং অটুট। &amp;lsquo;আমাদের স্বঘোষিত মিজোরামের স্বাধীনতা এবং অখণ্ডতা বজায় রাখতে দেহে শেষ রক্ত বিন্দু থাকা পর্যন্ত শত্রুর সাথে লড়াই চালিয়ে যাব। শত্রু বাহিনী যতই শক্তিশালী হোক না কেন। আমরা যখন আমাদের দেশকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছি তখন এই স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাবই&amp;rsquo;। প্রত্যেক বিদ্রোহী মিজোর একই মনোভাব। এ মনোভাব নিয়েই গুপ্ত বাহিনীর আগাম খবর পেয়ে থু-আয়া তাঁর সহ কর্মীদেরকে নিয়ে সদর রাস্তার পাশে জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ের ঝোপে এমবুশ করেছে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>প্রত্যাবর্তনের খবর</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-2/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-2/</guid>
      <description>&lt;p&gt;তখন রাত্রি প্রায় আটটা। শীতের রাত্রি। চারিদিক কুয়াশায় আচ্ছন্ন করে ফেলছে। ঘর থেকে বেরুলে কিছুই দেখা যায় না। সারা এলাকা জুড়ে একটা নিস্তব্ধতার ভাব। রেমা একবার ঘরের বাইরে গিয়ে শীতের ঝাপটা খেয়ে পুণরায় ভিতরে এসে চুল্লীর পাশে বসে রইল। রোসাঙ্গী ততক্ষণে রাত্রির আহারের জিনিসগুলো প্রায় তৈরী করে ফেলছিল। এমন সময় দরজা ঠেলে জিটিঙ্গা প্রবেশ করল। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে গিয়ে কেবলমাত্র মুখখানা ছাড়া শরীরটাকে যে ভাবে গরম কাপড়ে আচ্ছাদিত করেছে তাতে এক ঝলক দেখে অতি আপনজনও বুঝতে পারবে না যে সে আসলে জিটিঙ্গা। রেমা ও রোসাঙ্গী দুজনেই আগন্তুকের দিকে ভালভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>যুদ্ধ ও বন্দী</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-3/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-3/</guid>
      <description>&lt;p&gt;থিংডলের পাশে রাস্তা থেকে সামান্য দূরে দুর্গম জঙ্গলে ওৎপেতে রয়েছে রাংচোয়াঙ্গা তাঁর সহকর্মীদেরকে নিয়ে। মিলিটারী ভ্যাণ রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দেখেই রাংচোয়াঙ্গা নিজেকে সামলে রাখতে পারেনি। ভ্যানকে নিশানা করে ওর বন্দুক থেকে গুলি গুডুম্, গুডুম্ করে বেরিয়ে আসল। সাথে সাথে সহকর্মীরাও লক্ষ্য করে ছুড়ল। কয়েকটা গুলি ছুড়ার পর অপর পক্ষ থেকে সমানে ট্যাক ট্যাক করে গুলি ক্রমাগত বেরিয়ে আসতে লাগল।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— ওরে বাবা এযে দেখছি ভিমরুলের চাকে ঘা দিয়েছি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— হু, ওরাতো সস্তাগুলি পেয়েছে তাই না থেমে সমানে ঝাড়ছে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>গোপন বৈঠক</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-4/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-4/</guid>
      <description>&lt;p&gt;পশ্চিম দিগন্তে সূর্য ক্রমশঃ ঢলে পড়ছে। য়‍্যাঙ্গায়া, জিটিঙ্গা এবং আরেকজন সহকর্মী পাহাড়ের দুর্ভেদ্য জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে তৈরি আঁকা বাঁকা সর্পিল রাস্তা দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে। দূরে পাহাড়ের চুড়ায় সূর্যরশ্মি বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। মূহুর্তের মধ্যে সেগুলির রং পরিবর্তন করে ক্রমাগত ফিকে হয়ে আসছে। রাত্রির অন্ধকার গ্রাস করার আগেই তাঁদেরকে সাইলো পুঞ্জিতে গিয়ে পৌঁছতে হবে। জিটিঙ্গা প্রথমে ভেবেছিল দীর্ঘদিন বিদেশে বাস করার ফলে হয়তবা য়‍্যাঙ্গায়ার এই দুর্গম পথে চলতে অসুবিধা হবে। কিন্তু বস্তুতপক্ষে য়‍্যাঙ্গায়া ওদের সাথে ঠিক ভাবেই পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে। ওর চোখে মুখে বাড়তি কোন ক্লান্তিকর ছাপ ফুটে উঠেনি। তালে তালে পা ফেলে এগিয়ে চলছে সাইলো পুঞ্জির আস্তানায়।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>ফাঁদ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-5/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-5/</guid>
      <description>&lt;p&gt;চড়াই উৎড়াই ভেঙ্গে সরু পথ ধরে রোসাঙ্গী এবং লালচুঙ্গী জুমক্ষেত থেকে নিজেদের পুঞ্জীতে এগিয়ে চলছে। দু&amp;rsquo;জনই পাশাপাশি হাটছে। দুজনেরই পিঠে দুটো ঝুড়ি। ঝুড়িগুলো সমতল অঞ্চলে তৈরি ঝুড়ির মত নয়। দেখতে বেশ বড় আকারের এবং শক্ত ও মজবুত। উপরে বেত বা কাপড় দিয়ে বেল্ট লাগানো থাকে। পিঠের উপর সমস্ত ঝুড়িটা রেখে বেল্টা কপালে আটকে রাখা হয়। এধরণের ঝুড়ি গুলি নিয়ে চলা ফেরা করতে দুহাতের প্রয়োজন হয় না। আসামের পার্ব্বত্য অঞ্চলের প্রায় সব পাহাড়ীয়া অধিবাসীরা এ ধরণের ঝুড়ি ব্যবহার করে থাকে। দুহাত উন্মুক্ত রেখে ঝুড়ি গুলি বোঝাই করে সহজ ভাবেই চড়াই উৎড়াই পাড়ি দেওয়া যায়। রোসাঙ্গী এবং লালচুঙ্গী তাঁদের পিঠের উপর সমস্ত ঝুড়িটা রেখে বেল্টল্টা কপালে আটকে হাতগুলি উন্মুক্ত রেখেই এগিয়ে চলেছে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>কারাগারের জীবন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-6/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-6/</guid>
      <description>&lt;p&gt;আইজলের সামরিক সেনা নিবাসের একটি প্রহরারত সেলের মধ্যে রাংচোয়াঙ্গা এবং তার সহকর্মীদেরকে আবদ্ধ করে রাখা হয়। অন্যান্য যে সমস্তদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের চেয়ে রাংচোয়াঙ্গাদের গ্রেপ্তার অন্য ধরনের। খোদ Place of operation থেকে ঘেরাও দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা ওদেরকে পাকড়াও করে এনেছে। যুদ্ধরত অন্যান্য বিদ্রোহী মিজোদের সাথে ওদের যোগাযোগ বিদ্ধমান। কাজেই যেভাবে হোক ওদের নিকট থেকে তথ্য বের করে আনতে হবে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;রাংচোয়াঙ্গা এবং তাঁর সহকর্মীরা ধরা পড়ার পর বন্দী অবস্থায় যখন জওয়ানরা তাঁদেরকে নিয়ে চলে তখনই ভেবেছিল যে এই ধরা পড়ার ঘটনা ওদেরকে অনেকদূর নিয়ে যাবে। ধরা পড়ার আসল ধাক্কা সামনে অপেক্ষা করছে। নানান ভাবে কৌশল করে, ছলে বলে ওদের কাছ থেকে তথ্য বের করে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করবে। নানা রকম অত্যাচার করবে। সে অত্যাচার হবে বড় ভয়াবহ। মানসিক, শারীরিক দুভাবেই নির্যাতন চালিয়ে ওদেরকে বেসামাল করবে। অবশ্য যারা মৃত্যু মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছে তাঁদের আবার ভয় কিসের? মাভৈঃ মন্ত্রে এগিয়ে যেতে হবে। মাভৈঃ বলে সব পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>রাজনৈতিক পরিস্থিতি</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-7/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-7/</guid>
      <description>&lt;p&gt;জেনারেল থু-আয়া এবং য়‍্যাঙ্গায়া একটি গোপন আড্ডায় বসে আলাপ করছে। মিজো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকাতে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে সবগুলির খুটিনাটি খবর জিটিঙ্গাই পারে সবচেয়ে বেশী বলতে। য়‍্যাঙ্গায়া এবং থু-আয়া জিটিঙ্গার জন্যই অপেক্ষা করছে। বিগত দিনের ঘটনাগুলির একটা মোটামোটি চিত্র পাওয়ার আশায় য়‍্যাঙ্গায়া এবং থু-আয়ার আলাপ চলাকালীন অবস্থায় জিটিঙ্গা নিদ্ধারিত সময়ের সামান্য দেরীতে এসে হাজির হল। পৌঁছার সাথে সাথেই জিটিঙ্গাকে থু-আয়া বলল&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— কিহে তোমার যেন আজকে কিছু দেরী হয়ে গেল।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-8/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-8/</guid>
      <description>&lt;p&gt;আজকে আমরা আমাদেরকে যে মিজো বলছি সেটা হচ্ছে আমাদের নূতন নামাকরণ। আমাদের ভাষায় মিজো মানে হচ্ছে যারা উঁচুতে বাস করে অর্থাৎ those who live in the high land. আমরা লুসাই, কুকি, মহার, পাইতো, রিয়াং, পাওয়াই, চাকমা, লাখের প্রভৃতি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সম্মিলিত নাম দিয়েছি মিজো।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এখন পর্যন্ত এমন কোন তথ্য সমৃদ্ধ আমাদের কোন পুরাতন গ্রন্থ নেই যা থেকে আমরা আমাদের প্রাচীন ইতিহাস জানতে পারি। তবে বংশ পরম্পরাগত ভাবে মুখে মুখে যে কাহিনী চলে এসেছে তা থেকে আমরা জানতে পারি এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরানো বাসিন্দা ছিল লুসাই, চীন এবং কাচিন এই তিনটি গোষ্ঠী। তারা সম্ভবত সুদুর চীন সীমান্ত থেকে ক্রমে ক্রমে গভীর জঙ্গলের মধ্যপথ ধরে এগিয়ে বার্মা হয়ে এখানে এসে বসবাস করতে আরম্ভ করে। তাদের বংশধররাই ক্রমে ডাল পালা মেলে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে এ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেক গোষ্ঠীরই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই গোষ্ঠীকে পরিচালনা করতেন। তাকে বলা হত লাল।জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে যখন সমস্যা বাড়তে থাকে তখন লালরা তাদের নিকটবর্তী অঞ্চলের লালের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধে মেতে থাকত। তখন যুদ্ধটা হত লালদের দ্বৈতযুদ্ধ। দুই পুঞ্জীর সীমান্ত অঞ্চলে দাঁড়িয়ে দুই গোষ্ঠীর প্রধান দুই লাল সাধারণ ভাবে নিজেদের প্রচলিত অস্ত্রদ্বারা যুদ্ধ করত। সে যুদ্ধ চলতে থাকত যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন মারা যেত। তারপর বিজিত লালের অনুগামীরা বাধ্য হয়ে বিজয়ী লালের অনুগামী হত। বিজয়ী লাল বিজিত লালের মাথার খুলি নিয়ে নিজের গৌরব বৃদ্ধির জন্য বাড়িতে রেখে দিত। যে লাল যতবেশী খুলি নিয়ে রাখতে পারত সেই ছিল সে সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী। এমনিভাবে বিভিন্ন লালদের পরিচালনাধীন বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলির জীবনযাত্রায় কালের প্রবাহে বিবর্তন ঘটে এগিয়ে চলছিল। লালরা তাদের ক্রমে ক্রমে বর্দ্ধিত জনসংখ্যা নিয়ে কেবলমাত্র পাহাড়ের সীমাবদ্ধ গভীর অরণ্যে থাকতে পারেনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে ওরা বাধ্য হয়ে নিজেদের বসবাসের অঞ্চলের পরিধি বৃদ্ধি করছিল। অরণ্যের দুর্গম অঞ্চল থেকে ক্রমশঃ সমতলের নিকটবর্তী পাহাড়ী টিলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। মনিপুর, কাছাড় এবং ত্রিপুরা প্রভৃতি সীমান্ত অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ওদের পুঞ্জীর বিস্তৃতি লাভ করেছিল।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>পরিবর্তনের ছোঁয়া</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-9/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-9/</guid>
      <description>&lt;p&gt;দিন এগিয়ে চলছে। মিজো জেলার কলোডিন, সাইরেং প্রভৃতি নদী বয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। জলপ্রবাহ বন্ধ হয়নি। থু-আয়া জিটিঙ্গা য়‍্যাঙ্গায়া, রেমাও অন্যান্যদের সশস্ত্র অভিযান কলোডিন নদীর মতই বয়ে চলছে। কখনও বর্ষার খরস্রোতের মত। আবার শীতের চর পড়া নদীর ক্ষীণস্রোতের মত। দীর্ঘ চার বৎসরের মধ্যে বিদ্রোহী মিজোদের সশস্ত্র লড়াই চলাকালীন অবস্থায় রেমা কোনদিন সমতলে নেমে আসেনি। অনেকদিন পর রেমা তার দুজন সাথীর সঙ্গে শিলচর শহরে আসে। মিজোপাহাড়ে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হওয়ার প্রথম দিকে যে সমস্ত মিজোরা নেমে সমতলে আসত তারা স্বভাবতই ভয়ে ভয়ে চলাফেরা করত। তখন অনেক সময় শহরের সমতলবাসী কোন কোন শ্রেণীর লোকদের দ্বারা তারা প্রকাশ্য রাস্তাতেই নিগৃহীত হত। কিন্তু আজ আর তেমনটি নয়। রেমা সহরে ঢুকেই বড় রাস্তা ধরে শিলচর শহরের কেন্দ্রাভিমুখে এগিয়ে যেতে যেতে যা দেখল সেটা তার কাছে নূতন ঠেকল। জোরাম হোটেলের পাশ থেকে আরম্ভ করে বড় রাস্তার পাশে দেওয়ালে লাল কালির বড় বড় হরফে লিখা রয়েছে&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>জেলের জীবন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-10/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-10/</guid>
      <description>&lt;p&gt;রাংচোয়াঙ্গাদেরকে যখন শিলচর জেল থেকে বের করে নিয়ে রেলগাড়ীর সাহায্যে দূরপাল্লার পাড়ি দেয় তখন ওরা টের পায়নি যে ওদেরকে কোথায় এবং কি উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে। রাংচোয়াঙ্গা এবং অন্যান্যদের মন এক অজানা আশঙ্কায় ভারাক্রান্ত ছিল। কি হবে ভাবনাটাই সর্বক্ষণের জন্য ওদের মনে পীড়াপীড়ি করছিল। কর্তৃপক্ষ রাংচোয়াঙ্গাদের সাথে অন্যান্য বিদ্রোহী মিজোদেরকে আসামের বিভিন্ন জেলে ভাগ বাটোয়ারা করে পাঠিয়ে স্বতন্ত্র ভাবে রাখে। আসামের বিভিন্ন জেল ছাড়া অনেককে আসামের বাইরেও চালান দেয়। বিভিন্ন জেলে বিদ্রোহীদেরকে কালযাপনের অধিকাংশ সময়ই অজানা ভবিষ্যতের অমঙ্গল চিন্তায় কাটে। রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে অভিযুক্ত করে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২১ ধারা মতে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন চলে যাওয়ার পরও সত্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য মহামান্য আদালত বিচার শুরু করেনি। বিচারাধীন বন্দী হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে জন্মভুমি থেকে বিচ্ছিন্ন করে সুদুর অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ করে রেখে দেয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২১ ধারা ছাড়াও অনেককে বিভিন্ন ধারাতে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু যখন চার্জশীট দাখিল করতে পারেনি তখন কর্তৃপক্ষ অনেকের ক্ষেত্রে পূর্বের অভিযোগ বাতিল করে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। তখন স্বভাবতই সে সমস্ত বন্দীরা ভাবে যে যাক তাহলে এত দিন পর মুক্তি পেয়ে আবার জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া যাবে। তখন মনে নূতন প্রাণের স্পন্দন বইতে থাকে। অনেকেই নিজেদেরকে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়, কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কর্তৃপক্ষের কারসাজি তাদের সেই আনন্দের জোয়ার বেশীক্ষণ বইতে দেয় না। তাদেরকে পূর্ব্বের অভিযোগ থেকে খালাস করে জেল থেকে বের করে আবার অন্যান্য ধারা প্রয়োগ করে জেলে ঢুকিয়ে দেয়। ন্যায় এবং সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা সেটার মহিমা প্রকাশ করতে কর্তৃপক্ষ এমনি ভাবে মিজো বন্দীদেরকে জেল গেইট থেকে বের করে দেয় এবং অন্য ধারা দিয়ে আবার গ্রেপ্তার করে জেলে ঢুকিয়ে দেয়। এগুলি করেই হয়তো কর্তৃপক্ষ বাইরের লোকদের কাছে প্রমাণ করতে চান যে, দেখ আমরা মিজো বন্দীদেরকে এমনিতেই ফেলে রাখিনি। কিন্তু এমনিতর প্রশাসনিক এবং বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা কার্যকরী হতে গিয়ে বিচারাধীন মিজো বন্দীদেরকে যে কষ্ট সহ্য করতে হয় সেটা বাইরের জনগণ পুরাপুরি টের পায় না। আবার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ওদেরকে পূর্বের ধারা থেকে মুক্তি দেওয়ার খবর ঢালাও ভাবে প্রচার করলেও সাথে সাথে নূতন ধারায় অভিযুক্ত করে যে আবার জেলে আবদ্ধ করে রাখছে সেটা তেমন ব্যাপকহারে প্রচারিত হয় না। প্রসাশনিক ব্যবস্থার আবর্তে পড়ে রাংচোয়াঙ্গা এ জেল সে জেল থেকে স্থানান্তরিত হতে হতে দীর্ঘদিন পর আবার শিলচর জেলে পৌঁছল। রাংচোয়াঙ্গা দেখল তার ব্যাপারে মূলত কোন পরিবর্তন না হলেও জেলের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি একটু ভিন্ন ধরণের।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>মুক্তি</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-11/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-11/</guid>
      <description>&lt;p&gt;সকাল বেলার খাবার খেয়ে রাংচোয়াঙ্গা একটা বিড়ি ধরিয়ে নিজের ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় অনেকদিন আগে এ জেলেই দেখা পরিচিত একজনকে দেখে দাঁড়ালো। কয়েক বৎসরে চেহারার পরিবর্তন হলেও চিনতে অসুবিধা হয়নি। তাকে লক্ষ্য করে বলল,&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— আরে থাংলুরা না?&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— হ্যাঁ, আমি থাংলুরাই।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— তোমার ত বেশ পরিবর্তন হয়েছে।
— একটু মোটা হয়ে গেছি। তাই তোমার চিনতে অসুবিধা হচ্ছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;— অসুবিধা হচ্ছে না। অসুবিধা হলে ত তোমাকে থাংলুরা বলে ডাকতে পারতাম না। তোমাকে দেখে অন্য কেহ ভেবে পাশ কেটে চলে যেতাম। সে যাহোক। তোমাকে যে আজকাল জেলের ভিতরে ঘুর ঘুর করতে দেখি না। কি ব্যাপার?&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>শেষের শুরু</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-12/</link>
      <pubDate>Sat, 28 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/novels/bidrohi-mijo/chapter-12/</guid>
      <description>&lt;p&gt;রাংচোয়াঙ্গা এবং অন্যান্যরা জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর মিজো পাহাড়ে অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনীর সহিত আইজলের পাশে ঝুমপাই অঞ্চলে এবং অন্যান্য পার্বত্য এলাকায় বৈরী মিজোদের সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং উভয় পক্ষে হতাহত ঘটতে থাকলেও সেসমস্ত খবর গুলিকে যথাযথো গুরুত্ব না দিয়ে মিজো পাহাড়ের শহর ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপ প্রাধান্য পেতে থাকে। দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রী সহ ভারত সরকারের অন্যান্য নেতৃবর্গের সঙ্গে মিজো জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং মিজো জেলাকে পূর্ণ রাজ্যে রূপান্তরিত করার দাবী পেশ করা হয়। ইত্যাবসারে খবরের কাগজের শিরোনামায় আসতে থাকে যে কিছু সংখ্যক মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের কর্মী সরকারের সহিত বোঝাপড়ায় আসতে থাকে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
  </channel>
</rss>
