<?xml version="1.0" encoding="utf-8" standalone="yes"?>
<rss version="2.0" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/">
  <channel>
    <title>বিপন্ন সময় ও অন্য কিছু গল্প on অপরেশ ভৌমিকের সমগ্র রচনা</title>
    <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/</link>
    <description>Recent content in বিপন্ন সময় ও অন্য কিছু গল্প on অপরেশ ভৌমিকের সমগ্র রচনা</description>
    <generator>Hugo -- 0.147.3</generator>
    <language>bn</language>
    <lastBuildDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</lastBuildDate>
    <atom:link href="https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/index.xml" rel="self" type="application/rss+xml" />
    <item>
      <title>অফিসার ব্রজমোহন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/officer-brajamohan/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/officer-brajamohan/</guid>
      <description>&lt;p&gt;মলির জন্যেই বাড়তি জ্বালাটুকু সহ্য করতে হচ্ছে। অফিসে দশটা পাঁচটায় কোন ঝামেলা নেই। চেম্বারে সীটের পাশেই আলাদা একটা ষ্ট্যান্ডে জুতসই ভাবে ফোনটা রাখা হয়েছে। আড়াই হাজার টাকার অল পারপাস চেয়ার টায় হেলে বা হাত বাড়ালেই রিসিভারটা হাতের মুঠোয় চলে আসে। ইচ্ছে হয় কানে মুখে লাগিয়ে হ্যালো করো না হয় পড়ে থাক। ক্রিং ক্রিং শব্দ শুনে অফিসের কেহ না কেহ অবশ্যিই ধরবে। কিন্তু বাসারটা নিয়েই হচ্ছে ঝামেলা। সময়-অসময়ের জ্ঞানগম্যি নেই, যখন তখন ক্রিং ক্রিং করে মাথাটা বেদুরস্ত করে দেয়। ডাইনিং টেবিলে জুত হয়ে বসে খাবারটা মুখে দিতে যাচ্ছ আর ঠিক তখনই টেলিফোনটা চীৎকার করে উঠবে। অথচ আশ্চর্য্য, যে মলির পীড়াপীড়িতে লাইনটা অফিস থেকে রেসিডেন্সে এক্সটেনশন করা হয়েছে সে তখন নির্বিকার। সকাল বিকাল যখন ফোন আসে সে হয়ত খাটে শুয়ে ইভস, ম্যাগাজিনের চটকদার রঙীন ছবিগুলো ওলোট পালোট করে দেখবে কিংবা দুপুর বেলা এলোচুলে ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দেখে আক্ষেপ করে বলবে, &amp;ldquo;ইস্ এ রকম একটা পাঁচশ টাকার হেয়ার ড্রায়ার না থাকায় ভিজে চুলে কি ঝামেলাই না পোহাতে হচ্ছে।” অন্যদিকে ফোনটা বাজতেই থাকবে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>আমি, মুনীণ গগৈ ও রমিজ শেখ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/ami-munin-gogoi-o-ramiz-sheikh/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/ami-munin-gogoi-o-ramiz-sheikh/</guid>
      <description>&lt;p&gt;-আপনি একা একা যেতে পারবেন? -হ্যাঁ নিশ্চয়ই যেতে পারব।
মুনীণ গগৈ তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে কিছুদূর অবধি আমার সাথে এল। তারপর আমাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলল, – এই যে দেখছেন এলাকাটা, এটার নামই রূপাহি গ্রাম। বড় রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে দক্ষিণ পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। তারপর কতগুলো বড় অর্জুন গাছ দেখতে পাবেন এবং সেগুলোর সামান্য আগে বা দিক দিয়ে একটা খাল বয়ে চলেছে। খালের উপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটা পার হয়েই চারদিকে বাঁশঝাড় দিয়ে ঘেরা একটা শণের ছাউনির বাড়ি দেখবেন। সে বাড়িটাই রমিজ শেখের বাড়ি।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>কমলেশের পনেরোই আগষ্ট</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/kamalesher-poneroi-august/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/kamalesher-poneroi-august/</guid>
      <description>&lt;p&gt;সকালবেলা ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পরই কমলেশের মনে পড়ল আজ পনেরোই আগষ্ট। ভেন্টিলেটারের ফাঁক দিয়ে ভোরের সূর্য ওর বিছানায় এসে পড়েছে। হঠাৎ বেশী আলোর ঝাপটা, চোখে সহ্য হয় না। এই আলোর ঝাপটাতেই সকাল বেলার আরামের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। মাথায় একরাশ বিরক্তি নিয়ে পাশ ফিরল। টুটুন এখনো শুয়ে আছে। ওর গায়ে রোদ পড়েনি। ছুই ছুই করছে। জয়া অনেক আগেই বিছানা ছেড়ে চায়ের সরঞ্জাম নিয়ে লেগে পড়েছে। কাপ প্লেটের টুং টাং আওয়াজ ভেসে আসছে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>গুলিয়া</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/guliya/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/guliya/</guid>
      <description>&lt;p&gt;এইরে! কামজারীর সাইরেণটা বেজে গেল।
ভুইঞাভাঙার ঘিঞ্জি বস্তীট। ক্ষণিকের মধ্যে চঞ্চল হয়ে উঠল। শান্ত পরিবেশটা নিমেষের মধ্যে চাঙ্গা হয়ে উঠল। ঝগডু, মংলা, সুমিতা প্রভৃতিরা সবাই এক এক করে দল বেঁধে &amp;lsquo;লম্বরে&amp;rsquo; যেতে লাগল। সিত্যি নিত্যিই এরকমটা হয়ে থাকে। এ সবগুলোই যেন একরকম তালে তালে চলে। সুষমাও তালে তাল মিলিয়ে নিত্যি নিত্যি কামজারীর সাইরেণ শুনে ঝুড়ি নিয়ে ঝগডু মংলাদের সাথে &amp;lsquo;লম্বরে&amp;rsquo; চলে যেত। কিন্তু তালে তালে চলতে চলতে হঠাৎ তার বেলায় বেতাল হয়ে গেল। কোম্পানির নতুন কানুনে সুষমা ছাটাই হয়ে গেল। অবশ্যি এ বেতাল ভাবটা ওর কাছে সামান্য ক&amp;rsquo;দিনই ছিল। তারপর আবার ও নিজের মধ্যে একটা তাল এনেছে। এখন সাইরেণে কামজারীর নির্দেশ পেয়ে ভুইঞাডাঙ্গার ঝগড়ু, মংলা বা সুমিতাদের মত লম্বরে যায় না। সাইরেণ বাজার অনেক আগেই তাল রেখে সুষমা শহরের দিকে রওয়ানা হয়। কিন্তু আজকে সুষমা তাল রেখে কামজারীর &amp;lsquo;সাইরেণ বাজার আগে রওয়ানা হতে পারেনি।
-চল চল, তাড়াতাড়ি চল। আজ জবর দেরী হয়ে গেল। সুষমা তাঁর আট বছরের মেয়ে গুলিয়াকে হাত ধরে প্রায় টানতে টানতেই ভূইঞাডাঙ্গার ঘিঞ্জি বস্তী থেকে বের হয়ে বাগানের বড় রাস্তা ধরে চলল। গুলিয়া ওর কোমর থেকে খসে পড়ে যাওয়া ছেড়া পেন্টটা এক হাতে উপরে টানতে টানতে এবং অন্য হাতে মায়ের হাত ধরে এগিয়ে চলল। কিছুদূর যেতেই সে দেখল নাচঘরের পাশে বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে বসে বিলটু ঘুটুয়ারা প্রায় নাঙ্গা হয়ে বসে পাথরকুচি নিয়ে খেলছে। ওরা খুসী মনে খেলছে দেখে গুলিয়ার মনটা কেমন হয়ে গেল। সে মনে মনে ভাবল দূর ছাই, মা রোজ রোজ কেবল শহরে যায়। বিলটু ঘুটুয়াদের মায়েরা কামজারীতে যায় আর ওরা কি সুন্দর বসে বসে কেবল খেলা করে। মা শহরে না গেলে আমিও ওদের মত খেলতে পারতাম। এসব ভাবতে ভাবতে সে হঠাৎ তার মাকে বলল, হে মা, বিলটু ঘুটুয়াদের মায়ের মত তুই কামজারীতে কাহে নাই যাস? কেবল রোজ রোজ শহরলে যাছিস্।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>জামতলীতে শ্বেত বিপ্লব</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/jamtoli-te-shwet-biplob/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/jamtoli-te-shwet-biplob/</guid>
      <description>&lt;p&gt;অতুল তার কালি গাইটাকে মাঠে চরতে দিয়ে সাধুটিলার প্রকাণ্ড তেতুলগাছটার নীচে ডাংগুটি খেলছে। এক দুই তিন করে ঠুকে ঠুকে জোরে ডাং দিয়ে গুটিটাকে অনেক দূর পাঠিয়ে দিচ্ছে। ওর মারের বাহনা দেখে রামের তাক লেগে যায়। রাম গুটিতে জোরে মারতে গিয়ে কেবল হাওয়ায় ডাংটা ঘুরায়। সে অতুলের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে ঝগড়া বাঁধাবার ফিকির করছে। অতুল গুটিটাকে আরেকবার ডাং দিয়ে মেরে অনেকদূর পাঠিয়ে দিল। সে মাথা নিচু করে মাটিতে ডাং ঘুরিয়ে এক্কা দুক্কা গুনে গুনে আসছে। রাম এটা কিছুতেই সইতে পারছে না। সে দূর থেকেই দাঁড়িয়ে চীৎকার করে বলল - আমি তোর সাথে নাই খেলব। তুই গিন্তিতে কান্টুসবাজি করছিস।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>ডাঃ মতি বৈদ্যর বারান্দা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/dr-moti-baidyar-baranda/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/dr-moti-baidyar-baranda/</guid>
      <description>&lt;p&gt;দরজার কড়ানাড়া শুনে ধড়মড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়লাম। দরজাটা তাড়াতাড়ি খুলব বলে এগিয়ে যেতে ঘরের আবছা অন্ধকারে চৌকির পায়া উচু করে রাখার জন্য ইটের কোথায় একটা হোচট খেলাম। মনটা সাথে সাথেই একদম বিগড়ে গেল। কিছুটা সামলে নিয়ে দরজা খুলে দেখি উঠমুখো লাম্বস সনাতনদা দাঁড়িয়ে আছে। ও আমাকে দেখেই চীংকার দিয়ে বলতে লাগল,- তোরা আর কোনদিন মানুষ হবি? সকাল আটটা সাড়ে আটটা বেজে গেলো অথচ ঘুম থেকে উঠার কোন পাত্তা নেই। আমার গলা ফাটানি চেচামেচিতে পাড়ার লোক উকিঝুকি মারছে কিন্তু তোমার আর ঘুম ভাঙছে না।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>দহন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/dahan/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/dahan/</guid>
      <description>&lt;p&gt;Yes, I hate Shamik, Bilash and their associates হ্যা আমি শমীক, বিলাস এবং তাদের ঘৃণা করি। I hate myself. আমি নিজেকে ঘৃণা করি। অবশ্য কোন কোন সময়ে আমি শমীকদের প্রতি অনুকম্পা প্রকাশ করি। Sometimes I feel pity for them, sometimes I feel pity for myself. আমি আমার জন্য ও অনুকম্পা বোধ করি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এ বলেই অনিকেত মদের গেলাসে চুমুক দিয়ে মুখ বিকৃত করে কিছুটা গলাধকরণ করল। তারপর সে মাথাটা ঝাকুনি দিয়ে চেয়ার ছেড়ে টেবিলে ভর দিয়ে একটু কাত হয়ে দাঁড়াল। মুখে জড়তা নিয়ে টেনে টেনে বলল, – No, I have made a mistake. আমি ভুল বলেছি। হ্যা ভুল। শমীক বিলাসকে আমি ঘৃণা করি না। I do not hate them. They are right. তারা যা করছে তা ঠিক করছে। আমি ঘৃণা করি প্রিন্সিপাল সামন্তকে। I hate Principal Samanta. I hate Principal Samanta not because of his sincerity, but because of his কি বলব? ধ্যাত শালা ইংরেজীতে কি বলব খুঁজে পাচ্ছি না। যাহোক, আমি প্রিন্সিপাল সামন্তকে তার সততার জন্য ঘৃণা করি না। ঘৃণা করি অজ্ঞতার জন্য। হ্যা অজ্ঞতা। অধ্যক্ষ সামন্তই শমীক বিলাস এবং আমরা সবাইকে বলেছিল যে আমরাই আগামী দিনের আলোক বতিকা। He told that we will be the torch bearer of the impending days. We, the Engineers will have vital role to make our Country prosperous. তিনি বলেছিলেন, আমাদের দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তুলতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। So we should study sincerely and try to be successful engineers. &amp;lsquo;তোমরা সত্যিকারের ইঞ্জিনীয়ার হতে ভালভাবে পড়াশুনা করো”।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>বিপন্ন সময়</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/bipanna-samay/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/bipanna-samay/</guid>
      <description>&lt;p&gt;এন্টারিকটিকা কিংবা ট্রপিক অফ কেনসারের পার্শ্ববর্তী যে কোন অঞ্চলের অধিবাসীই হোক না কেন সে মৃত্যুর মুখোমুখি হলে মরীয়া হয়ে বাঁচার চেষ্টা করবেই করবে। সেটা প্রতিরোধ করেই হোক কিংবা পালিয়েই হোক। তীক্ষ্ণ বল্লম কিংবা চকচকে ধারালো তলোয়ার নিয়ে যদি একটি লোক পাশবিক উন্মত্ততায় আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে ঠিক সেই মূহুর্তে আমি নিশ্চয়ই পৃথিবী অন্যকোন জায়গায় নির্মমভাবে নিহতদের জন্যে দুঃখ প্রকাশে উদ্বেল হয়ে পড়ব না। এমতাবস্থায় বোধ হয় কেউই শোকে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ন্যুব্জ হয় না। অবশ্যি যারা নিরাপদ দূরত্বে অক্ষত থাকে, আঘাত হুমড়ি খেয়ে যাদের ঝাপটে ধরেনি তারাই ভাববার অবকাশ পায়। শোক দুঃখ সারা বুক জুড়ে আসন পেতে বসে। নির্মম হত্যাকাণ্ডে যারা ধরাধাম থেকে চলে যায় তাদের জন্যে মর্মবেদনায় হৃদপিণ্ড চেপে ধরে।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>বিলাসপুর স্বর্ণপ্রভা কলেজ</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/bilaspur-swarnaprabha-college/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/bilaspur-swarnaprabha-college/</guid>
      <description>&lt;pre&gt;&lt;code&gt;“কন্যা কেশবতী। সুশ্রী। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা। বি, এ পাঠরতা। বয়স ২০ বৎসর। পূর্ব্ববঙ্গীয় ভরদ্বাজ পাত্র চাই। পোঃ বঃ  ৭০১।”

“সুন্দরী, তন্বী। দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট। গৃহকর্মে সুনিপুণা। আই, এ প্লাকন্ড পাত্রীর জন্য যোগ্য শাণ্ডিল্য পাত্র চাই। উপযুক্ত যৌতুক দেওয়া হবে। পোঃ বঃ ২৭৩০১”

– “&#39;আরে বাবাঃ যৌতুক দেওয়া হবে! ডাওরী অ্যাক্টকে অমান্য করে! আইনকে সব দিক দিয়েই ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে তা এদিক দিয়ে হলে ক্ষতি কি? এই দুদিনে দু একটা বছরত দাম্পত্য জীবন মধুরেণ সমাপয়েত হবে। অবশ্য আমাদের ভাগ্যে এসব কুলোবে না। এ লাইনে আমাদের সাড়ি অনেক পিছনে! ফাষ্ট প্রিফারেন্স টুদা ইঞ্জিনীয়ারস। তারপর ডাক্তার, চাটার্ড একাউন্টেন্ট, মিলিটারী অফিসারস আরও কত কি। এসব ভাবতেও যেন কেমন লাগে।”

রবিবারের পত্রিকা পড়াটা সুকান্তের একটা বিশেষ নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বামপন্থী ও দক্ষিণ পন্থী কোন্দলের খবর ওর কাছে সেকেণ্ডারী! প্রাইমারী হচ্ছে কৰ্ম্ম খালির বিজ্ঞাপন। তাই সুকান্তের নিয়মের শুরু হয় কৰ্ম্মখালির বিজ্ঞাপন দেখে। সব কিছু দেখে শেষ পর্যন্ত যখন আর বিশেষ কিছুই থাকে না তখন অজান্তেই সুকান্তের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় ভরদ্বাজ, শাণ্ডিল্য আর সদগোপ পাত্র পাত্রীর বাজারে। পাত্র পাত্রীর চাহিদা ও গুণাগুণের বাহার দেখে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সুকান্ত খাপছাড়া নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করে পত্রিকা পড়ার সমাপ্তি ঘোষণা করে। বলে “আরে বাবাঃ যৌতুক দেওয়া হবে....। এসব ব্যাপারে ফাষ্ট প্রিফারেন্স টুদা ইঞ্জিনীয়ারস ইত্যাদি ইত্যাদি।&amp;quot; 

মাঝে মাঝে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে। কিন্তু নিগূঢ় ভাবে ভাবলে বলতে হবে সেটাও একটা নিয়ম। যাহোক অবশেষে একদিন সুকান্তর নিয়মেও ব্যতিক্রম ঘটল। রবিবারের পত্রিকা পড়াটা অসমাপ্ত রয়ে গেল। তবে এতদিন মনের আবেগে যা চেয়েছিল তা পেয়েছে। বিলাসপুর স্বর্ণপ্রভা কলেজের পরিচালক সমিতি একজন ইকনমিকসে এম, এ চাইছে। সুকান্ত ভাবল আবেদন করলে নিশ্চয়ই চাকরীটা পেয়ে যাবে। তারপর আরও চিন্তা করল- “জায়গাটা কি রকম? পরিবেশ? যদি একেবারে হয় যদি নিজেকে খাপ খাইয়ে না নিতে পারি? – তা যত গেয়েই হোক বা জঙ্গল হোক আমি যাবই আমাকে একটা কিছু করতে হবে।” 

আমি যাবই। সুকান্তর শেষ সিদ্ধান্তই ঠিক রইল। কার্যক্ষেত্রে হলও তাই। স্বর্ণপ্রভ। কলেজের পরিচালক সমিতি তার আবেদন পত্র মঞ্জুর করে সাথে নিয়োগ পত্র পাঠিয়ে দিয়েছে। সুকান্ত চলছে। নূতন আশা এবং উৎসাহ নিয়ে। মধ্যে মধ্যে ভয়ও হচ্ছে কি করে প্রথম সামলিয়ে নিবে। সুকান্ত ভাবছে-“আজ কালকার ছেলেগুলি কি আগের চেয়ে বেয়াড়া? আমাদের সময়ও ত ছাত্ররা দুষ্টুমি করত। কিন্তু এখনকার ছাত্ররা যেন দুনিয়ার সাথে তাল রেখে বেয়াড়াপনায় কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। না না-এসব আমার ভুল ধারণা, নিতান্তই স্বার্থপরতার পরিচয়। আমাদের যা ছিল সবই ভাল, এ ধারণা ঠিক নয়।” টেনে বসে বসে কেবল এসবই ভাবছে। সম্বিৎ ফিরে পেল যখন গাড়ীখানা হুইসেল দিতে দিতে বিলাসপুর ষ্টেশনে প্ল্যাটফর্মে ঢুকে গেল।

ট্রেন থেকে নেমে একখানা রিক্সায় চড়ে স্বর্ণপ্রভা কলেজের উদ্দেশে ছুটল যেতে যেতে সুকান্ত তার দৃষ্টি দুদিকে তটুকু যায় নিক্ষিপ্ত করতে লাগল। জায়গাটা মন্দ নয়। প্রগতির হাওয়া যেন জোর বইছে। হোটেল, রেস্তরা, দোকানপাট সব কিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়াচ আছে। সুকান্ত কলেজ প্রান্তে পৌঁছে রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া ঢুকিয়ে দিয়ে কলেজের দিকে পা বাড়াল। নানা রকমের ছেলেমেয়ে সুকান্তর পাশ দিয়ে যাওয়া আসা করছে। নানা জনের নানা রকম কথাবার্তার ঢেউ তার কানে বাজতে লাগল।
– &amp;quot;নারে আজ আর ১-৪৫ মিঃ ক্লাস করছি না।” 
– “বুঝেছি &#39;দিল হিতু হ্যায়’ তে যাচ্ছিস&#39;। তা রেড লাইটকে সাথী করে নিয়ে যাস।”
– “হোয়াট রেড লাইট? রেড লাইট কি?” সুকান্ত। মনে মনে বুঝবার চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুই বুঝল না। আজকাল টেকনীসীয়ানদের যুগ। কথাবার্তা ও টেকনিক্যাল হচ্ছে। এসব ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চলল। কলেজে প্রফেসরস কমনরুমে প্রবেশ করে নিয়োগ পত্র ও পরিচয় পত্র দেখিয়ে সবাইর নিকট পরিচিত হল।

বিলাসপুর স্বর্ণপ্রভ। কলেজের কোন হোষ্টেল ছিল না। না ছাত্রদের না প্রফেসরদের। বাইর থেকে যে সব প্রফেসাররা আসে ওরা আলাদা মেস করে থাকে। তাই সুকা তকেও অন্যান্য প্রফেসরদের সাথে মেসে থাকতে হচ্ছে। কলেজ ছুটির পর সুকান্ত অন্যান্য প্রফেসর সমভিব্যাহারে মেসে যেতে লাগল কলেজ থেকে বেরিয়ে সোজা রাস্তা ধরে কিছুদূর এগোল। তারপর বাঁ দিকের গলিটা দিয়ে যাচ্ছে। এগোতে এগোতে সুকান্ত দেখতে পেল একটা দোতালা ঘরে বারিন্দার সামনে সাইন বোর্ড এটে দেওয়া আছে। লিখা &amp;quot;প্রমীলা, বজ্জিত নিবাস”। সুকান্তর কৌতুহল হল! কিন্তু মনে মনে হাসল। প্রমীলা বজ্জিত নিবাসটা ছাড়িয়েই ওদের মেসে উঠল। নির্দ্ধারিত রুমে প্রবেশ করে সুকান্ত বিশ্রামের জন্য সেবারকার মত সবাইকে ইতি জানাল। সেদিনই রাত্রে নৈশভোজনের পর সুকান্তর সমবয়সী এক সহকর্মী এসে সুকান্তর সাথে বেশ আলাপ জমিয়ে দিল। সমবয়সী হলে কি হবে দেখলে কিন্তু মনে হয় বেচারা অকালেই বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুরুতেই বেচারা সুকান্তকে বলছে- &amp;quot;আমার পিতৃপ্রদত্ত নাম হচ্ছে প্রদ্যুত চ্যাটার্জী আর ছাত্রদের কাছে পিসেমশাই বলে পরিচিত”

– “পিসেমশাই? কেন?” সুকান্ত প্রশ্ন করে।
– “তা ওরাই জানে। আমার সাথে ত আলোচনা করে ওরা নাম দেয়নি। অবশ্য সরাসরি কোনদিন পিসেমশাই বলে সম্বোধন করেনি। তবে অগোচরে ছাত্রমহলে বললেও আমাদের কাছে অর্থাৎ প্রফেসরমহলে সেটা ওপেন সিক্রেট।” 

সুকান্ত এক টু ভ্যাবচ্যাকা হয়ে গেল। মনে মনে কিছু ভাবতে চেষ্টা করল। কিন্তু ভাবার পথে ছেদ দিয়ে প্রদ্যুত আবার বলতে আরম্ভ করল– &amp;quot;আমি পিসেমশাই। এক নম্বর রুমের কালো বৃদ্ধ ভদ্রলোক অর্থাৎ শিবেন্দ্র লাল চক্রবর্তী বাংলার অধ্যাপক হচ্ছেন শিয়াল পণ্ডিত। পাঁচ নম্বর রুমের বিশ্বনাথ বটব্যাল দর্শনের অধ্যাপক তিনি হচ্ছেন ব্রোকেন হার্টেড অর্থাৎ ভগ্ন হৃদয়বান! আর আমাদের শান্তশিষ্ট নিৰ্ম্মল গুহ, মিসেস গুহ বলেই ছাত্রমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাদের প্রদত্ত নামগুলির ব্যাকগ্রাউন্ডে কি আছে তা ঠিক করে বুঝতে পারিনি। বিশ্লেষণ করলে হয়তো বা কিছুটা আঁচ করা যেতে পারে। আচ্ছা বলুন দিখিনি মশাই কাহাতক ছাদের এই পরোক্ষ টিটকারি সহ্য করা যায়?”

সুকান্ত, তন্ময় হয়ে সব শুনছিল। এখন কি উত্তর দিবে ভেবে পায় না, পুরাপুরি বোকার মত প্রদ্যুতের মুখপানে তাকিয়ে রইল।

কোন উত্তর না পেয়ে প্রদ্যুত আবার বলে যেতে আরম্ভ করল,... &amp;quot;আপনি ত এসেছেন মশাই কয়েক দিন পরখ করে দেখুন। আরে মশাই রাস্তা দিয়ে আপনি মাথা উচু করে হাটতে পারবেন না। রাস্তা দিয়ে যখন চলছেন তখন দেখবেন আপনার বিপরীত দিক থেকে ছাত্র কয়টা সিগারেট ফুকতে ফুকতে প্রায় আপনার সামনে এসে গেছে। তখন আপনার মনে ইলেকটিক শকের মত বাজবে সখি আপন মান আপনি রাখ। মান রক্ষার্থে বাধ্য হয়ে তখন ডান বায়ে না চেয়ে অধোবদন করে ফরওয়ার্ড মার্চ করবেন।” প্রত্যুত বলতে বলতে এক রকম পরিশ্রান্ত হয়ে গেছে। একদিনে নূতন সহকর্মীকে আর কত বলা যায়। তাই প্রসঙ্গ শেষ করার নিমিত্তে বলল-“কিছুদিন পরে আপনি নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। আপনার সাথে অনেকক্ষণ আজে বাজে বকে গেলাম । আচ্ছা যাই।”

সুকান্তর তখন ছেড়ে দেমা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। তাই কিছু না বলে নিদ্রাদেবীর আরাধনায় মন নিবিষ্ট করল। আজ সুকান্তকে ক্লাস নিতে হচ্ছে। সকাল থেকেই ভাবছে কি করে নেবে! কেমন করে ক্লাসে যাবে। কি করে ক্লাস কনটোল করবে। কারেন্ট টপিকস নিয়ে আলোচনা করবে না ইকনমিক্স এর প্রাথমিক সম্বন্ধে কিছু বলবে। কিছুই চট করে ভেবে ফেলতে পারল না। অবশেষে ঠিক করল কারেন্ট টপিকস নিয়েই আলোচনা করবে। প্রথমে ১০-৪৫ মিঃ ফাষ্ট ইয়ারের ক্লাস আরম্ভ তারপর ২-২৫ মিঃ থার্ড ইয়ার। ক্লাস আরম্ভ হওয়ার সঙ্কেত পরার সাথে সাথেই সুকান্ত রেজিষ্টারীখানা নিয়ে ফার্স্ট ইয়ার ক্লাসে প্রবেশ করল। আস্তে আস্তে রোল কল করতে লাগল। ছেলেদের উপস্থিতি চিহ্নিত করার ফাঁকে ফাঁকে সুকান্ত ক্লাসটাকে লক্ষ্য করল। পিছনের সারির ছাত্রছাত্রীদের মৃদু গুঞ্জন আর ফিস ফিসানি শুনতে পেল। রোল কল শেষ করার পর সুকান্ত নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় দিল। কোন্ ইয়ারে কোন ইউনিভাসি টি থেকে পাশ করেছে। তারপর বর্তমানে সিংহল, জাঞ্জিবার, ব্রহ্মদেশ ও পাকিস্থান থেকে বিপুলভাবে উদ্বাস্তু আগমনের ফলে ভারতে অর্থনৈতিক অবস্থার উপর কিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে সে সম্বন্ধে কিছু বলল। পিরীয়ড শেষের সঙ্কেত পেয়ে আলোচনা অসমাপ্ত রেখেই বেরিয়ে আসল। বেরিয়ে কোলাহলের মধ্যে -সুকান্ত ভাবতে লাগল যে, সে যা বলতে চেয়েছিল তা সব বলা হয়েছে কিনা। সে মনে মনে ভাবল যে. এভাবে না বলে ওভাবে যদি বলত তাহলে বোধ হয় আরও ভাল হত। .. এরকম ভাবতে ভাবতে সুকান্ত প্রফেসারস কমনরুমে এসে একটা চেয়ার দখল করল। চেয়ারে বসেও সুকান্ত ভাবছে। তখন আর একটা নির্দিষ্ট ভাবনা নয়। একটা জিনিষ নিয়ে ভাবনা শুরু হয়। এই ভাবনাটাই শাখা প্রশাখায় বিজ্ঞ হয়ে যায়। অবশেষে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যে, সুকান্ত নিজেই বুঝতে পারে না সে কি নিয়ে ভাবছে। ভাবনার উৎসটা কোথায়। এরকম চিন্তার জাল বুনার ফাঁক দিয়ে সময়টা যেন বড় তাড়াতাড়ি চলে গেল। সুকান্ত ২-১৫ মিঃ থার্ড ইয়ারের রাস নিতে ছুটল। এখন আগের চেয়ে মনের জোর বেশি। ক্লাসটা সুকান্তর কাছে ভাল মনে হল। ছারাই সুকান্তকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্নকরল। সুকান্ত উত্তর দিল। পিরীয়র্ড শেষে সুকান্ত ক্লাস থেকে বেরিয়ে এল। পাশের রুমে থেকে ছাত্রদের &#39; ডেস্ক চাপরানি আর হৈ হল্লার আওয়াজ ভেসে আসল। ডেস্ক .. এবং টেবিল চাপরানির আওয়াজের মধ্যে সুকান্ত একটা অদ্ভুত প্রাণীর চীৎকার শুনল। &amp;quot;হুক্কা হুয়া হুয়া !&amp;quot; সুকা&#39;ত ঠিক বুঝল না ছাত্ররা কেন এই বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করার চেষ্টা করছে। সুকা&#39;ত আরও এগিয়ে গেল। দেখল এক নম্বর রুমের কালো বৃদ্ধ ভদ্রলোক অর্থাৎ শিবেন্দ্র লাল চক্রবর্তী নাকের ডগায় চশমা লাগিয়ে হন হন করে কমনরুমের দিকে চলে যাচ্ছেন। সুকান্ত প্রদ্যুতকে মনে করল। সুকান্ত মনে মনে হাসল। কিন্তু বুঝতে পারল না ছাত্ররা হুক্কা হুয়া করে পণ্ডিত মশাইয়ের যোগ্য শিষ্য হবার চেষ্টা করছে না পণ্ডিত, মশাইকে তাদের উপযুক্ত শিক্ষক হবার জন্য আহ্বান করছে।

কলেজ শেষে মেসে ফেরার পথে কলেজের নূতন লব্ধ অভিজ্ঞতা সুকাতর মনে তোলপাড় করল। কখন যে সোজা বড় রাস্তাটি পেরিয়ে এল টেরই পেল না। গলির ভেতর ঢুকে একটু তাড়াতাড়ি হাটতে লাগল। প্রমীলা বজ্জিত নিবাসের বারান্দায় কয়েকটা ছেলে ছোকরা দাঁড়িয়ে আছে। সুকাতকে লক্ষ্য করে নিজেদের মধ্যে যেন কি বলাবলি করল। সুকান্ত তাদের হাবভাব দেখে কিছুটা বুঝতে পারল নিবাসটা ছাড়িয়েই সুকান্ত তার মেসে নিদ্দিষ্ট রুমে প্রবেশ করল।

আজ একটু তাড়াতাড়ি প্রদ্যুত এসে গেল। তারপর দুজনে আলাপ আলোচনা আরম্ভ করল। সুকান্ত আজ আর কেবলমাত্র নির্বাক শ্রোতা নহে। মধ্যে মধ্যে সেও বলছে। দুজনের আলাপ যখন বেশ জমে উঠেছে তখন রসভঙ্গ করে একটা মঝাবয়েসী ছোকরা প্রবেশ করল। সুকান্ত জানল ছেলেটা প্রমীলা বজ্জিত নিবাসের একজন। প্রমীলা বজ্জিত নিবাসে যারা বাস করে তারা সবাই চাকুরী করে। বেশীর ভাগই টাইপিষ্ট ও কেরাণী। ছেলেটা প্রাইভেট কোম্পানীর কেরাণী। সুকান্ত বুঝল ছেলেটার সাথে প্রদ্যুতের হৃদ্যতা আছে। হাসির খোরাক পেলেই ছেলেটি একেবারে প্রাণখোলা হাসি হাসে! ছেলেটি প্রথমে মরসুমের ক্রী-াজগত সম্বন্ধে কিছু আলোকপাত করল। এই সূত্র থেকেই আলাপ চলতে চলতে দেশীয় রাজনীতি তথা বিশ্বরাজনীতি ছেড়ে শেষ পর্য&#39;ত প্রত্যুত নিজের প্রফেসর জীবনে লব্ধ অভিজ্ঞ ভার উপর আস্থা করে বর্তমানে তার মত প্রফেসরদের আশা আকাঙ্খা ও ভবিষ্যতের উপর আলোচনার মোড় ঘোরায়। নিজেই বলতে থাকে মান, ইজ্জত, সমাজে প্রতিষ্ঠা কিছুই তাদের নেই। প্রত্যুত বলতে বলতে উত্তেজিত হয়ে যায়। সুকান্ত দেখল ছেলেটি প্রদুতের বাক ভঙ্গিমা দেখে ও কথা শুনে হো হো করে হাসছে। প্রদ্যুত একটু বিকৃত মুখে ছেলেটার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। ছেলেটি হাসি থামিয়ে বলতে আরম্ভ করল- &amp;quot;দেখুন প্রদ্যুতদা যুগটা গণতন্ত্রের। তা আপনারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজের সম্মান রক্ষার্থে আন্দোলন শুরু করুন। বেতন বাড়ানোর জন্য মিছিল করতে পারেন আর সম্মান রক্ষার্থে আন্দোলন করতে পারবেন না? আপনারা সমিতি করুন। &amp;quot;সেইভ প্রফেসরস প্রেষ্টিজ কমিটি।” অর্থাৎ অধ্যাপক সম্মান রক্ষা সমিতি। ব্যাপক- ভাবে সমস্ত দেশে এই আন্দোলন মড়কের মত ছড়িয়ে দিন। দেখবেন কিস্তি মাত হয়ে যাবে। তখন ছেলেরা আর পরোক্ষ ব্যর্থ প্রেমিক অধ্যাপককে ব্রোকেন হার্টেড বলতে পারবে না। আপনাদের রাস্তায় বেরোবার সময় আপনা মান আপনি রাখ ভেবে আর তধোবদন করে কুইক মার্চ করতে হবে না।”

এতটুকু বলেই ছেলেটি আবার প্রাণখোলা হাসি হাসতে লাগল সুকান্ত ছেলেটির কথা মন দিয়ে শুনল। &#39;কিন্তু প্রাণখোলা হাসি হাসেনি। ভাবল ছেলেটি সত্যিই রসিক। মনে মনে ছেলেটিকে তার যুক্তির জন্য তারিফও করল। ছেলেটি ততক্ষণে হাসি থামিয়ে সুকান্তকে নমস্কার করে বলল-&amp;quot;দাদা এ&#39; বাচালকে মাপ করবেন। আমি নিতান্তই বড় বেশি কথা বলি।” এই বলেই ছেলেটি চলে গেল। সুকান্ত এবং প্রত্যুত ও নৈশভোজের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল।

সুকান্ত কলেজে যায় আসে। বেশির ভাগ অবসর সময়ই সুকান্ত প্রহাতের কথা নিয়ে মনে মনে ভাবে। অবশ্য ছেলেটার কথাও মনে পরে ছেলেটার কথা মনে পরলেই সুকাতর মনে খানিক হাসির ঝিলিক ঝরে। আবার ভাবে তার নাম জানি ছাত্ররা কি রেখেছে। তা দিক না বাবা যত খুশী। কৃষ্ণেরত অষ্টোত্তর শত নাম। ছাত্রদের দৌলতে তাদের না হয় দু চারটে নাম হল। এমন সব ভেবে ভেবেই সুকান্তর দিন যায়।

অবশেষে কলেজে গ্রীষ্মের বন্ধ এসে গেল। কলেজ বন্ধ ও হলো। সুকান্ত তৈরী হয়েছে বাড়ী ফিরবার জন্য। দিন ঠিক করে বেরিয়ে গেল। প্রমীলা বজ্জিত নিবাসটা ছাড়িয়ে গেল। পিছে তাকিয়ে দোতালার বারান্দাটা দেখল । না,- সুকান্ত ছেলেটিকে দেখতে পেল না। সুকান্ত কয়েক মাস অধ্যাপনা করেও ঠিক করতে পারল না যে সে আবার এখানে আসবে কিনা। যাবার সময় সেই অদ্ভুত ছেলেটিকে দেখবার জন্য সুকান্তর মন ব্যাকুল হল। আবার পিছে তাকিয়ে বারান্দাটা দেখল। না, - ছেলেটি নেই। বোধ হয় কর্মক্ষেত্রে। সুকাত এগোচ্ছে। প্রহাতকে মনে করল। প্রদ্যুতকে ভাবতেই মনের মধ্যে যেন ঢেউ উঠল। ঢেউয়ে ঢেউয়ে আঘাত হচ্ছে। ব্রোকেন হার্টেড, শিয়াল পণ্ডিত সেইভ প্রফেসরস প্রেস্টিজ কমিটি সব কথাগুলি যেন ঢেউয়ে পরে ঘুরপাক খাচ্ছে। সুকাত এগিয়ে চলছে। ষ্টেশন থেকে গাড়ী ছাড়বার পূর্ব্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সুকান্ত ভাবছে, হয়ত বা বাড়ী গিয়ে তাকে আবার রোজ রবিবারের পত্রিকাতে কর্মখালির বিজ্ঞাপন দেখে যখন কিছুই পাবে না যেন অজান্তেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামবে- কন্যা কেশবতী...........।&amp;quot;

সচিত্র ভারত, ২৫ শে জুলাই ১৯৬৪ ইং
&lt;/code&gt;&lt;/pre&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>যো খায়া ওহী পস্তায়া</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/jo-khaya-wohi-pastaya/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/jo-khaya-wohi-pastaya/</guid>
      <description>&lt;p&gt;“দিল্লীকা লাড্ডু যো খায়া ওহী পস্তায়া, যো নেহী খায়া ওহভী পস্তায়া”। প্রায় চীৎকার দিয়ে বলতে বলতে আমাদের রুমে প্রবেশ করলেন ভেজুদা।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ক্রিষ্টিন কীলারের পায়ে ধরে আয়ুবের সাঁতার, মাও সে তুঙএর তৃতীয় বিয়ের পর বর্তমান চীনা চিত্র জগতের সেক্সী অভিনেত্রীর সহিত চতুর্থ বিয়ে এবং অধুনা বিধান সভায় মহিলা সদস্যার উপর ডিম্ব নিক্ষেপের কাহিনী – সব কিছুই ভেজুদা অবসর সময়ে রসিয়ে রসিয়ে আমাদেরে শুনাতেন । তাই সাথে সাথে বলি, কিন্তু আজকেরটির মত কোনদিন দেখিনি।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>রাজা এলেন রাজা গেলেন</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/raja-elen-raja-gelen/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/raja-elen-raja-gelen/</guid>
      <description>&lt;p&gt;ইষ্টিশনের প্ল্যাটফর্মে ছমরু মিঞা ফুলের মালা নিয়ে পায়চারী করছে। একবার সে হাটতে হাটতে আর, এম এস, অফিসটার সামনে যাচ্ছে আবার মুখ ঘুরিয়ে পুবদিকে ফিরে আসছে।  দূর থেকে ওর হাতের ফুলের মালাটি খুবই উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। কিন্তু আসলে সেটা বাগান থেকে সংগৃহীত সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল- দিয়ে তৈরী নয়। মনোহারী দোকান থেকে বেশ মোটা টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে। একবার বা হাত এবং একবার ডান হাতে মালাটিকে দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে প্ল্যাটফর্মে হাটছে আর মাঝে মাঝে ওভার ব্রীজের ফাঁক দিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে। সে দেখছে হিল এক্সপ্রেস আসছে কিনা। কারণ, ওরা আজ রাজার বেশে আসছে। ওদেরকে ভালভাবে স্বাগত জানাতে হবে। গাড়ীর দেরী দেখে ছমরু মিঞার তর সইছে না। ভাগ্যিস, মালাখানা প্ল্যাষ্টিকের তৈরী নইলে এত সময়ে নেতিয়ে একাকার হয়ে যেত।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
    <item>
      <title>সুন্দরা</title>
      <link>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/sundara/</link>
      <pubDate>Fri, 27 Oct 2023 00:00:00 +0000</pubDate>
      <guid>https://www.bhowmickarchives.in/bn/stories/bipanna-samay-o-anya-kichu-galpo/sundara/</guid>
      <description>&lt;p&gt;সুশীতল মজুর সর্দার বীরওয়াকে নিয়ে ওর এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাজ দেখছে। বীরওয়ার ওয়ার্ডে কেবল মেয়ে মজুর। সমান তালে দুটি পাতা ও একটি কুড়ি গাছ থেকে তুলে পিঠের ঝুড়িতে ফেলছে। চায়ের গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ ও ঝুড়িতে রাখা এই দুইয়ে একটা &amp;lsquo;ছন্দ আছে। সুশীতলের সহজ মন সায় দিচ্ছে না এই অদ্ভুত ছন্দের পতন ঘটাতে। কিন্তু বাহাদুরীর জন্য মধ্যে মধ্যে পতন ঘটাতে হয়। তদারকী না করলে আবার কিসের তদারক! বাবু যদি কেবলমাত্র চুপ করে দেখেই চলেন তাহলে কেমন হবে। বকা বকি করতে হয়, ধমক দিতে হয়। না হলে বাবুর বাবুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। মজুররা ভয়ে সন্ত্রস্থ থাকে না। তাই সুশীতল নিজেকে আচ্ছা বাবু বলে জাহির করতে একবার রূপমতিয়ার কাছে যায় আবার রুছলির কাছে আসছে। শুধু শুধুই কাজে খুঁত ধরবার চেষ্টা করে। কিন্তু পারছে না।&lt;/p&gt;</description>
    </item>
  </channel>
</rss>
