এই নথিটি ১৯৫৬ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী তারিখে সোশ্যালিস্ট পার্টির কলকাতা শহর কমিটির সম্পাদক হিসেবে নরেশ ভৌমিকের লেখা একটি চিঠি বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

এতে, লেখক ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠনের সংগ্রামের প্রতি পার্টির সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, যা ছিল জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের একটি প্রতিশ্রুতি। বিবৃতিতে শ্রীনেহরুর অনুগামীদের সমালোচনা করা হয়েছে, যারা এই বিষয়টিকে ক্রমাগত জটিল করে তুলেছে।

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বলার পরেও, সরকারের নিজের “খুসীমাফিক বাঁটোয়ারার ছুরি” চালানোর নীতির নিন্দা করা হয়েছে। সর্বশেষ, বাংলা-বিহার সংযুক্তির প্রস্তাবকে “ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার ষড়যন্ত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ব্যক্তিরা বিকেন্দ্রীকরণের নীতিতে বিশ্বাসী, তাই এই প্রচেষ্টাটিকে অঙ্কুরেই বিনাশ করা উচিত।

চিঠিটি ভাষাগত রাজ্যগঠনের সংগ্রামের জন্য পূর্ণ সহযোগিতা ও সহানুভূতি কামনা করে শেষ হয়েছে।

সম্পূর্ণ নথিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন (PDF)

View Extracted Text
শ্রী
মহাশয়,
জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সময় হইতে ভাষাভিত্তিক প্রদেশ
ঠনের সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু প্রয়োগের সময়
আসিতেই শ্রীনেহরুর অনুচরেরা বাদী, বিবাদী ও বিচারকের
ভূমিকায় অবতীর্ণ হইয়া দৈনন্দিন এই প্রশ্নকে ক্রমান্বয়ে ঘোরালো
করিয়া তুলিয়াছেন। রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনকে সর্ব্বময় ক্ষমতা-
সম্পন্ন সংস্থা বলিয়া বারংবার ঘোষণা করিয়াও নিজেদের খুসীমাফিক
বাঁটোয়ারার ছুরি চালাইতে দ্বিধা করেন নাই। সর্ব্বশেষ
বাংলা-বিহার সংযুক্তির প্রস্তাব করিয়া ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার
ষড়যন্ত্রের জাল সুকৌশলে বিস্তার করিতেছেন।
গণতান্ত্রিক সমাজবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তিমাত্রই বিকেন্দ্রীকরণের
নীতিতে বিশ্বাসী। এই প্রচেষ্টাকে তাই অঙ্কুরে বিনাশ করা কর্তব্য।
এই দীর্ঘকালের স্বীকৃতি অনুসারে ভাষাগত রাজ্যগঠনের
জন্য সংগ্রামে সোস্যালিষ্ট পার্টি আপনার পূর্ণ সহযোগিতা ও
সহানুভূতি কামনা করে।
১৬০ নং ধৰ্ম্মতলা স্ট্রীট
কলিকাতা-৭
১১ই ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬
বিনীত-
নরেশ ভৌমিক
সম্পাদক।
সোস্যালিস্ট পার্টি
কলিকাতা সহর কমিটি