কোচিন শহরের ভাইটিলা এলাকায় এল, এম, পাইলি লেনের বাড়িটাতে আমাদের বসবাসের বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো। বাড়ির মালিক কেরলের স্থায়ী বাসিন্দা, মালয়ালম ভাষাভাষী এবং সম্ভ্রান্ত হিন্দু। সম্প্রতি একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। ভদ্রলোক এবং উনার গিন্নি বাড়িতে থাকেন। ভাড়াটিয়ার প্রতি ওদের ব্যবহার অমায়িক।
নূতন জায়গায় গিয়ে বসবাস করতে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় খুটিনাটি অনেক জিনিসের খোঁজ খবর নিতে ওদের সাহায্য অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের নিজস্ব ভাষায় সেই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর নাম ওদেরকে বলে বুঝানো যায় না। আর জিনিস পত্রের সঠিক স্থানীয় নাম জানা না থাকলে দোকানে গিয়ে কিছুই কেনা কাটা করা যায় না। রান্নার উপকরণ যথা কালীজিরা, গুলমরিচ, আদা এবং মাছ কুটার বটিদা, নারকেল কুড়ানি প্রভৃতির স্থানীয় নাম জানতে গিয়ে গলদগম হতে হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে বাড়িতে ঠাকুরের নিত্য পূজা করার জন্য ঠাকুর রামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং গুরুদেব স্বামী গহনানন্দজীর ফটো কোথায় পাওয়া যাবে জিজ্ঞেস করে অতি সহজেই তাদের কাছ থেকে জানতে পারি যে, আমাদের এল,এম, পাইলি লেন থেকে পাথর ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে ভাইটিলা রামকৃষ্ণ মঠ এবং সেখানে গেলেই ওগুলো পাওয়া যাবে। এল,এম, পাইলি লেন থেকে বেরিয়ে ভাইটিলা চৌমাথায় যাওয়ার রাস্তায় পা ফেললেই সামনে রয়েছে ৪৭নং জাতীয় সড়ক। উত্তরে তামিলনাড়ুর শেষ প্রান্ত থেকে দক্ষিণে ভারত মহাসাগরের পার অবধি আরব সাগরের উপকূল ঘেঁষে চলে গেছে চার লাইনের ৪৭নং জাতীয় সড়ক এবং তার দু’ধারের কিছু ফাঁকা জায়গা নিয়ে চওড়া হবে প্রায় একশ মিটারের কাছাকাছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যা থেকে সকাল অবধি সবসময়ই বিশাল বিশাল ষোল চাকার মালবাহী ট্রাক এবং নানা ধরণের যানবাহন এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করে।
...