এই প্রতিবেদনটি ভারতের অন্যতম বিতর্কিত এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প—সেতুসমুদ্রম শিপিং ক্যানেল প্রজেক্ট—নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ। লেখক অপরেশ ভৌমিক প্রকল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন, যা ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকার দ্বারা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত নৌপথ তৈরি করা, যা মান্নার উপসাগর এবং পক প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাবে। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে রামসেতু কেটে খাল খননের প্রস্তাবটি পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে ডঃ ট্যাড এস মূর্তি এবং ডঃ ভি সুন্দরমের মতো বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে, যারা প্রকল্পের বর্তমান রূপায়ণের পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। সুনামির ঝুঁকি, থোরিয়াম ভান্ডারের ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা সংক্রান্ত জটিলতার মতো বিষয়গুলো এই আলোচনায় উঠে এসেছে। লেখাটি একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বহুস্তরীয় প্রভাব এবং তার সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক বিতর্কের একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরে।

  • সাময়িক প্রসঙ্গ, শিলচর, ৫ই অক্টোবর ২০০৭

সম্পূর্ণ নথিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন (PDF)

View Extracted Text
সেতু সমুদ্রম প্রকল্প প্রসঙ্গে
-অপরেশ ভৌমিক-

সদীর্ঘকাল ধরে ভারতের পূর্ব ও উপকূলের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী ও অন্যান্য জাহাজ শ্রীলঙ্কা 
ঘুরে জলপথে ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে চলাচল করছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী অঞ্চলে 
মান্নার উপসাগর এবং পকপ্রণালী যে ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে তাতে এটা স্পষ্টই প্রতীয়মান যে,
মান্নার উপসাগর থেকে পকপ্রণালী পর্যন্ত যদি একটি জলপথ তৈরি করা যায় তাহলে ভারতের 
পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলোর মধ্যে যাতায়াত খুবই সুবিধাজনক হবে। এতে দূরত্ব কমবে,
সময় কম লাগবে এবং যাতায়াত খরচ অনেক কমবে। এই ভাবনাকে ভিত্তি করেই আজ 
সেতুসমুদ্রম জাহাজ প্রকল্পের কাজ বাস্তবে রূপায়িত হওয়ার পথে এগোচ্ছে।

এই যে ভাবনা, সেটা ডিএমকে সুপ্রিমো করুণানিধি কিংবা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর 
মস্তিষ্ক প্রসূত নয়। এই ভাবনা সুপ্রাচীন এবং এটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলে আসছে। 
পুরনো দস্তাবেজে উল্লেখ রয়েছে, ব্রিটিশ শাসনাধীনকালে ১৮৬০ ইংরেজিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর 
সেনাধ্যক্ষ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এ ডি টেলরই প্রথম এই অভিমত প্রকাশ করেন যে, মান্নার উপসাগর 
থেকে পক প্রণালী পর্যন্ত খাল খননের মাধ্যমে ভারতের পূর্ব পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলোর মধ্যে 
জাহাজ চলাচলের সহজ ও লাভজনক জলপথ তৈরি করা যেতে পারে। এডি টেলরের প্রস্তাবের 
ভিত্তিতে অনুসন্ধান এবং বিশ্লেষণের পর খাল খননের যে ছক দেওয়া হয় সেটা অধিক ব্যয়সাপেক্ষ 
বলে কার্যকরী হয়নি।

ব্রিটিশ চলে যাওয়ার পর স্বাধীন ভারতে ১৯৫৫ ইংরেজিতে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন
সরকার ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলোর মধ্যে জলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও 
সুগম করার অনুসন্ধান তথা উপায় উদ্ভাবনের জন্য কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটির চেয়ারম্যান 
ছিলেন ডাঃ এ আর মুডালিয়ার। তারপর সময় এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কমিটির চেয়ারম্যান ও 
পরিবর্তিত হতে থাকে এবং চেয়ারম্যানের নামানুসারে ওগুলোকে ভেঙ্কটেশ্বরন কমিটি, 
লক্ষ্মীনারায়ণ কমিটি প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়। দেখা যায় ২০০১ সালের ২ জুলাই মাদুরাইয়ে 
এক জমক ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেতুসমুদ্রম শিপিং ক্যানেল জার্নাল প্রকল্প বাস্তবায়নের 
সম্ভাবনা খতিয়ে খাল খনন করে সেতুসমুদ্রম প্রকল্পটি গুরুত্ব সহকারে গৃহীত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের 
লক্ষ্যে অনুসন্ধান ও পরামর্শের জনा কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট থেকে ৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। 
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে তুতিকরণ বন্দর কর্তৃপক্ষের (Tuticoron Port Trust) উপর কাজ 
পরিচালনার দায়িত্বভার ন্যস্ত হয়। তুতিকরণ বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজে গতি 
সঞ্চার করে। মান্নার উপসাগর এবং পক প্রণালীতে খাল খননে প্রযুক্তি গত কৌশল প্রয়োগ এবং 
সমুদ্রতল ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অবস্থান, পরিবেশ পরিবর্তন প্রভৃতি কী রকম হতে পারে তা 
খতিয়ে দেখে বিস্তৃত রিপোর্ট প্রদানের জন্য 
NEERI (National Environmental & Engineering Research Institute, Nagpur) 
কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ করে। NEERI অতি শীঘ্রই কাজ আরম্ভ করে এবং ২০০২ ইংরেজির 
শেষার্ধেই রিপোর্ট দাখিল করে। এনডিএ সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় সচেষ্ট থাকলে বৈজ্ঞানিক 
দৃষ্টিভঙ্গিতে সবকিছু পর্যালোচনা করে কোথায় কীভাবে খাল খনন করে জলপথ হবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত 
গ্রহণ করার পূর্বেই ক্ষমতাচ্যুত হয়। ২০০৪ সালের মে মাসে লোকসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্রে ইউপিএ 
সরকার ক্ষমতাসীন হয়।

২০০৪ সালের বাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং ওই সালেরই শেষপর্বে ২৬ ডিসেম্বরের অভূতপূর্ব ভয়াবহ 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সুনামি সেতুসমুদ্রম প্রকল্পের কাজ কিছুটা স্তিমিত করে দেয়। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না 
যেতেই সেতুসমুদ্রম প্রকল্প আবার সাবা ভারতে পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসে। ইউপিএ সরকারের 
প্রমমন্ত্রী মনমোহন সিং, সমর্থন করে ছাড়পত্র দিতে রাজি হননি। কানাডায় বসবাসকারী অটোয়া 
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সুনামি বিষয়ক আন্তর্জাতিক মান্নার উপসাগর এবং পকপ্রণালীর 
Science উপকূলে অবস্থিত বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী ও অন্যান্য of মাধ্যমে সেতুসমুদ্রম শিপিং 
ক্যানেল জার্নাল শ্রীকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সংযুক্ত দল কেন্দ্রে অটলবিহারী 
বাজপেয়ী ডিএমকে সুপ্রিমো করুণানিধি, তৃতিকরণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী টি আর বালু এবং অন্যানারা।

কেন্দ্রে অটলবিহারী বাজপেয়ী ডিএমকে সুপ্রিমো করুণানিধি, তৃতিকরণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী টি আর বালু এবং 
অন্যান্য। কেন্দ্রীয় সরকার তুতিকরণ বন্দর কর্তৃপক্ষের অধ্যক্ষতায় একটি সংস্থা গঠন করে। সংস্থার 
নাম দ্য সেতুসমুদ্রম কর্পোরেশন লিমিটেড। করবে। প্রথমিক অনুমানে এই প্রকল্প রূপায়িত হতে ব্যয় 
হবে ২৪২৭ কোটি টাকা। কেন্দ্র সরকার দেবে ৪৯৫ কোটি টাকা, বাকি টাকা জোগাবে তুতিকরণ 
পোর্ট ট্রাস্ট, নিশিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া, ড্রেজিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া, চেয়াই পোর্ট ট্রাস্ট, 
এগ্রোর পোর্ট ট্রাস্ট, বিশাখাপত্তনম পোর্ট ট্রাস্ট এবং পারাদ্বীপ পোর্ট ট্রাস্ট। তাছাড়া বাজারে শেয়ার 
বিক্রি করেও টাকা জোগাড় করা হবে।

প্রকল্প রূপায়ণে বাল কাটা হবে পদ্মন দ্বীপের অব্যবহিত দক্ষিণ-পূর্বে রামসেতুকে কেটে এবা 
পকপ্রণালীর অগভীর জায়গায়। বালের তলভাগ হবে ৩০০ মিটার চওড়া এবং সর্বনিম্ন জলের গভীরতা 
হবে ১২ মিটার। পম্বন দ্বীপের কাছে রামসেতুকে কেটে ৩৫ কিলোমিটার ড্রেজিং করে পলি অপসারণ 
করতে হবে এবং পক প্রণালীর উপর খালটির ২৮ কিলোমিটার ড্রেনিং করে পলি অপসারণ করতে হবে। 
প্রকল্পটি রূপায়িত হলে তুতিকরণ বন্দর থেকে চেন্নাই বন্দরের দূরত্ব কমনে ৪২৪ নটিক্যাল মাইল এবং 
সময় কমবে প্রায় ৩০ ঘণ্টা। জাহাজ চলাচলের জ্বালানি খরচ কমবে। আরও কত 
সুযোগ-সুবিধা হবে (1) এটা হচ্ছে সেতুসমুদ্রম কর্পোরেশন লিমিটেড, তামিলনাড়ু সরকার এবং 
ইউপিএ সরকারের প্রচার। শুধু প্রচার নয়, প্রচারের সাথে সাথে প্রকল্পটির কাজও শুরু হয়ে গেছে।

কিন্তু জনস্বার্থজড়িত এই বৃহৎ প্রকল্পটি যেভাবে ২ জুলাই ২০০৫ সালে ডিএমকে এবং কংগ্রেসের 
যুগল মিলনে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করল সেটা অনেক বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীর মতে ঠিক হয়নি। 
বর্তমানে খাল খননের যে পথ নির্ধারিত হয়েছে সেটা নেরির রিপোর্টে ছিল। কিন্তু নেরি রিপোর্ট 
দিয়েছিল ২০০২ সালের শেষার্ধে। তখনও দক্ষিণ ভারতের উপকূলে সুনানির আঘাত আসেনি। ভারতের 
দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর সুনামি কী রকম আঘাত করেছিল সে সম্বন্ধে সবাই 
অবগত আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রামসেতু থাকায় সমুদ্রের জলস্রোত বাধাপ্রাপ্ত হয়ে কেবলের পশ্চিম 
উপকূলে যতটুকু আঘাত করেছে বামসেতু না থাকলে তার আঘাত আরও ব্যাপক হত।

তাই পৃথিবীর বিশিষ্ট সুনামি বিশেষজ্ঞদের অন্যতম ডঃ ট্যাড এস মূর্তি ভূতিকরণ বন্দর কর্তৃপক্ষকে 
রামসেতু কেটে মাঝ সমুদ্রের মধ্য দিয়ে খাল খননের গ্রহণযোগ্যতা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বর্তমানে 
নির্ধারিত খাল খননের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে মতামত চেয়ে তাঁর কাছে ফ্যাক্সবার্তা পাঠিয়েছিলেন। 
ডঃ ট্যাড এস মূর্তি নিজের ভাষায় যা ব্যক্ত করেছিলেন তা হল-

I like the Setusamudram Shipping Canal Project, but there is a flaw. 
The entrance to the channel should be re-oriented towards the eastern side. 
Otherwise, there is a chance that it may create a deepwater 
route for another tsunami. This may cause huge destruction in Kerala.

তুতিকরণ বন্দর কর্তৃপক্ষ সুনামি বিশেষজ্ঞ ডঃ ট্যান্ড এস মূর্তির সতর্কবাণী গ্রাহ্য করেননি। 
ভাবা অ্যাটোমিক রিসার্চ সেন্টারের ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে যে, আনবিক জ্বালানি হিসেরে 
পোরিয়াম ভারতের আনবিক শক্তির বিকাশ ঘটাবে। আর এই থোরিয়াম উপাদানের বিশেষ ভাণ্ডার 
রয়েছে কেরলের সাগরতটে। বিশেজ্ঞদের মতে, সামুদ্রিক স্রোত যেভাবে রামসেতুতে আছড়ে পড়ে তারই 
ফলশ্রুতিতে থোরিয়ামের উপাদান সাগরতটে জমায়েত হয়। রামসেতু কেটে দিলে সামুদ্রিক স্রোতের 
বিশেষ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে থোরিয়াম উপাদান সঞ্চয়ের পথ বিঘ্নিত হবে।

তাছাড়া রামসেতু কাটার সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত রয়েছে। আবহমান কাল থেকে 
ভারত ভার ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী মান্নার উপসাগর এবং পকপ্রণালীর জলরাশি ভারত ও শ্রীলঙ্কার 
Historic water' নয় যা নাকি ১৯৯৮ সালে নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক উপকূলবর্তী সামুদ্রিক জলের অধিকার সম্পর্কে গৃহীত প্রস্তাবের পরিপন্থী। আমেরিকা মাল্লার উপসাগর ও পক প্রণালীর 
মধ্য দিয়ে তার নৌ বাহিনীর জাহাজ চলাচলের অধিকার বর্তাতে চায়। রামসেতু কেটে মাঝ-সমুদ্র 
দিয়ে জলপথ তৈরি করে কি আমেরিকার একতরফা ঘোষণাকে কার্যকরী করার পকে সহায়ক হবে না? 
তাহলে দেখা যাচ্ছে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের দেশের অফিসের উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর জমা দেওয়া 
হয় এবং সেগুলো NEERI কিংবা ভূ-বিজ্ঞানী, আবহাওয়া বিজ্ঞানী, সমুদ্র বিজ্ঞানী সুনামি বিশেষজ্ঞদের 
অভিমত ছাড়াই। যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর অফিস, কেন্দ্রীয় জাহাজ ও পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং তুতিকরণ 
বন্দর কর্তৃপক্ষ একযোগে প্রকল্প রূপায়ণে চূড়ান্ত অনুমোদনের কাজ সমাপ্ত করেছে তাতে জনস্বার্থের নামে 
ব্যক্তিগত ও দলীয় রাজনীতির স্বার্থরক্ষার প্রক্রিয়াটাই অব্যাহত রয়েছে। এই সব ঘটনা বিন্যাসে 
ডঃ ভি সুন্দরুন সেতুসমুদ্রন চ্যানেল প্রজেক্টকে একটি ছলনার স্মৃতিসৌধ এবং জাতীয় দুষ্কর্মের 
নিদর্শন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়
- SSCP is a monument of fraud & national infamy.

যদি তাই হয় তাহলে এটা কি মেনে নেওয়া উচিত। সেতুসমুদ্রম ক্যানেল প্রজেক্টটি কেবলমাত্র 
তুতিকরণ বন্দর কর্তৃপক্ষ, টি আর বালু কিংবা ডিএমকে সুপ্রিমো করুণানিধিদের ব্যাপার নয়। 
এটাতে জাতীয় স্বার্থ বিজড়িত। আসমুদ্র হিমাচল বিস্তৃত ভূ-খণ্ডের অধিবাসী, ভারতের আপামর 
জনসাধারণের স্বার্থ জড়িত। কাজেই ভূ-বিজ্ঞানী, পরিবেশ বিজ্ঞানী, সমুদ্র বিজ্ঞানী ও অন্যান্য 
বিশেষজ্ঞদের মতে রামসেতু কেটে খাল খনন করা উচিত নয় বলে অভিমত প্রকাশ করা সত্ত্বেও কেন 
সরকার ওই পথটাকেই চিহ্নিত করে সেতুসমুদ্রম শিপিং প্রজেক্টের চূড়ান্ত অনুমোদন করল। কেন 
রামেশ্বরম ও ধনুষ্কোটির মধ্যবর্তী মস্তপম গ্রামের নিকট থেকে খাল খনন করে নৌ পরিবহনের 
জলপথ তৈবি করা যায় না। এসব প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর সরকারের তরফ থেকে জনসমকে 
প্রকাশ করা উচিত। রাম-রামায়ণ সম্পর্কে অবান্তর মন্তব্য করে জনসাধারণের ভাবাবেগকে আঘাত 
করা ঠিক নয়। এতে জাতীয় পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা এবং বিপর্যয় ডেকে আনার সম্ভাবনাই বেশি। 
তাতে সেতুসমুদ্রম শিপিং চ্যানেল প্রজেক্টের বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হবে। কাজেই সবকিছু বিবেচনা করে 
রামসেতু না কেটে বিজ্ঞানসম্মত বিকল্প পথ বের করেই সেতুসমুদ্রম প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাম্য। 

(তথ্যসূত্র রামসেতু, ডাঃ এস কল্যাণরমণ)