Yes, I hate Shamik, Bilash and their associates হ্যা আমি শমীক, বিলাস এবং তাদের ঘৃণা করি। I hate myself. আমি নিজেকে ঘৃণা করি। অবশ্য কোন কোন সময়ে আমি শমীকদের প্রতি অনুকম্পা প্রকাশ করি। Sometimes I feel pity for them, sometimes I feel pity for myself. আমি আমার জন্য ও অনুকম্পা বোধ করি।

এ বলেই অনিকেত মদের গেলাসে চুমুক দিয়ে মুখ বিকৃত করে কিছুটা গলাধকরণ করল। তারপর সে মাথাটা ঝাকুনি দিয়ে চেয়ার ছেড়ে টেবিলে ভর দিয়ে একটু কাত হয়ে দাঁড়াল। মুখে জড়তা নিয়ে টেনে টেনে বলল, – No, I have made a mistake. আমি ভুল বলেছি। হ্যা ভুল। শমীক বিলাসকে আমি ঘৃণা করি না। I do not hate them. They are right. তারা যা করছে তা ঠিক করছে। আমি ঘৃণা করি প্রিন্সিপাল সামন্তকে। I hate Principal Samanta. I hate Principal Samanta not because of his sincerity, but because of his কি বলব? ধ্যাত শালা ইংরেজীতে কি বলব খুঁজে পাচ্ছি না। যাহোক, আমি প্রিন্সিপাল সামন্তকে তার সততার জন্য ঘৃণা করি না। ঘৃণা করি অজ্ঞতার জন্য। হ্যা অজ্ঞতা। অধ্যক্ষ সামন্তই শমীক বিলাস এবং আমরা সবাইকে বলেছিল যে আমরাই আগামী দিনের আলোক বতিকা। He told that we will be the torch bearer of the impending days. We, the Engineers will have vital role to make our Country prosperous. তিনি বলেছিলেন, আমাদের দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তুলতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। So we should study sincerely and try to be successful engineers. ‘তোমরা সত্যিকারের ইঞ্জিনীয়ার হতে ভালভাবে পড়াশুনা করো”।

এতটুকু বলে অনিকেত ঝিম ধরে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর সে চীৎকার করে বলল, - But what happened later on. তারপর হলোটা কি? শমীক বিলাস ভালভাবে পাশ করল। আমিও পিছিয়ে থাকি নি। We qualified ourselves as Engineers. আমরা ইঞ্জিনীয়ারিং পাশ করেছি। গণটুকাটুকি করে নয়। কিন্তু কিন্তু আমরা সামন্ত মশাইয়ের কথামত আলোক বর্তিকা হতে পারলাম না। We dot not find any role to make our country prosperous. কারীগরী বিদ্যায় পারদশিতার ছাড়পত্র নিয়ে আমরা হয়ে গেলাম অপাংক্তেয়। শিক্ষা লাভ করার পর মালিকদের নিকট শমীক বিলাস এবং আমরা হয়ে গেলাম ফুটবল। অনন্তরাম কটন মিলস, বলদেও সিং এণ্ড কোং ব্রীজ মোহন কন্ট্রাকশন প্রভৃতির হরসুন্দর কুশলরামরা বেওয়াড়িশ কুত্তাকে রুটি ছিড়ে লোভ দেখানোর মত কেবল আমাদেরকে লোভ দেখিয়ে হয়রান করেছে হ্যাঁ, ওরা আমাদেরকে কুত্তার মত ব্যবহার করেছে। আর তখন ওদের সুন্দর মাজ্জিত অট্টালিকার সামনে এলসেসিয়ান কুকুর গুলোকে দেখে আমাদের গায়ে জ্বালা ধরেছে। তখন একদিন আমি ঘুরতে ঘুরতে প্রিন্সিপাল সামন্তের কাছে গিয়েছিলাম। আমি স্যারকে শমীক বিলাস এবং আমার কথা বলেছি। স্যার তখন দরদ দিয়ে আমার কথা শুনে আবেগ ভরে বলেছেন- ‘দেখ অনিকেত তোমাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। কিন্তু কি করব? আমাদের যে ছকে বাঁধা কাজ করতে হয়। We are paid to render service only under certain frameworks. We can not go beyond that. আমরা নির্দ্ধারিত ছকের বাইরে যেতে পারি না।

সেদিক স্যারের মমতা জড়ানো কথা শুনে নমস্কার জানিয়ে ফিরছিলুম। কিন্তু আজ? আজ আমাকে চীৎকার দিয়ে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে যে কেন তিনি বলছিলেন যে আমরা আগামী দিনের আলোকবতিকা হব? Why did he say that we will have vital role to make our country prosperous? তিনিই আবার কেন আমাদের অসহায় অবস্থা দেখে বলেছিলেন যে নিদ্ধারিত ছকের বাইরে তিনি কিছু করতে পারেন না? তিনি কি বুঝতে পারেন না কেন অনন্তরাম কটন মিলস, বলদেও সিং এণ্ড কোং এবং ব্রীজমোহন কন্ট্রাকসন প্রভৃতির হরসুন্দর কুশলরামরা তাঁর সাধের চৌকষ ছাত্রদেরকে নেড়ি কুত্তার মত ব্যবহার করে? হরসুন্দর কুশলরামরা তাদের খেয়াল খুশীতে কেন তাঁর আগামীদিনের আলোক বতিকাদেরকে নিভিয়ে দিচ্ছে? সেটা যদি উনি না বুঝেন, না জানেন তাহলে আমি উনাকে ঘৃণা করি। I hate him…

– আঃ অনিকেত, গুরুকে নিয়ে টানাটানি করিসনে। তুই দেখছি শালা মাল খেয়ে বেসামাল হয়ে যাচ্ছিস্।

-ভ্যাট, আমি মদ খেয়ে কোনদিন বেসামাল হইনি। তবে হ্যাঁ, মাল খেলে শালা আমার অবদমিত যতসব ক্রোধ,

জিঘাংসা এবং বাসনা আছে সেগুলি চিড়বিড়িয়ে মাথাতে নাড়া দিতে থাকে। সাধারণ অবস্থায় যাদেরকে শুয়োরের বাচ্চা বলে মনে হয় অথচ বলতে পারি না তাদেরকে চীৎকার দিয়ে শুয়োরের বাচ্চা বলি। যাদেরকে Coward hypocrate বলতে ইচ্ছে হয় তাদেরকে বলি। কিন্তু সামন্ত মশাইকে আমি তেমনভাবে বলি না। আমার মনে হয় সামন্ত মশাই সে সমস্ত চুতিয়ার বাচ্চা হাড় বজ্জাতদের মত নয় যারা হরসুন্দর কুশলরামদের স্বার্থ চরিতার্থ করার স্বার্থেই ভণ্ড সেজে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। নিজ পেটোয়া মোসাহেবদের দ্বারা পরিবৃত হয়ে মুখে মধু লাগিয়ে আজকের যুব সম্প্রদায় degenerated হয়ে গেছে বলে রব তুলে, কর্ম বিমুখ হয়ে গেছে বলে নাক সিঁটকায়। অসহায় লোক এসে সাহায্য প্রার্থনা করলে দরজা আগলে বলে গতর খেটে রোজগার কর। বলি শালা, তোরা কোনদিন গতর খেটে কাজ করে খাবার মত ব্যবস্থা করে দিতে পারিস? যে সমস্ত লাখো লাখো কর্মসংস্থানের জন্য হস্যে হয়ে পথে পথে ঘুরে মরছে তাদের কোন বাবস্থা করতে পারিস? তোরা ত কেবল নিজেদেরকে নিয়েই আছিস। তবে কেন দরজা আগলে বলিস্ গতর খেটে খাও? জ্ঞানের ঢিবি হয়ে জ্ঞান বিতরণ করে! আমার প্রিন্সিপাল সামন্ত মশাই কিন্তু তেমনটি নয়। সামন্ত মশাই উদ্দেশ্য, প্রণোদিত হয়ে খারাপ কাজ করে না। তাই আমি হাড় বজ্জাত চুতিয়ার বাচ্চাদের মত সামন্ত মশাইকে গালি দেই না। তবে ঘৃণা আমি ঠিকই করি। কারণ সামন্ত মশাই অনেক কিছু জেনে শুনেও সেটা জানে না যে, কেন তাঁর আগামী দিনের আলোকবর্তিকা সব নিভে চুপসে যাচ্ছে। অনিকেত মদের বোতল থেকে তার গ্লাসে আরও মদ ঢেলে নিল।

এবার সে মুখ বিকৃত করে ঢোক গিলল না। ঠাকুর বাড়ীর পৈতাধারী পূজারী বামুনের কাছ থেকে চরণ অমৃত নিয়ে ভক্তেরা যে রকম চুক করে খেয়ে ফেলে অনেকটা ঠিক তেমনিভাবে অনিকেত চুক করে মদ খেল। তারপর সে বলল, শর্মীক এবং বিলাস ভালই করেছে। ওরা ষ্টেটসে চলে গেছে ভালই করেছে। সেখানে ওরা নাই বা হতে পারল চীফ ইঞ্জিনীয়ার, তাতে ক্ষতি কি? সেখানে ওরা হলই বা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক, তাতেও ক্ষতি কি? গতর খেটে ওরা ত বেশ কিছু ডলার সঞ্চয় করার সুযোগ পেয়েছে। ভাল খেয়ে পড়ে নাদুস নুদুস হচ্ছে এবং এখানে সংসার দরিয়ায় খড়কুটোর মত ভেসে যাওয়া বুড়ো বাপদেরকে ত ডলারের বিনিময়ে বেশ মোটা টাকাই পাইয়ে দিচ্ছে। শমীক যখন এখানে হরসুন্দর কুশলরামদের পাল্লায় পড়ে চকিবাজি খাচ্ছিল তখন ওর বুড়ো বাপের আমসির মত মুখ খানা সব সময়ই পাংশা হয়ে থাকত। এখন অবশ্য প্রায় সময়ই শমীকের ডলার পেয়ে বুড়োর আমসি মুখে হাসির রেশ বরে থাকে। শমীক, বিলাশ ওরা ভালই করেছে। কিন্তু শমীক এবং বিলাস ষ্টেটসে চলে যাবার পর প্রিন্সিপাল সামন্ত মশাই একদিন আমাকে বলছিল ‘অনিকেত তোমাদের মধ্যে অনেককে দেখছি বিদেশে চলে যাওয়ার রোগে ধরেছে। শমীক বিকাশ ষ্টেটসে চলে গেছে। এমনি ভাবে সবাই বিদেশে চলে গেলে হবে কি করে। আরে, নিজের দেশের জন্য মায়া থাকা দরকার’।

হায়রে আমার দেশের মায়া! দেশের জন্য মায়া। তুমি ত প্রিন্সিপাল মশাই মায়ায় খুব আচ্ছন্ন আছ। দীর্ঘদিন ধরে তোমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে মায়া করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপরওয়ালার হুকুম তামিল করে সেবা করে যাচ্ছ আর প্রতিদিনই ইঞ্জিনীয়ার তৈরী করছ ভেবে ফেঁপে ফুলে উঠছ- ঢোল পিটিয়ে নিজের গর্ব প্রকাশ না করলে ও এটা ভেবে নিজে। নিজে পুলকিত হচ্ছ। নিজের সীমাবদ্ধ আবেষ্ঠনীর বাইরে গিয়ে কোন দিন ভেবে দেখেছ কি কোন আকর্ষণে তোমার তালিমে তৈরী ইঞ্জিনীয়ার দেশের মায়ায় আবদ্ধ হবে? মোটামোটি পরিপূর্ণতা লাভ করে, তোমার দরজা পেরুলেই ওদের মন আকাশের রঙীন ফানুস ফুটো হয়ে ধুলায় মিশে যায়। ওদের অস্তিত্বই যে তখন বিপন্ন। প্রিন্সিপাল সামন্ত মশাই তুমি কি এমন একটা কিছু দিতে পার যাতে, যারা বিগত দিনে মোটামুটি পরিপূর্ণতা নিয়ে তোমার ঘাট পেরিয়ে এসেছে তাদের মন আকাশে রঙীন ফানুস উড়িয়ে যথার্থভাবে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে? তুমি হয়ত ওদের কথা ভেবে কষ্ট পাও, দুঃখ পাও। কিন্তু তুমি সেটার প্রতিকারে এগিয়ে আস না। তুমি বিদ্রোহ কর না। তাইত আমি তোমায় hate করি। I hate. … hate and…

-আঃ অনিকেত, তুই সেই প্রথম থেকেই hare hate আর hate নিয়েই আছিস। এ ছাড়া কি তোর আর কিছু নেই?

– Who says এ ছাড়া আমার আর কিছু নেই? আমার Love আছে। আমার respect আছে। আমি ভালবাসি. শ্রদ্ধা করি। Yes, I love নয়ণ। আমি নয়ণকে ভালবাসি। কিন্তু এখন নয়ণ কোথায় আমি জানি না। নয়ণ বলছিল- জানিস অনি, আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হল সাম্রাজ্যবাদ। Imperialism is the greatest enemy of the present era. সাম্রাজ্যবাদকে ঝেটিয়ে দূর করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদই অসংখ্য মানুষের হাহাকার, দুঃখ বাড়িয়ে তুলছে। এই যে আমাদের দেশে অসহায় লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, সেটা কেন? কেন আজ তোর আমার মত মধ্যবিত্ত পরিবার সচল দিন যাপনের পরিবর্তে ক্রমান্বয়ে দুর্বিপাকে পড়ে অচল হয়ে যাচ্ছে? কেন আজ রাস্তা-ঘাটে ভিক্ষুকের মিছিল বইয়ে যায়? কেন রাস্তা-ঘাটে, ষ্টেশনে অপুষ্টিকর জনিত রোগে আক্রান্ত অসুন্দর শীর্ণকায় আমার দেশের বারো তের বছরের ছেলেরা উদ গ্রীব হয়ে অপেক্ষা করে দেখে কখনও কোন মহানুভব কিছু খাবার ফেলে দেয় কি না? কেন আজ কেবল অস্থিসার হারগিলের মত বুভুক্ষ এবং নিরন্ন জনস্রোতের জোয়ার বইছে? কেন প্রাণ প্রাচুর্য হারিয়ে কেবল নেতিয়ে যাচ্ছে। অথচ আশ্চর্য! ওরা কিন্তু তাদেরই বশংবদ যারা ঝড়ো হাওয়ায় পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরীর উত্তাল তরঙ্গের ঘাত প্রতিঘাত উতড়ীয়ে পণ্য সম্ভার নিয়ে পাড়ি দিয়েছে। ওরা তাঁদেরই উত্তর পুরুষ যারা গলা জলে দাঁড়িয়ে, শ্বাপদ প্রাণীর ভয় উপেক্ষা করে পাট কেটে Maclod, David Company’ র জাহাজ বোঝাই করেছে। ওরা তাঁদেরই বংশধর যারা তিতাস নদীর গভীর জলে ডুব দিয়ে বুকে ভাজা করে মাছ তুলে নিয়েছে। কিন্তু আজ? আজ ওরা-দৌড়াতে পারে না। উচ্ছিষ্ট খাবারের জন্য ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু কেন?

অনিকেত আরও মদ খেল। তারপর সে বলল;- নয়ণ বলেছিল এই কেনর উত্তর পেতে হলে শেষ পর্যন্ত যা আসে সেটা হচ্ছে imperialists and their running dogs - সাম্রাজ্যবাদী এবং তাদের পা চাটা কুকুররা। আমি চাই শমীক, বিলাস স্বদেশে থেকেই কারীগরী বিদ্যায় পারদর্শী হোক, আমি চাই নিরন্ন, বুভুক্ষু ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকা অস্থিসার জনস্রোতের মধ্যে প্রাণ প্রাচুর্য আসুক। আমি চাই গ্রামের চাষা বধুটির ঘরের হাড়ি যেন প্রতিনিয়তই উনুনে চাপে। আমি চাই যেন শ্রমিক স্বততই কারখানার চাকা ঘুরিয়ে যক্ষায় অসময়েই খুইয়ে না যায়। কিন্তু আমার যা চাওয়া তা হচ্ছে না। প্রগতিকে শুদ্ধ করে দিতে প্রতিক্রিয়াশীলরা একখাট্টা। অথচ আমি কিছুই করতে পারি না। এমতাবস্থায় প্রিন্সিপাল সামন্ত মশাই নিজের সুরক্ষিত খুপড়ীতে বসে জ্ঞান দেয় বলে, অনিকেত কাজ করে যাও’। ও বেটা রূঢ় বাস্তবকে সামগ্রিক ভাবে বিচার করে। শুধু তাই নয়। আমি যা পারি না সে তা পারে। প্রিন্সিপাল সামন্ত যা পারে না, সে তা পারে। সে জানে প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায় সঙ্গত। সে জানে to revolt against reactionaries is justified – তাই সে বিদ্রোহ করেছে। সে আমার মত ভীরু নয়। He is not a coward like me. তাই ত হরসুন্দর কুশলরামরা ওকে ভয় পায়। ওরা নয়ণদের অস্তিত্ব বিলোপ করে দিতে চায়।

কিন্তু নয়ণ সেটা জানে। নয়ণ জেনেই পথে পা বারিয়েছে। সে বরং উল্টো হরসুন্দর কুশলরামদের অস্তিত্ব রক্ষাকারী ভজ ভজ গুরুদেব সাম্রাজ্যবাদে ধারকবাহকদের অস্তিত্ব বিলোপ করার চেষ্টায় সচেষ্ট। নয়ণ বলেছে, ‘প্রকৃতিকে বশ করেই শ্রমজীবি মানুষরা যৌথ প্রচেষ্টায় সম্পদ সৃষ্টি করছে। শ্বাপদ হিংস্র প্রাণীর ভয় তুচ্ছ করে, প্রকৃতি প্রদত্ত বস্তুকে দলিয়ে মাড়িয়ে চাষী ভাইরা সোনালী পাট তৈরী করে, মেঘনা পদ্মার করাল স্রোতের প্রতিকুলতাকে বসে এনে সাম্রাজ্যবাদের লেজুড় Maclod, David, Company, র জাহাজ বোঝাই করেছে। সকাল সন্ধ্যায় রোদ বৃষ্টিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চাষীরা সম্পদ সৃষ্টি করে রায়বাহাদুর শ্রী বেল মশাইদের গোলা পরিপূর্ণ করেছে। শ্রমিক প্রতিনিয়ত কলের চাকা ঘুরিয়ে Maclean কোম্পানীর শ্রী বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। আমার সোনার দেশের শ্রমজীবি মানুষরা সোনা ফলিয়েছে। David, Maclod রায়বাহাদূর বেলমশাইরা দেশের সোনা সব নিজেদের কাছে আগলে রেখেছে। শ্রমিক কৃষক ও অন্যান্য শ্রমজীবি মানুষদের যৌথ প্রচেষ্টায় সৃষ্ট আমার দেশেয় অমূল্য সম্পদের অধিকারী শ্রমজীবি মানুষরা হতে পারেনি। ক্রমে ক্রমে David, Maclod, এবং রায়বাহাদুর বেলমশাইদের উত্তর সুরী হরসুন্দর কুশলরামদের ক্রীড়নক হয়ে কৃষক, শ্রমিক প্রভৃতি শ্রমজীবি মানুষের উত্তর পুরুষরা সারা দেশময় বইয়ে দিচ্ছে নিরন্ন ও বুভুক্ষুর মিছিল আর মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত সমাজের আত্মসচেতন সম্পন্ন বুদ্ধিমানেরা হরসুন্দর কুশলরামদের সৃষ্ট ফাটা বাঁশের মধ্যিখানে পড়ে কেবলাইয়া রইছে। নয়ণ বলছিল এই ধারাটাকেই পাল্টে দিতে হবে। অফুরন্ত সম্পদ সৃষ্টিকারী আমার দেশের আপামর জনসাধারণ দেশকে বৈভবশালী করতে সাম্রাজ্যবাদী ও তার দোসরদের সেবা করে যাবেনা। যারা সাম্রাজ্যবাদের সেবায় কর্ণধারের নামাবলী গায়ে দিয়ে শ্রমিক কৃষক ও শ্রমজীবি মানুষের সৃষ্ট অমূল্য সম্পদ লোক চক্ষুর অন্তরালে বিদেশে পাচার করে সেখান থেকে উচ্ছিষ্ট খাবার এনে আমার দেশের নিরন্ন মানুষের মধ্যে ছিটিয়ে দিয়ে পরিতৃপ্তি লাভ করে, তাদেরকে ঝেটিয়ে দিতে হবে। নয়ণ এসব বলছিল। শুধু তাই নয়, নয়ণ বিদ্রোহ করেছে, তাইত হরসুন্দর কুশলরামরা ওকে সমাজবিরোধী বলছে।

কিন্তু আমি কি বলব? না-নয়ণ আমার কাছে সমাজবিরোধী নয়! নয়ণ চাইছে সমাজ সুন্দর হোক। আমার দেশ স্বয়ং সম্পূর্ণ হোক। আমার দেশের নিরন্ন জনস্রোতের জোয়ার শেষ হয়ে সবাইর মধ্যে প্রাণ প্রাচুর্য ফিরে আসুক। সে চাইছে এবং কাজ করছে। অনিকেতের মদ খাওয়া এবং ভারনার ফাঁক দিয়ে রাতের ঘড়ি অনেকদূর এগিয়ে গেছে। রাতের নীরবতা ভেদ করে দূরে থানার গারদ থেকে ভেসে আসা ঢং ঢং, আওয়াজ ওর সম্বিৎ ফিরিয়ে দিল। অনিকেত ভাবল, শালা আমি মদ খেয়ে - খেয়ে রাত কাবার করে দিচ্ছি। শমীক, বিলাস ওরা দুনিয়ার বিশিষ্ট আড়ম্বরপূর্ণ ঝলমল নগর নিউইয়রকে থেকে নিজেদেরকে ঝলমলিয়ে নিচ্ছে, সামন্ত মশাই স্বভাবসিদ্ধ অনুযায়ী ঘুমিয়ে আছেন। ভারতবর্ষের প্রতিটি রেলষ্টেশনে নাঙ্গ। আধানাঙ্গা হয়ে মানুষ কাতরাচ্ছে, অনেকের বুঝিবা কাতরা নোর ও শক্তি নেই। আর নয়ণ? নয়ণ কি করছে? নয়ণ হয়তবা বিলাসগঞ্জের পাড়াগায়ে কোন চাষার ঘরে বসে তৈরী হচ্ছে রাতের অন্ধকার মিলিয়ে যাওয়ার পূর্ব্বেই কি ভাবে গ্রাম পাড়ি দিয়ে “অগ্রগতির মেলে” খবর পৌছে দেওয়া যায়।

– গণমুখ শারদ সংকলন: ‘৭৩