মলির জন্যেই বাড়তি জ্বালাটুকু সহ্য করতে হচ্ছে। অফিসে দশটা পাঁচটায় কোন ঝামেলা নেই। চেম্বারে সীটের পাশেই আলাদা একটা ষ্ট্যান্ডে জুতসই ভাবে ফোনটা রাখা হয়েছে। আড়াই হাজার টাকার অল পারপাস চেয়ার টায় হেলে বা হাত বাড়ালেই রিসিভারটা হাতের মুঠোয় চলে আসে। ইচ্ছে হয় কানে মুখে লাগিয়ে হ্যালো করো না হয় পড়ে থাক। ক্রিং ক্রিং শব্দ শুনে অফিসের কেহ না কেহ অবশ্যিই ধরবে। কিন্তু বাসারটা নিয়েই হচ্ছে ঝামেলা। সময়-অসময়ের জ্ঞানগম্যি নেই, যখন তখন ক্রিং ক্রিং করে মাথাটা বেদুরস্ত করে দেয়। ডাইনিং টেবিলে জুত হয়ে বসে খাবারটা মুখে দিতে যাচ্ছ আর ঠিক তখনই টেলিফোনটা চীৎকার করে উঠবে। অথচ আশ্চর্য্য, যে মলির পীড়াপীড়িতে লাইনটা অফিস থেকে রেসিডেন্সে এক্সটেনশন করা হয়েছে সে তখন নির্বিকার। সকাল বিকাল যখন ফোন আসে সে হয়ত খাটে শুয়ে ইভস, ম্যাগাজিনের চটকদার রঙীন ছবিগুলো ওলোট পালোট করে দেখবে কিংবা দুপুর বেলা এলোচুলে ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দেখে আক্ষেপ করে বলবে, “ইস্ এ রকম একটা পাঁচশ টাকার হেয়ার ড্রায়ার না থাকায় ভিজে চুলে কি ঝামেলাই না পোহাতে হচ্ছে।” অন্যদিকে ফোনটা বাজতেই থাকবে।
ভোর না হতেই ফোনটা এক নাগাড়ে বাজতে থাকে। শব্দ শুনে ব্রজমোহন হকচকিয়ে উঠে। অনেকটা ছোট বেলায় ঘড়ির এলার্ম শুনে ঘুম ভাঙ্গার মত। চোখ মেলে ব্রজমোহন দেখে দেয়ালের পাশে ছোট টেবিলটায় পুচকে দূরভাষ যন্ত্রটা একটানা ঘ্যানোর ঘ্যানোর আওয়াজ দিচ্ছে। সকালের মিষ্টি ঘুমের আমেজটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রিয়দর্শিনী লাল টুকটুকে মার্জিত দূরভাষ ধন্ত্রটাকে ওর ভীষণ অপ্রিয় মনে হচ্ছে। তবুও সেটার ছটফটানি বন্ধ করতে ব্রজমোহন খাট থেকে ওঠে। সে দেয়ালের পাশে গিয়ে ছোট্ট টেবিল থেকে প্রিয়দশিনীকে টেনে মুখের কাছে এনে বলে, হ্যালো।
-আপনি কি মিঃ চৌধুরী?
হ্যাঁ।-গুড মনিং, আমি জেলা প্রেসিডেন্ট অবিনাশ রায় বলছি! -
-আচ্ছা, কি ব্যাপার বলুন। -আপনি কাইণ্ডলি মলিকে একটু ডেকে দিন।
ব্রজমোহন আড়চোখে মলির দিকে তাকাল। মরা বেঙের মত উপুড় হয়ে খাটের উপর বেহুশে লেপটে আছে। এখন ওর বাপেরও সাধ্যি নেই মলিকে ডেকে ফোনের কাছে আনবে। সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, শুনুন মলিকে এখন ডাকা যাবে না। আপনি বরং পরে রিং করুন। এ বলেই ব্রজমোহন ফোনটা ছেড়ে দিতে চায়। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে শব্দ তরঙ্গ তড়িৎ বাহিত হয়ে ব্রজমোহনকে চুম্বকের মত আটকে রাখে। অবিনাশ রায় বলছে, - শুনুন কাল সন্ধ্যায় মলি আমার সাথেই ছিল। ও বলেছিল সকাল বেলায় পার্টির মণ্ডল কমিটির মিটিং এ এটেন্ড করবে তাই ভোরে রিং করতে। আপনি আমার কথা বলুন তাতেই হবে।
ব্রজমোহন রেগে ওঠে। কিন্তু সেটা এই দূর ভাষের মধ্য দিয়ে অবিনাশের নিকট পৌঁছে দিতে পারে না। সে দাঁতে দাঁত চেপে রাগ সংযত করে মিষ্টি ভাবে বলে- শুনুন, সী ইজ ইন দা টয়লেট। এ বলেই ফোনটা রেখে দেয়।
মলি গেলো রাত দশটায় বাড়ি ফিরেছে। আজকাল পার্টির কাজে প্রায়ই ও বাইরে থাকে। জরুরী অবস্থার পর এলাকায় গোটা দলটা যখন মার খেয়ে ল্যাংচাতে থাকে তখন দেশের নড়বড়ে কাঠামো চাঙ্গা করে তুলতে মলির মনটা চাওড় দিয়ে ওঠে। সে ঝোলা কাঁধে বেরিয়ে পড়ে। জোর কদমে এগিয়ে চললে জনগণের রায়ে মলি চৌধুরীই নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের আপাত ভ্যাকুয়াম পূরণ করে দিতে পারে। মলি এসব নিজে নিজে ভেবে খুব আনন্দ পায়। মাঝ বয়সে হঠাৎ চেপে বসা মলির দেশপ্রেম ব্রজমোহনের দাম্পত্য প্রেমে বিশেষ কোন পরিবর্তন আনেনি। ইউনিভাসিটির শেষ ধাপের পড়া চুকিয়ে চাকুরীতে বহাল ব্রজমোহন বুক ভরা রঙীন আশা নিয়ে বল্লাহীন ঘোড়ার মত ওর যৌবনকে চালিত করে। তখন এক অভাবনীয় ভাবেই কিশোরী মলি ওর সামনে এসে হাজির হয়। পদ্মকলির মত মলির দুচোখের টান ব্রজমোহন কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারে না। কোন এক ঐন্দ্রজালিকের নির্দেশে প্রচণ্ড অশ্বশক্তি নিয়ে ঘণীয়মান মেশিনটা যেন হঠাৎ থেমে যায়। ব্রখমোহন বাহু বন্ধনে মলিকে সাথী করে নেয়। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পরই ব্রজমোহন টের পায় সাংসারিক জীবনের মধু পর্ব উন্মুক্ত কপূরের মত অচিরেই উবে যাচ্ছে। কাজল নয়না হরিণীর মত মলির দুচোখ শিকারীর মনে মায়াবী আবেশ জড়িয়ে দেয়। আপাতদৃষ্টিতে মলি শান্ত মাজিত। ওর স্নিগ্ধ মিষ্টি চাহনি সবাইকে কাছে টেনে নিলেও সে ক্ষিপ্রগতি পাহাড়ী নদীর মত চঞ্চলা একটু পরে পরেই বাঁক নেয়। কিন্তু ব্রজমোহন পারে না পুরোপুরি মলিকে উপেক্ষা করতে। একই সাথে দিন যাপনের ফলশ্রুতিতে ছেলে মেয়ে নিয়ে একটা পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করলে ও সেটার বন্ধন খুব শক্ত কিংবা অটুট নয়, ঢিলে ঢালা জটপাকানো পুরনো সুতো পাশাপাশি জড়িয়ে থাকার মত।
– তোমার অফিসে আমাদের কয়েকটা লোককে চাকুরী দিতে হবে।
ঘুমোবার আগে মলি ব্রজমোহনকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল। সে তখন কোন উত্তর দেয়নি। অবিনাশ রায়ের ফোন পেয়ে ব্রজমোহনের মনে হল মলি আমাদের বলতে ওর পার্টিকেই মীন করেছিল। রাজ্য অফিস থেকে নূতন লোক নিয়োগের ফর্মাল অর্ডার আসার আগেই ব্রজমোহনের অফিসে ফিস ফিস কানাকানি চলতে থাকে। ফর্মাল অর্ডারটা আসার পরই বাতাস গরম হয়ে যায়। মেজসাহেব, বড়বাবু ছোটবাবুদের বাড়তি আনাগোনা এবং ঘুর ঘুর শুরু হয়ে যায়। মেজসাহেব মজুমদার সাত ঘাটের জল খেয়ে এখন এখানে জুতসই খুটি গেড়ে বসেছে। তিনি খুব করিত কর্মা লোক বলেই ‘হাতুড়ি পেটা’ বিদ্যা নিয়ে একটার পর একটা সিড়ি বেয়ে এখন পদমর্যাদায় বিভাগীয় প্রধান। বিশেষ কাজের জন্য কখন বড়সাহেবের সুইংডোর ঠেলতে হয় সেটা মজুমদার খুব ভাল জানে।
– নূতন লোক কি ভাবে নিচ্ছেন স্যার? সেদিন চেম্বারে ঢুকে মজুমদার জিজ্ঞেস করেন।
– কি ভাবে নিচ্ছি মানে? ব্রজমোহন পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বাঁকা চোখে তাকান।
এভাবে বড়সাহেবের পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবেন এটা মজুমদার আশা করেনি। কথাবার্তার ধরনটা এরকম হলে সহজভাবে এগুতে কেমন বাঁধো বাঁধো ঠেকে। তবুও কিছুটা সহজ হয়ে মজুমদার বলল, - না, মানে ছেলে ছোকরারা এসে খবর করছিল কি ভাবে আমরা লোক নেব। আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেব, সময়মত ইন্টারভ্যু হবে এবং এজ পার মেরিট বেষ্ট কেণ্ডিভেট চাকুরী পাবে। বড়সাহেব বলেন। মজুমদার কথার পিঠে কথা জুড়ে হয়ত বা আরো কিছু চালিয়ে যেত কিন্তু ব্রজমোহন চেয়ার ছেড়ে ওঠে পড়েন। বাধ্য হয়ে ওকেও ওঠতে হয়। তারপর দু’জনই চেম্বার থেকে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মজুমদার পাশ থেকে চলে গেলে ব্রজমোহন মনে মনে বলে, - শালা বাটপার, কদিন আগে ও আমার নাম ভেঙ্গে ছেলেদের থেকে টাকা খেয়েছো। এবার তোমায় পাত্তা দেবো কচু। আমার হাতে হুকো থাকবে আর তুমি শিয়ানের পো তামাক টানবে সেটি হতে দেবো না। ব্রজমোহন মেজো থেকে বড় সাহেবে উন্নীত হয়েছে। মেজোর গন্ধটা এখন ও ওর আচার আচারণ থেকে পুরোপুরি উঠে যায়নি। কিন্তু মেজো থেকে বড় হয়েই কি লাভ যদি সেই তকমার গুণে ঘরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার উপচে পড়তে অন্তঃসলিলা ফল্গুধারা বয়ে চলে? আজকাল প্রায়ই এধরণের আক্ষেপ মাঝে মাঝে হানা দিয়ে ব্রজমোহনের মনে জ্বালা ধরিয়ে দেয়। ইচ্ছে হলে কালই সে ভলান্টিয়ার রিটায়ারমেন্টে চলে যেতে পারে কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশেষ কিছুই করতে পারেনি। প্রথম শ্রেণীর সরকারী অফিসার হয়েও ওর সব কিছুতেই নাই নাই। অথচ ওর ছোট ভাই জগমোহনের ব্যাপারটা আবার আলাদা। এই সেদিন ইঞ্জিনীয়ারিং পাশ করে ফ্লাড কন্ট্রোলে ঢুকেছে। ছোকরা এরই মধ্যে কি না করেছে! ফ্রিজ, টেলিভিশন গাড়ী সব কিছুই আছে। ও এখন ভাবছে একটা ভিডিও রেকর্ডার কিনবে। টিভি নিয়ে বাংলাদেশের কর্ম কর্তাদের ফিক্সড প্রোগ্রামের জন্য তীর্থের কাকের মত হা করে বসে থাকতে হয়। ভিডিও রেকর্ডারে সে ঝামেলা নেই। যখন খুশী ইচ্ছেমতো ক্যাসেট লাগিয়ে রিলাক্স কর, বাস। এসব ভেবে ব্রজমোহনের বড় আফশোস হয়। ওর মনে হয়, বড় সাহেবের লেবেল এটে সে মরুভূমির বুকে চেয়ার নিয়ে বসে আছে আর এক ফোটা জলের জন্যে হা পিত্যেশ করে মরছে।
সে জগমোহনের মত হতে পারবে না। কোমল শ্যামলিমার নিবিড় ছোয়া সে কোনদিনই পাবে না। শুষ্ক বালুচরে তপ্ত হাওয়ায় পুড়ে পুড়ে এক ফোটা জলের জন্যেই ছুটোছুটি করতে হবে। মলির ক্ষোভটাও সে জন্যেই। ভুঁইফোড় লোকদের নিত্য নূতন উপকরণের সামগ্রী সে যখন চাইছে সন্তোষজনক ভাবে পাচ্ছে না। মলির ফাইফরমাস এবং এটা সেটার প্রয়োজনে ব্রজমোহনের মাসকাবারে পাওনা টাকা গুলো এক সপ্তাহেই ফুরুৎ হয়ে যায়। টানাপোড়েনে বাধ্য হয়েই ব্রজমোহন অফিস ক্যাশে নজর দেয়। অসুবিধাটুকু সুখফুটে বলা মাত্রেই অফিসের ক্যাশিয়ার লকার থেকে টাকা বের করে সাহেবের হাতে তুলে দেয়। এর পর থেকে ব্রজমোহনের একটা হাত অফিস ক্যাশে বরাবরের জন্যেই ডুবে রয়েছে। কিন্তু ক’দিন হলো এ ব্যাপারে অফিসের ক্যাশিয়ার ছোকরা গাই গুই করছে। সেদিন ব্রজমোহন চেম্বারে বসে একা একা ফাইল দেখছিল। হঠাৎ সে ঢুকে গম্ভীর হয়ে, বলল,
– স্যার, তাড়াতাড়ি একটা কিছু না করলে অসুবিধা হবে। আগারওয়ালা জৈন এবং ছোট ছোট আরো কয়েকটা পার্টি তাদের পেমেন্টের জন্য পীড়াপীড়ি করছে। ক্যাশে প্রায় পনেরো হাজার টাকা ঘাটতি। ব্রজমোহন ফাইল থেকে চোখ তুলে ক্যাশিয়ারের দিকে তাকায়। ক্যাশিয়ার মাথা নিচু করে বড় সাহেবের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।
– টাকার অঙ্কটা বড় বেশি মনে হচ্ছে, আপনি সব ঠিক মত দেখেছেন?
– মোটামুটি এরকমই হবে স্যার। প্রত্যুত্তরে ক্যাশিয়ার বলে।
– আচ্ছা আপনি এখন যান, পরে বসা যাবে।
বড় সাহেবের নির্দেশ পেশে ক্যাশিয়ার চেম্বার থেকে বেরিয়ে যায়। ক্যাশিয়ার বেরিয়ে যাওয়ার পরই ব্রজমোহন চশমাটা খুলে টেবিলের উপর রাখে। সে ক্যাশ থেকে টাকা ওঠিয়ে নেওয়ার হিসাবটা মনে মনে আউড়ে নিতে চেষ্টা করে। ডেভেলাপমেন্ট স্কীমে পঞ্চাশ হাজার টাকার সেন্টাল এসিষ্টেনস্ এর সেংশান আসার পর ধীরুমল জৈন এণ্ড কোং থেকে তিনটা কোটেশন নিয়ে পারচেইজ অর্ডার ইস্যু করে। মাল সাপ্লাইয়ের আগেই বিল সার্টিফাই করে টাকা ড্র করা হয়েছে। টাকা ওকে মাল সাপ্লাই দেওয়ার পরই দেয়া হবে। ততদিন টাকাগুলো অফিস ক্যাশেই থাকবে। ব্রজমোহন সেখান থেকে এককালীন পঁচিশ হাজার টাকা সরিয়ে নিজের বাড়ী তৈরির জন্য জমির দাম দিয়েছিল। পরে অবশ্যি “কার এডভান্স” এবং বেশ কয়েকটা “টি এ. বিল” ড্র করে প্রায় সতেরো হাজার টাক জমা দিয়েছে। এছাড়া ব্রজমোহন আর কোন বড় অঙ্ক বের করে নেয়নি, প্রয়োজনে দু’শ পাঁচশ করেই নিয়েছে। পনেরো হাজারের ব্যাপারটা বেশিই মনে হচ্ছে। এ সব ভাবতে গিয়ে ব্রজমোহন রেগে যায়। সে উত্তপ্ত হয়েই মনে মনে বলে, তুই বেটা ক্যাশিয়ার ও কম যাস না। সুযোগ বুঝে তলে তলে বেশ কিছু হাতিয়ে নিয়েছিস। নইলে পনেরো হাজার ঘাটতি হবে কি করে? অফিসের অন্য ব্যাপার হলে ব্রজমোহন হয়ত আরো উত্তপ্ত হত। কিন্তু এক্ষেত্রে গরম হয়ে বিশেষ লাভ নেই। যা কিছু ঠাণ্ডা মাথায় করতে হবে। জৈন কিংবা আগারওয়ালাদের পেমেন্ট কিছু দেরিতে করলেও অসুবিধে হবে না। ওরা বুঝে টাকার একটি অঙ্ক এভাবে পড়ে থাকা মানেই গুড ইনভেস্টমেন্ট। ভবিষ্যতে এটাকে মূলধন করেই সরকারী লেনদেনে মনের মত ব্যওসায় ফায়দা তুলতে পারবে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে ছোট ছোট লোকাল পার্টি গুলোকে নিয়ে। ওদের বিল পেতে দশদিনের যায়গায় পনেরো দিন হলেই ছোটলোকের মত চেচামিচি শুরু করে দেয়। এসব ভাবতে গিয়ে ব্রজমোহনের মাথা ধরে যায়।
– না, মাথার উপর যে খাড়া ঝুলছে সেটা সামাল দিতে লোক নিয়োগের সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। এটা হাতছাড়া হলে নিজের পারেই কুড়ুল মারা হবে।
ব্রজমোহন ঠিক করে নেয় সে কোমর বেধেই নামবে। সরকারী ফাইলের ছড়াছড়ি। অফিসিয়াল রের্কডপত্র ঠিকঠাক ফইেলবন্দী থাকলে কেই ঝামেলার জট পাকাতে চেষ্টা করলে ও শেষ অবধি কিছু করতে পারবে না। ব্রজমোহন তার চাকুরী জীবনে এটা বেশ ভালোভাবেই বুঝে রেকর্ডপত্র নির্ভেজাল রাখার জন্য এষ্টাব্লিশমেন্ট ব্রাঞ্চে নূতন ফাইল খুলতে নির্দেশ দেয়। শুরুতেই প্রার্থীদের আবেদন পত্র দাখিল করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, এমপ্লয়মেন্ট একক্সচেঞ্জ অফিসে জানায় এবং সহকর্মীদের নিয়ে একটা ইন্টারভিউ বোর্ড ও তৈরী করে। এই ইন্টারভিউ বোর্ডই আবেদন পত্র গ্রহণ, বাছাই এবং লিখিত পরীক্ষা ইত্যাদি পরিচালনা করবে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার চার পাঁচদিন পর থেকেই আবেনন পত্র জমা পড়তে থাকে। দেখতে দেখতে অফিসের রেক বোঝাই হয়ে যার! আবেদন পত্র দাখিল হওয়ার সাথে সাথে রোজই এক গাদা চিঠি ব্রজমোহনের ব্যক্তিগত নামে আসতে থাকে। ব্রজমোহন তার চেম্বারে বসে বেশ আগ্রহ নিয়েই চিঠিগুলো পড়ে। সবগুলো চিঠির বয়ান প্রায় এক রকমই কোন না কোন আবেদন পত্র দাখিলকারীর নামোল্লেখ করে চাকুরী পাইয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছে। শুধু ভাষার ব্যবধান। সব চিঠিতেই লেখক ব্রজমোহনকে বিশেষ পরিচিত এবং আপনজন বলে মত প্রকাশ করছে। অথচ আশ্চর্য, ব্রজমোহন অনেককেই চিনতে পারেনি। পত্রলেখকের নাম ঠিকানা পরে ওদের চেহারা সে চোখের সামনে টেনে আনতে চেষ্টা করে। কিন্তু না, কিছুতেই সে মেলাতে পারে না। বিনা নোটিশে লোডশেডিং এর সময় অন্ধকারে দেশলাই হাতানোর মতই সে বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যায়। তারপর সে ক্ষেপে গিয়ে মনে মনে বলে, দূর শালা, নিজে বাঁচার রাস্তাই খুঁজে পাচ্ছি না। কোথাকার কোন টাউট কোন স্বার্থে ফিরিস্ত গাইছে, সেটা আমাকে দেখতে হবে না। এ বলেই সে চিঠিগুলো ঝুড়িতে ফেলে বাঁ হাতে কলিং বেলের বোতাম চেপে ধরে। কলিং বেল বাজা মাত্রেই পিওন আসে। ব্রজমোহন ওর দিকে তাকিয়ে বলে, বড় বাবুকে ডেকে দাও।
সাথে সাথে পিওন পিছন ফিরে চলে যায়। সামান্য পরই বড়বাবু সুইংডোর ঠেলে ভেতরে ঢুকে।
– আপনি আমায় ডেকেছেন স্যার?
– হ্যাঁ, কি রকম এপ্লিকেশন জমা পড়েছে?
– টোটাল নয়শ একুশটা স্যার।
– সবগুলো ভালোভাবে স্কুটিনাইজ করছেন ত?
– হ্যাঁ স্যার
– আচ্ছা শুনুন, আগামী নাইন তেই আমরা প্রার্থীদের রিটেন টেসট নেব। আপনি নোটিশ ইস্যুর ব্যবস্থা করুন আর ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যদের ডিউটি চার্ট প্রিপেয়ার করে আমাকে আজকেই দেখান।
– আচ্ছা স্যার। এ বলেই বড়বাবু চেম্বার থেকে বেরিয়ে যেতে আগ বাড়ে। কিন্তু সুইং ডোর অবধি গিয়েই
আবার ফিরে এসে টেবিলের সামনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। কিছু বলতে চাইছে অথচ মুখ দিয়ে যেন কথা বেরুচ্ছে না। ব্রজমোহন ব্যপারটা লক্ষ্য করছে। সে বড়বাবুকে উদ্দেশ্য করে বলল- কি, আমাকে কিছু বলবেন? বড়বাবু মাটির মানুষের মত মীইয়ে প্রায় মাটিতে মিশে যাওয়ার সামিল। এখন এ অবস্থায় সাহেবের চেম্বারে ওকে দেখলে কেউ কোনদিন, ভারতেও পারবে না খিটখিটে মেজাজের ঝগড়াটে এই বড়বাবুই সবসময় সহকর্মীদের ঝামেলায় ফেলতে বাঁশ উচিয়ে রাখে। এ অন্য, আরেক বড়বাবু। বড়বাবু সাহেবের প্রশ্নের উত্তরে মিহি গলায় বলে – স্যার, আমার এক আত্মীয় – খুব ভালো ছেলে, ওদের পরিবারে একটা চাকুরীর ভীষণ প্রয়োজন। ও আমাদের এখানে এপ্লাই করেছে। এটুকু বলেই বড়বাবু চুপ করে থাকেন, আর এগোয় না। ব্রজমোহন ভেবেছিল বড়বাবু অন্য কিছু বলবে। এখন চাকুরীর ব্যাপারে কেহ উমেদারী করলে ওর মেজাজ বিগড়ে যায়। ব্রজমোহনের মনে হয় উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ওর সম্পত্তিতে যেন কোথাকার কোন দুসম্পর্কের দুষ্ট আত্মীয়েরা এসে বাগড়া দিতে চাইছে। এ মূহুর্তে অবশ্য এসব বড়বাবুকে বলা যায় না। সে মনের ভাব চেপে রেখে হাসিমুখেই বলল এপ্লাই যখন করেছে ওকে ভালোভাবে ইন্টারভিউ ফেইস করতে বলুন, পরে দেখা যাবে কি হয়। বড়বাবু ঘাড় কাত করে চলে যায়।
সেদিনই সন্ধ্যের পর ব্রজমোহন ক্যাশিয়ারকে তার কোয়ার্টারে আসতে খবর পাঠায়। ক্যাশিয়ার খবর পেয়েই তাড়াতাড়ি ছুটে আসে। ব্রজমোহন ডিসটেম্পারড্ ড্রইং রুমে নিয়ন আলোর নীচে বসে একাকী কাগজ ওলটে পালটে দেখছেন। ক’দিন হলো গড়কাপ্তানী বিভাগের কর্মীদের তদারকে ঘরটাতে এনুয়্যাল রিপেয়ারিং এর কাজ হয়েছে। বড় সাহেবকে খুশী করতে এষ্টিমেটের বাইরেও ড্রইং রুমের সৌন্দর্য্য বাড়াতে অনেক কিছু করেছে। ক্যাশিয়ার সুন্দর ড্রইং রুমে প্রবেশ করতেই ব্রজমোহন চোখের সামনে থেকে কাগজটা সরিয়ে বসার ইঙ্গিত করে। ক্যাশিয়ার ওর মুখোমুখি চেয়ারটায় বসে। ব্রজমোহন চেয়ারের সামনে ছোট টেবিল থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা তুলে নেয়। একটা সিগারেট ধরিয়ে মুখভর্তি একরাশ ধুয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে শুনুন, ক্যাশের টোটাল ঘাটতির হিসাবটা আমরা পরে ভালো করে দেখব। কিন্তু এখন ছোট ছাট পার্টিগুলোর পেমেন্ট আপনাকে করতে হবে।
এতদিন বড়সাহেবের হুকুম তালিম করে সে লাভবানই হয়েছে। সে ও মাঝে মধ্যে নিজের কাজে ক্যাশ থেকে টাকা ওঠিয়ে নিয়েছে। হিসাব করলে এখন ও হাজার তিনেক ওর ঘাড়ে বর্তাবে। এখন ছোট পার্টিগুলোর পেমেন্ট করতে হলে কম পক্ষে আট হাজার টাকা দরকার। এটা অবশ্যি সামাল দিতে বেশি বেগ পেতে হবে না। সে কৈ মাছের তেল দিয়ে কৈ ভাজাটা খুব ভালো ভাবে শিখে নিয়েছে। রামের টাকা শ্যামকে দিয়ে এবং শ্যামের টাকা রহিমকে দিয়ে ঠেলা ধাক্কায় অনেকদিন চালিয়ে যেতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে বড় রকমের কোন লাভ না হলে এ যকি সামলাতে ঠেলা ধাক্কা করা কি বোকামি নয়? এসব ভাবতে গিয়ে ক্যাশিয়ার হানা কিছুই বলছে না। সে চুপ করে আছে। ব্রজমোহন অভ্যাসবশতঃ ছাইদানির উপর হাত বাড়িয়ে সিগারেটে ঠোকা দেয়, তারপর দম টেনে নিয়ে আবার বলে একটা পোষ্ট আপনার ছোটভাইকে দেবো। তবে হ্যা, ওকে রিটেন টেষ্টে খুব ভালো করতে হবে। এটলীষ্ট ইন্টারভিউ বোর্ড যাতে ওর নামট। প্যানেলে রাখে সে যোগ্যতা ওকে অর্জন করতে হবে।
একথা বলে ব্রজমোহন তার পাশে বইয়ের ভাজ থেকে একটা কাগজের টুকরা বের করে টেবিলের ওপর রেখে বলে,- এই নিন এটাতে প্রশ্ন রয়েছে, এগুলো প্রিপেয়ার করে টেক্টফুলি আনসার করতে বলবেন। ক্যাশিয়ার হাত বাড়িয়ে তুলে নেয়। সে কাগজটা খুব যত্ন করে পকেটে রেখে হাসিমুখে বলে, আপনি পেমেন্টের জন্য কিছছু ভাববেন না স্যার। আমি ওটা ম্যানেজ করে নেবো।
– ঠিক আছে, এটা করুন। ব্রজমোহন সাথে সাথে বলে। ভারপর দুজনই চুপচাপ বসে থাকে। কিছুক্ষণ পর ক্যাশিয়ার দাঁড়ায়। ব্রজমোহন ও সিগারেটে শেষ টান দিয়ে চেয়ার ছেড়ে ওঠে।
– আমি তাহলে এবার আসি স্যার। একথা বলেই ক্যাশিয়ার রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
ব্রজমোহন সিগারেটের টুকরাটা জানালা দিয়ে বাইরে ছড়ে ফেলতে গিয়ে ওর দিকে না তাকিয়েই বলে, - আসুন। ক্যাশিয়ার চলে গেলে ব্রজমোহন একা একাই ড্রইং রুমে বসে থাকে। সে ভাবে এপয়েন্টমেন্টের ব্যাপারে কাউকে পাত্তা না দেওয়ার মত রিজিড মনোভাব নেয়াটা ঠিক হবে না। কোন কোন ক্ষেত্রে দিছুটা এডজাষ্ট করে নিতেই হয়। সকাল সন্ধ্যে যে রাস্তাটা দিয়ে সমানে হাটতে হবে সেটা পরিষ্কার রাখাই ভাল। অবষ্টাকল থাকলে হোচট খেয়ে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দি রোড মাষ্ট বী ক্লীন। ক্যাশিয়ারের ভাইকে একটা বড় বাবুর দূর সম্পর্কের আত্মীয় একটা, মলির দলের রিকোমেন্ডেড কেইস দুটো আর মজুমদারের জন্যেও দুটো পদ ছেড়ে দেবো। তবে মজুমদারের সাথে একটা ক্লীয়ার আন্ডারস্ট্যানডিং থাকবে যে ওবেটা দুটোকে ভিত্তি করে যতই “মাল কামাই” করুক না কেন আমাকে দেড় করে টোটাল তিন হাজার দিতে হবে। এই ছটা ছাড়া বাকী এগারোটা থাকবে পুরোপুরি আমার আয়ত্বাধীন। ইলেভেন মালটিপ্লাইড বাই থী - মাত্র তেত্রিশ হাজার। ইটস টু-মীগার। আজকের দিনে ওটা খুবই সামান্য। সে যাহোক এমনিতে একটাকাই বা কে কাকে দিচ্ছে। ব্রজমোহন মনে মনে এসব ভেবে ফাইনাল স্ট্র্যাটেজি ঠিক করে নেয়। আগাম মাল ফেল, চুপচাপ মন্ত্র জেনে যাও, ব্যস।
ব্রজমোহনের অফিসে স্বাভাবিক নিয়মেই নিত্যকাজ আইন মোতাবেক চলতে থাকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নয় তারিখেই প্রার্থীদের রিটেন টেষ্ট নেওয়া হয়। দূর দূরাঞ্চল থেকে, মোট ন’শ একুশ জন প্রার্থী এসে পরীক্ষা দেয়। ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যরা সৎভাবে এবং নিষ্ঠা সহকারে দায়িত্ব পালন করে পরীক্ষায় পবিত্রতা একটুও মলিন হতে দেয়নি। অতি উৎসাহ অভিভাবক এবং প্রার্থীদের আপনজনেরা, যারা এসে বাইরে ভিড় করেছিল তারাও সরোজমিনে সবকিছু দেখে পরিতৃপ্তির ভাব নিয়েই ফিরেছিল। ক’দিন পর পরীক্ষার ফলাফল ভিত্তি করে ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যরা প্যানেলটা বড় সাহেবের টেবিলে উপস্থাপন করে। ব্রজমোহন সেটাতে চোখ বুলিয়ে খুশীতে না হেসে পারে না। সে যে রকমটি চাইছে ঠিক সেরকমই হয়েছে। কি সুন্দর উপর দিক থেকে ক্রমান্বয় একের পর এক ওর আকাঙ্খিত নামগুলো প্যানেল জুরে বসেছে। সে নামগুলো বারবার ভালোভাবে দেখে এবং শেষে চাপা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফোলে বলে, থাক বাবা, আগাম এনে যা গিলেছি তার কোনটাই বদহজম হবে না। এখন তাড়াতাড়ি বাকী কাজটুকু সেরে নিলেই হলো।
ব্রজমোহন এপয়েন্টমেন্টের ফর্মাল অর্ডার ইস্যু করার জন্য সব ঠিকঠাক করতে বড়বাবুকে ডেকে বলেন। বড়বাবু আগেই ফর্মা তৈরী করে রেখেছিলেন। প্যানেলের প্রথম থেকে সতেরো পর্যন্ত নামগুলো বসিয়ে ব্রজমোহনের সামনে পেশ করে। ব্রজমোহন খুব ভালোভাবে দেখে এক এক করে সই করছে আর ঠিক তখনই মজুমদার সুইংডোর ঠেলে চেম্বারে প্রবেশ করে। মজুমদার জেনে নিয়েছে ওর দু’জন প্রার্থীর নামও এ লিষ্টে আছে। সে ব্রজমোহনের উল্টোদিকে চেয়ারে বসে মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে জিজ্ঞেস করে - এপয়েন্টমেন্ট লেটার ইস্যু করে দিচ্ছেন? -হ্যাঁ। ব্রজমোহন সই করতে করতে বলে আজকাল ইন্টারভিউতে নানা রকম ঝামেলা। প্রার্থীদের মধ্যে মারামারি উশৃঙ্খল আচরণ আর পুলিশের গুলা গুলি পর্যন্ত চলে। আমাদের এখানে ইন্টারভিউটা খুব পীসফুল হয়েছে। তাছাডা এদিক সেদিক কিছু হয়নি। প্রায় স্বগতোক্তির মতই মজুমদার বলে যায়।
ব্রজমোহন মাথা তুলে মজুমদারের দিকে তাকায়। সই বন্ধ করে কলমটা টেবিলের উপর রেখে দেয়। সে বলে, - এদিক সেদিক হতে দেবো কেন? আমরা সরকারের লোক, আমরা আইন মেনে চলব। আইনের ব্যতিক্রম কিছু হলে সরকার সেটা বরদাস্ত করবে না।
-ঠিকই বলেছেন স্যার। Justice can’t be denied in the eyes of government. সরকারের চোখে ন্যায়দণ্ডের কোন অবিচার হতে পারে না। এবলেই মজুমদার হাসতে থাকে। ব্রজমোহন মজুমদারের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর হাসির মধ্যে অমলিন আনন্দ প্রকাশের বিন্দুমাত্র লক্ষণ সে খুঁজে পাচ্ছে না। মনে হয় এই হাসির অন্তরালে কোন গোপন জটিল (ক্রুর অভিসন্ধি) ক্রিয়া করছে। সে ভাবে নিজে যখন হাসে তখনও বোধ হয় অন্য কেহ সেটার মধ্যে নির্মল আনন্দের অভিব্যক্তি খুঁজে পায় না। ব্রজমোহন মজুমদারের দিকে আরো ভালোভাবে তাকায়। কথায় এবং কাজে কি বিস্তর ফারাক? সে মুখ দিয়ে সশব্দে কিছুই বলল না কেবল মনে মনে ভাবে - পতিতা মেয়ের স্বামী ভক্তির কি অপূর্ব নিদর্শন।
একথা ভাবতে গিয়েই ব্রজমোহনের মলিকে মনে পড়ে। মলি নিশ্চয়ই অবিনাশ রায়ের সাথে চুটিয়ে দেশপ্রেমে মত্ত। ওরা হয়তবা এলাকা থেকে এলাকায় সংগঠনের কাজে ছুটে বেড়াচ্ছে। এই মুহুর্তে জনগণের সেবায় দেশ ও সরকারকে রক্ষা করতে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করা যে আশু প্রয়োজন।
আমাদের সমকাল, নভেম্বর ‘৮২ ইং