ইষ্টিশনের প্ল্যাটফর্মে ছমরু মিঞা ফুলের মালা নিয়ে পায়চারী করছে। একবার সে হাটতে হাটতে আর, এম এস, অফিসটার সামনে যাচ্ছে আবার মুখ ঘুরিয়ে পুবদিকে ফিরে আসছে। দূর থেকে ওর হাতের ফুলের মালাটি খুবই উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। কিন্তু আসলে সেটা বাগান থেকে সংগৃহীত সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল- দিয়ে তৈরী নয়। মনোহারী দোকান থেকে বেশ মোটা টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে। একবার বা হাত এবং একবার ডান হাতে মালাটিকে দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে প্ল্যাটফর্মে হাটছে আর মাঝে মাঝে ওভার ব্রীজের ফাঁক দিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে। সে দেখছে হিল এক্সপ্রেস আসছে কিনা। কারণ, ওরা আজ রাজার বেশে আসছে। ওদেরকে ভালভাবে স্বাগত জানাতে হবে। গাড়ীর দেরী দেখে ছমরু মিঞার তর সইছে না। ভাগ্যিস, মালাখানা প্ল্যাষ্টিকের তৈরী নইলে এত সময়ে নেতিয়ে একাকার হয়ে যেত।
রোদটা ভোর সকাল থেকেই খুব তেতে উঠেছে। ইষ্টিশনের প্ল্যাটফর্মটা ধীরে ধীরে লোক সমাগমে গিজ গিজ করছে। ভ্যাপসা গরমটা চাঙ্গা হচ্ছে। তবুও রক্ষা যে আজ অফিস ঘরের সামনে স্তূপীকৃত সুটকির বস্তাগুলো নেই। অপুষ্টি জনিত রোগে আক্রান্ত অর্ধনগ্ন, কৃশকায় এবং অস্থিচর্মসার নরনারীদের পাতানো সংসারগুলো সাময়িকভাবে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। রেল লাইনের মধ্যিখানে রেল যাত্রীদের পুরাতন ও সদ্য প্রাতঃকৃত্যাদির আবর্জনা থেকে উদ্ভুত প্ল্যাটফর্মের মিশ্র গন্ধের বিলুপ্তি ঘটানো হয়েছে। আজ প্ল্যাটফর্ম খানা লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। সবাই উদ্গ্রীব হয়ে পশ্চিম দিকে তাকাচ্ছে।
এখন কেবলমাত্র ছমরু মিঞাই মালা নিয়ে এদিক ওদিক ফিরছে না। আরো বেশ কয়েকজন ফুলের তোড়া এবং মালা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ভাবে প্রতীক্ষা করছে। জনতা আনন্দ এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলাবলি করছে। ইষ্টিশনটা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে এখন এক নূতন জনসমাবেশে রূপান্তরিত হয়েছে। জনতা উৎফুল্ল এবং উদ্বেল। শুধু ঠেলাঠেলি আর উকিঝুকি। সমীর জনতার সামিল হয়ে ঠেলাঠেলি করে প্ল্যাটফর্মে একটু উঁচু জায়গাতে ঠাই করে নিল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই যান্ত্রিক দানবটা পেটের মধ্যে গাদাগাদি করে মানুষগুলোকে বয়ে নিয়ে সর্পিল গতিতে তড়বড়িয়ে হুস্ হুস্ শব্দ করে প্ল্যাটফর্মের ভিতর ঢুকে গেল। নিমেষে জনতার সরগরম ফেটে পড়ল। জনতা চীৎকার দিয়ে বলতে লাগল, ”পদ্মবর। - জিন্দাবাদ, গোলাম শওকত - জিন্দাবাদ, রূপারাম বর্মণ জিন্দাবাদ।” জনতার গলা ফাটানো শ্লোগান প্ল্যাটফর্মের অবরুদ্ধ আবর্তে ঘুরপাক খেয়ে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল ।
ছমরু মিঞা প্রথম থেকেই ওৎ পেতে বসেছিল। গাড়ী থেকে পদ্ম বরা নামতে নামতেই সে টুক করে প্লাষ্টিকের মালাটা গলায় পরিয়ে দিল। সাথে সাথে হুড়মুড়িয়ে পিছন থেকে এগিয়ে এসে ছেলেমেয়েগুলো প্রায় ঝাপটি মেরে রাজা মশাইদের গলাতে এক এক করে মালা পরিয়ে দিচ্ছে। আর কিছুক্ষণ এমনি ভাবে চলতে থাকলে ওরা মালার ভারে নুয়ে যাবে। এ এক কেলেঙ্কারী ব্যাপার হবে। তাই দেখে বেচু দত্ত, কালা মামু এবং ছমরু মিঞা এবং আরো ক’জন তাড়াতাড়ি বালখিল্য এবং মালা প্রদানকারীদেরকে নিরস্ত করতে এগিয়ে এলেন। ওদের ঠেলা ধাকা খেয়ে দু’একজন ছিটকে পড়ল। কমবয়েসী দু’টো ছেলে পড়ে যাওয়ায় মুখ বিকৃত করে খিস্তি দিল। তাতে কিছু যায় আসে না। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ছমরু মিঞা, কালা মামু এবং বেচু দত্তরা খুব কায়দা করে ব্যুহ রচনা করে জনতার বেহিসাবী আলাদীপনার অত্যাচার থেকে রাজাবেশী নেতৃবৃন্দকে আগলে নিয়েছে। বিগত দু’দশক ধরে এরকম ঘটনার মোকাবিলা করতে করতে একেবারে এক্সপার্ট হয়ে গেছে। ওরা নাটকীয়ভাবে রাজামশাইদেরকে নিয়ে ট্যাক্সিতে চেপে বসেছে। ট্যাক্সিট। গর্ গর্ … গর্জন করে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে উৎসুক জনতাকে পিছনে ফেলে চলে গেল।
দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষার নীটফলট। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই চিচিং ফাক হয়ে গেল । প্ল্যাটফর্মের অবস্থা আর জমজমাট নয়। জনতার চীৎকার সীমাবদ্ধ এলাকার মধ্যে বারবার তীব্রভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে না। এখন নাটক শেষে সমবেত দর্শকবৃন্দের বাড়ী ফেরার পালা। জটলাবাঁধা লোকগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। উৎসুক জনতা ইষ্টিশনের বহিপথ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে । ওর। সবাই পূর্বমুখী শহরের বড় রাজপথ দিয়ে চলমান বিভিন্ন পথচারীদের মতই হাঁটতে হাঁটতে জনসমুদ্রে মিলিয়ে যাচ্ছে।
ইষ্টিশনটা এখন অচঞ্চল, স্থির। হিল এক্সপ্রেসের যাত্রী এবং রাজা দর্শনে অংশগ্রহণকারী জনতা সব হাওয়া হয়ে গেছে। ফিস প্লেটের উপর ইঞ্জিন বিহীন গাড়ীটা নির্জীব হয়ে লেপটে আছে। সমীর দর্শকের শেষ নায়কের মতই উঁচু জায়গাটা থেকে এক পা এক পা করে নেমে এগিয়ে চলছে।
বন্ধ হুইলারের বুক ষ্টলটার পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে বুকিং কাউন্টার ছাড়িয়ে ইষ্টিশনের বাইরে চলে এলে। রিক্সাওয়ালারা এখনও জুতসই প্যাসেঞ্জারের আশায় এক খাট্টা হয়ে বসে আছে। দূরপাল্লার যাত্রীরা বাক্স প্যাটরা এবং বাচ্চাদের নিয়ে অসহায় ভাবে ওদেরকে তোয়াজ করছে। ট্যাক্সি, টেম্পো সব বেপাত্তা হয়ে গেছে। কয়েক মিনিট আগে মহামানব রাজা মশাইদের চলে যাওয়ার কোন নিদর্শনই আর এখন জোরালোভাবে চোখে পড়ছে না। কেবলমাত্র একটি ব্যতিক্রম-ইষ্টিশনে ঢুকতে যেখানে দু’বছর আগে তোরণ বানিয়ে লেখা ছিল “এশিয়ার মুক্তি সূর্য্য জিন্দাবাদ’ সেখানে লেখা আছে, ‘জনতার রাজা জিন্দাবাদ”।
সমীর হাঁটতে হাঁটতে তোরণের নীচ দিয়ে রাস্তার ওপাশে চলে গেল। মোড়ের বড় চায়ের দোকানটা খরিদ্দারের ভারে বেসামাল হয়ে পড়ছে। সমীর ভাবল এই দোকানটাতেই এক কাপ চা খেয়ে নিলে ভাল হয়। সে দোকানটাতে ঢুকে পড়ল। বেলমার্কা ধুবলা লোকটা ক্যাশ বাক্স সামনে নিয়ে বসে আছে। বোধহয় মালিকই হবে। সমীর একটা চেয়ার নিয়ে বসতে। বসতে দেখল ঘরের চারদিকে মহাপুরুষদের ফটোর ছড়াছড়ি। আদ্যিকালের মহামানব থেকে আরম্ভ করে মায় ইন্দিয়া গান্ধীকে দেওয়ালে সেটে দিয়েছে। ‘দেশের ঐতিহ্যবহনকারী সুপুত্র কিনা!’ সমীর মনে মনে ভাবল এবং বয়কে ডেকে এক কাপ চায়ের অর্ডার দিল।
সমীর যে টেবিলটায় বসেছে আর উল্টোদিকে টেবিলটা ঘিরে চার পাঁচজন বেশ মৌজ করে ছুটির দিনের মেজাজ নিয়ে গুলতানি মারছে। ওদের কথা বলার হাবভাব এবং ভঙ্গী দেখে মনে হয় আসরটা জমেছে ভালো। সমীরের খুব লোভ হল। এমন একটা আসরে নিজেকে জড়িয়ে নিতে পারলে খুব মজা হত। কিন্তু অচেনা লোকদের এ ধরণের আসরে হটাৎ নাক গলানোটা খুবই বেমানান। তাই সমীর লোভ সামলে নিল। সে চা খেতে খেতে ওদের আলাপ শুনতে লাগল।
— জানিস ওরা ভাল কিছুই করতে পারবে না। তোরা লোকগুলিকে দেখ না। দেখিস নি ব্যাচেলার কালু মামু এবং ছমরু মিঞা কি রকম পোজ দিয়ে রাজা মশাইদের ট্যাক্সিতে চেপেছে? ওরাই তো সেদিন অবধি মহারানীর পা-চাটা তল্পিবাহক ছিল।
— কালা মামু কে রে বিষ্ণু? — তুমি আর নেকামো কর না শালা। কালা মামুকে চিনিস না? —শোন আমি বলছি। কালা মামু হচ্ছে চিরকুমার, চির নবীন — জনস্বার্থে উৎসর্গীকৃত রাজনৈতিক মহান প্রাণ। নিখাদ সোনার মত রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাচ্চা প্রতিনিধি। আমাদের এলাকা পেরিয়ে গেলে একথা আর কেউ কা’কে বলে দিতে হয় না। তখন আকাশে বাতাসে কেবল গুঞ্জরণ শোনা যায়, “রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাচ্চা প্রতিনিধি কে? —কালা মামু আবার কে?”
—এই, তোরা শালা আমার কালা মামুর মুখটা রেগে লাল হয় না বলে ইয়ার্কি মারছিস। আসলে কালা মামুর মত লোক হয় না। সেবার পুটরানীর মেয়ের ষষ্ঠী ব্রতের দিন নিমন্ত্রিত হয়ে আমার পাশে বসেছিলেন। আমাকে দেখে উনি সুন্দর দাঁত বের করে কি সুন্দর হেসেছিলেন। ভালো লোক না হলে এরকম ভাবে কেউ কোনদিন হাসে? এভাবেই অচেনা লোকগুলো একের পর এক কথা জুড়ে যাচ্ছে এবং নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে। ততক্ষণে সমীর চা খেয়ে নিয়েছে। লোকগুলির উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ব্যঙ্গ করে কথা বলার ভঙ্গী পুরাপুরি ওর সমর্থন আদায় না করলেও কথাগুলো শুনতে খারাপ লাগে নি। লোকগুলোর কথায় ওর হাসি পেয়েছে। ওর অবয়বে হাসির ভাব ফুটে উঠেছে। সে মুখে হাসির রেশ টেনে নিয়েই ক্যাশ বাক্সের সামনে গিয়ে বেল মার্কা ধুবলা লোকটার নিকট চায়ের দাম দিয়ে বেরিয়ে গেল। সকাল বেলা বাড়ী থেকে বেরিয়ে এসে রাজা দর্শনের প্রথম পর্বটা এখানেই শেষ হয়।
বেশ কিছুদিন ধরেই সাজ সাজ রবটা বাজারে চালু করে দে’য়া হয়েছিল। সংবাদপত্রের রাঘব বোয়াল থেকে আরম্ভ করে একদম আনকোরা মকা, দারকিনারা পর্যন্ত দিকে দিকে বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিল যে ওরা আসছে। দুঃস্বপ্নের দিনগুলোর সাথে পাঞ্জা লড়ে এখন ওরা রাজার বেশে আসছে। স্বৈরাচারকে বিসর্জন দিয়ে নূতন করে রাজা বানানো হয়েছে। আশার রাজা – জনতার রাজা। আজ প্রকাশ্য সভায় জনতার রাজা জনতাকে বলবেন। জনতা উৎসুক, উৎফুল্ল এবং আনন্দিত।
তখনো আকাশ থেকে রোদ পুরো মিলিয়ে যায় নি। পশ্চিম আকাশে সূর্য ক্রমে ঢলে পড়ছে। ময়দানে লোক জড় হতে শুরু করেছে। যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনতার রাজা জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন সেটা শেষ সাজ সজ্জায় বিভূষিত হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তার জনতা এখন ময়দান মুখী। যতই সময় এগিয়ে আসছে ততই লোক এসে জড় হচ্ছে। শহরতলী গ্রাম এবং গঞ্জের লোকেরাও এসে জমায়েত হয়েছে। ময়দানে রোদের শেষ মিষ্টি আভাটুকু থাকতে থাকতেই জায়গাটা লোকে লোকা-রণ্য হয়ে গেলো। মঞ্চের ডান পাশে সংবাদ পত্রের কেউকে-টারা ঘুর ঘুর করছে। এদের মধ্যে আবার দু একজন কাঁধে ক্যামেরা ঝুলিয়ে বেশ একটা ইশের ভাব নিয়ে এদিক সেদিক হাঁটছে।
রামন তাঁতি তার বুরুঙ্গার বাড়ী থেকে সুদূর রাস্তা পাড়ি দিয়ে এসেছে। রাজা মশাই নিশ্চয়ই এবার ওর তাঁত মেসিনগুলোকে সচল করার একটা হিল্লে করে যাবেন। রশীদ শেখ আওলিয়াবন্দের বনকোনাকোনি জমিন মাড়িয়ে সবেগে ছুটে এসেছে। এবার সে মিরাশদার সুরমান আলী বড়লস্করের কব্জা করা বেনামী জায়গাটাতে ধান চাষ করবেই। রাজা মশাই নিশ্চয়ই একটা হিল্লে করে যাবেন। সমীর দুপুর বেলা তাড়া-হুড়। করে বাড়ী থেকে বেরিয়ে এসেছে। ওর অনেকদিনের পুরানো ধান্ধা সেন্ট লাগানো গায়ে মাখা সাবানের একটা ইন্ডাষ্ট্রী খুলবেই। রাজা মশাই একটা হিল্লে করে যাবেন।
এসে গেছে, এসে গেছে। রাজারা সব এসে গেছে। ঐ যে এইমাত্র কালো গাড়ী থেকে নামলেন। সমবেত জনতার দৃষ্টি এখন ঐ কালো গাড়ীটাতেই নিবদ্ধ। সাতনালার পাশে কাঠের বেঞ্চগুলোতে বসে থাকা লোকগুলো হুড়মুড়িয়ে উঠে পড়ছে। পিছনের বেটে লোকগুলো পায়ে ভর দিয়ে দেখছে। কালা মামু, বেচু দত্ত এবং ছমরু মিঞারা ওদেরকে আগলে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ওরা প্রসন্ন এবং প্রদীপ্ত। মঞ্চে উঠেই হাসিমুখে হাত তুলে জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বসে পড়লেন। সাথে সাথে মঞ্চের মধ্যে কয়েকবার পর পর আলোর ঝিলিক খেলে গেলো। সংবাদ ব্যবসায়ীর চামুণ্ডারা মঞ্চের কোনে দাঁড়িয়ে বিশেষ ভঙ্গীমায় ক্যামেরার সাটার টেনে নিলেন।
সন্ধ্যা মিলিয়ে আসছে। মঞ্চের পিছনে মাইক্রোওয়েভ ষ্টেশনের গগনচুম্বী আলোটা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। ওল্ড রোডের রাস্তা দখল করে জনগণ দাঁড়িয়ে থাকায় কান ঝাঝানো বিকট শব্দ করে মোটর যান যাতায়াত করতে পারছে না। দূর থেকেই দম নিয়ে ধীরে ধীরে পাশ কেটে চলে যাচ্ছে। ময়দানে জমায়েত সমস্ত জনতা স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে কেবল দু’চোখ দিয়ে মঞ্চের কুশীলব দেখছে। রাজা মশাইর মূল্যবান ভাষণ এখনই শুরু হবে।
পদ্ম বর। মঞ্চে মাইক্রোফোনের সামনে এসে দাঁড়ালেন। ক্ষণিকের জন্য আবার মঞ্চে আলোর ঝিলিক খেলে গেল। এ সমস্ত ‘চোখ ধাঁধাঁনো আলোর ঝিলিক এখন পদ্ম বরার সয়ে গেছে। রাজা হবার পর যেখানেই জনসভায় ভাষণ দিতে গেছেন সেখানেই ফটো তোলার হিড়িকে শিকার হতে হয়েছে। প্রথম প্রথম এসব ব্যাপার রীতিমত বেখাপ্পা ঠেকত। কিন্তু আজকাল এগুলো সয়ে গেছে। পরে পত্রিকায় বিভিন্ন ভাবে নিজের ফটোটা বেরোলে দেখতে বেশ ভালই লাগে। বাইরে কিছু না বললেও সে আনন্দ পায়। মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াতে দাঁড়াতে একটা ফটো তোলা হয়েছে বুঝতে পেরে ওর বেশ ভালই লাগল। আমুদে মেজাজে জনগণকে উদ্দেশ্য করে উদাত্ত কণ্ঠে বলল, “আমার প্রিয় দেশপ্রেমিক সংগ্রামী ভাই ও বোনেরা … ।”
ময়দানে সমবেত জনতার মৃদু গুঞ্জন ও ফিস ফিসানি স্তিমিত করে পদ্ম বরার বলিষ্ঠ আবেদন মাক্রোফোন দিয়ে সজোরে বেরিয়ে এলো। জনতার বলাবলি স্তব্ধ হয়ে গেলো। সবাই উৎকীর্ণ হয়ে পদ্ম বরার ভাষণ শুনতে মনোনিবেশ করল।
প্রথমে আস্তে আস্তে এবং থেমে থেমে বলতে লাগল। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের দুঃখের কাহিনী বলল। সে বলল ভারতমাতাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ শোষণের যাতা - কলে চেপে কিভাবে সব নিংড়ে নিয়ে গেছে। কিভাবে বিগত তিন দশকের কু-শাসনে দেশের জনসাধারণ দরিদ্র সীমার নীচে নেমে গেছে। এভাবে বলতে বলতে গলার স্বর এবং বলার ভঙ্গীর পরিবর্তন ঘটাতে লাগল। তারপর সে উত্তেজিত হয়ে নাটকীয় ভঙ্গীতে বলল, “বন্ধুগণ, আপনারা জানেন সেই দীর্ঘ কু-শাসনের চরম প্রকাশ ঘটে বিগত একুশ মাসের স্বৈরতন্ত্রের মাধ্যমে। কিন্তু জনগণ সেই স্বৈরতন্ত্রকে সহ্য করে নি। আমাদের ঐতিহ্যময় সঠিক সংগ্রামী নেতৃত্বে জনগণ শান্তি- পূর্ণভাবে ভোটের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্রকে ইতিহাসের নর্দমায় নিক্ষিপ্ত করে দিয়েছে। স্বৈরতন্ত্রের প্রধান পাণ্ডা জনগণ কর্তৃক পরি- ত্যক্ত হয়ে এখন মরীয়া হয়ে হাত তুলে বাঁচাও বাঁচাও চীৎকার করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
একথা বলার সাথে সাথেই মঞ্চের সামনে বসা দু’এক- জন লোক হাততালি দিল এবং সঙ্গে সঙ্গে হাততালিতে সারা ময়দান ফেটে পড়ল। সমীর হাততালি দেয়নি। সে কেবল মনে মনে ভাবল যে, রাজা মশাই স্বৈরতন্ত্রের প্রধান পাণ্ডা বলল কেন? সৈরতন্ত্রের প্রধান পাণ্ডী বলাইত উচিত ছিল। নাকি ব্যাকরণে শব্দটার ছেংশান নেই। যাক বাবা এসব নিয়ে বেশী চিন্তা করা উচিত নয়। এগুলো হচ্ছে ওস্তাদ পণ্ডিতের মাথা সাফাইর কাজ। ওরাই সেটা ঠিক করবে। রাজা মশাই যখন পাণ্ডা বলেছে তবে সেটা পাণ্ডাই হবে। সমীরের ভাবনার ফাঁক দিয়ে রাজা মশাইর অনেক মূল্যবান কথা বেরিয়ে গেছে। সে শুনেনি। এ ধরণের ভাবনা হয়ত বা আরো এগিয়ে যেত। কিন্তু সেটার ছেদ পড়ল যখন সে শুনল রাজা মশাই পদ্ম বরা বলছে-” বন্ধুগণ, আপনারা জানেন ভারতবর্ষ কৃষিপ্রধান দেশ। ভারতবর্ষের বেশীর ভাগ লোক গ্রামে বসবাস করে। তাদের যদি কোন উন্নতি না হয় তাহলে আমাদের দেশের সামগ্রিক উন্নতি হবে না। এখন গ্রামীণ কুটির শিল্প ছোট ছোট শিল্প কেন্দ্র এবং কৃষি ব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি বিদ্যার প্রয়োগ করতে হবে।”
কথাগুলো সমীরের মর্মে গিয়ে বিধল। সমবেত জনতাকে উপেক্ষা করে পদ্ম বরা যেন কেবলমাত্র ওকে লক্ষ্য করেই ওর মনের কথা বলছে। আজকে দেশের সত্যি সত্যি উন্নতি করতে হলে গ্রামীণ অর্থনৈতিক বিকাশের দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে হবে। চিন্তাশীল রাজনীতিবিদ যোজনা কমিশনের প্রগতি- শীল সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের বাঘা বাঘা অধ্যাপকরা এ ব্যাপারে রোজ রোজই বেতার যন্ত্রে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পত্র পত্রিকায়। গ্রামের দুঃস্থ চাষার হাতে টাকা আসতে হবে। কুটির শিল্পকে চাঙ্গিয়ে তুলতে হবে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের ছোট ছোট শিল্পোদ্যোগকে মদত দিতে হবে।
বেতার যন্ত্র ও পত্র পত্রিকার মাধ্যমে উৎসাহজনক প্রচার এবং পদ্ম বরার এখন গ্রামীণ কুটির শিল্প, ছোট ছোট শিল্পকেন্দ্র এবং কৃষি ব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি বিদ্যার প্রয়োগ করতে হবে” শুনে সমীরের মনে প্রচণ্ড উৎসাহের সৃষ্টি হল। তার মনের জোর অনেকগুণ বেড়ে গেল। এবার সে সেন্ট মাখানো গা ধোয়ার সাবান তৈরীর ছোট শিল্প কেন্দ্র খুলবেই খুলবে। একথা ভাবতে ভাবতেই তার মনে আনন্দের জোয়ার ফাল্গুধারার মত বয়ে যেতে লাগল। সে দেখছে তার শিল্প কেন্দ্র থেকে তৈরী সাবান ‘মনোলোভা’ সুন্দর মোড়কে আচ্ছাদিত হয়ে বাজারের মনোহারী দোকানে শোভা বন্ধন করছে। সে দেখছে তার সাবান এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করছে। স্কুল কলেজের মেয়েরা তাদের রূপ সতেজ ও কমনীয় করে তোলার প্রতিযোগিতায় মনোলোভার পিছনে ছুটছে। সে দেখছে কোন এক পাড়াগাঁয়ে চাযার নূতন বউটিও তাঁর স্বামীর সাথে অভিমান করে বসে আছে। গঞ্জের বাজারে সওদা করতে যাবার সময় চুপি চুপি বলা সত্বেও স্বামীটি ওর জন্য মনোলোভা কিনে আনেনি।
মনলোভা সমীরকে কল্পলোকের বিস্তৃত পরিধিতে হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে চলছে। মনোলোভার রম্ রম্ ঝম্ ঝম্ অবস্থা ওর মনে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে । আনন্দে দিশেহারা হয়ে সে টগবগ করছে। কিন্তু বেশীক্ষণ কল্পলোকে বিরাজ করে সমীর আনন্দ আস্বাদন করতে পারল না। পদ্ম বরার জ্বালাময়ী ভাষণ ওকে আবার ছিটকে রূঢ় বাস্তবে টেনে নিয়ে এল। -“বন্ধুগণ, আমরা দেশ থেকে কোকাকোলাকে তাড়িয়ে দিয়েছি।” কথাটা বলার পরই সভা আবার হাততালিতে ফেটে পড়ল। হাততালির রেশ মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পদ্ম বরা একটু দম নিলেন। তারপর বললেন; ‘জানেন, বৃহৎ শিল্পপতিরা দেশের সমগ্র বাজারটাকে নিজেদের কুক্ষিগত করে রেখেছে। দিল্লী, কোলকাতা, বোম্বে, গৌহাটি প্রভৃতি শহরে বৃটিশ পাউরুটি কোম্পানী তাদের লেবেল লাগিয়ে পাউরুটি এবং বিস্কুট বিক্রি করছে। সেখানে কম পুঁজি নিয়ে আমাদের বিস্কুটওয়ালারা কোনঠাসা হয়ে দম বন্ধ হয়ে ধুঁকছে। হরলালকা, জিয়াজি, ডি.সি.এম মোরারকা, মোরারজী প্রভৃতি কাপড় কোম্পনীগুলো আমাদের দেশের বিভিন্ন তাঁত শিল্পকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। প্রসাধন সামগ্রীর ক্ষেত্রে প্যারিস এবং লগুনী ধাচে টাটা, হিন্দুস্থান লেভার কোম্পানীগুলো দেশের বাজারে প্রায় হিমালয় পর্বতের মত জোঁকে বসে আছে। তাদের প্রভাবের জন্য আমাদের দেশের ছোট ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ঘটছে না …. ।”
পদ্ম বরার শেষ কথাগুলো ইলেকটিক শকের মত সমীরের বুকটাতে গিয়ে ধাক্কা দিল। কিছুক্ষণ আগে ওর মনে যে রঙীন ফানুস ফুলে ফেঁপে উঠছিল সেখানে এখন সংশয় ও সন্দেহের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে। সংশয় এবং সন্দেহ ওর আনন্দকে নেতিয়ে দিচ্ছে। তার মনে এক বিষময় নিরাশার দংশন কুরে কুরে পাক দিচ্ছে। মনোলোভা কি বাজারে স্থান করে নিতে পারবে না? মনোলোভা কি আতুড় ঘরেই মরে যাবে?
পদ্ম বরা বক্তৃতা দিতে দিতে সমবেত জনতাকে তুঙ্গে তুলে একেবারে দপ করে ছেড়ে দিলেন। ওর বক্তৃতার পরই সভার কাজ শেষ হয়ে গেল। শ্রোতৃবৃন্দরা জটলা ছেড়ে ছিটকে পড়তে আরম্ভ করল। উঠতি বি গ্রেডের নেতারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছে রাজা মশাইরা জুমন মিঞার বাড়ীতে ডিনার খাবে। আগাম গোপন খবর ছড়িয়ে নিজেদের দাম বাড়াচ্ছে।
জেলা গ্রন্থাগার ভবনের সামনের রাস্তা ধরে লোকেরা এগিয়ে যাচ্ছে। ওল্ড রোড ধরে মীনাশ্রী সিনেমার দিকে। লোকেরা যাচ্ছে। লোকেরা যাচ্ছে হরিটোলা রোড ধরে এবং বীরপুরের দিকে। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। ল্যাম্পপোষ্টগুলো থেকে ফ্যাকাশে আলো শহীদ স্মৃতি স্তন্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে।
রশীদ শেখ সভার শেষে পা ফেলে বাড়ীর দিকে ছুটছে। আস্তে হাঁটলে বাড়ী ফিরতে অনেক দেরী হয়ে যাবে। সে তাড়াতাড়ি হাঁটছে। গ্যামন ব্রীজ পার হয়ে সোদপুরের দিকে চলছে। বড় রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে যেতেই আলোর ঝল- মলানী মিলিয়ে গেছে। গ্রামের অন্ধকার গভীর হয়ে আসছে। সে আওলিয়াবন্দের জাঙ্গাইল ধরে অভ্যাসবশতঃ তড় তড় করে হেঁটে চলছে আর মনে মনে ভাবছে। পদ্ম বরার ভাষণে সুরমান আলী বড়লস্করের কব্জা করা জমি উদ্ধারের কোন গ্যারান্টি নেই। গাঢ় অন্ধকারের মধ্যেই ওর চোখের সামনে সুরমান আলী বড়লস্করের চেহারাটা ধীরে ধীরে আরো বিকট কুৎসিত এবং ভয়াল মনে হচ্ছে।
রমেন তাঁতি তার অচল তাঁত মেশিন চালু করার কোন গ্যারান্টি পায় নি। দুর্গা ভাসানের পর খালি হাতে গুমড়া মুখে বাড়ী ফেরার মতই সে পদ্ম বরার বক্তৃতা শুনে বাড়ী ফিরছে। সে দেখছে তাঁত মেশিনের মাকুটা এক জায়গায় স্থির হয়ে গুম মেরে বসে আছে। সেটা কটাস কটাস শব্দ করে দুরন্ত ইঁদুরের মত এদিক সেদিক ছুটবে না। সে মনে মনে ভাবছে আর চলছে। ভাবতে ভাবতে এক সময় এমনিতেই সে মনে মনে বলল, ”শালা গবরমেন্ট আবার কেডা? বণিকের পুলাডাই গবরমেন্ট। সারা বছর তাঁত মেশিন টানাটানি কইরা দুই বেলা পেট ভরে না। আর শালার পুতে সুতার ফাটকা - বাজি কইরা পাঁচ তালা দালানে ঠেং-এর উপর ঠেং দিয়া ঘুমায়। হে গবরমেন্ট না অইলে গবরমেন্ট কেডা?”
সমীরের মনে সন্দেহ ও সংশয়ের ভাবটা মিলিয়ে যায় নি। সেটা মনে মনে পোষণ করেই ওল্ড রোড ধরে এগিয়ে চলছে। মীনাশ্রী সিনেমা হলের সামনে গিয়ে তাঁর চলার গতি বাঁক নিল। রাস্তায় যানবাহন এবং লোক চলাচলের প্রচণ্ড ভীড়। দু’পাশে সারি সারি দোকানগুলোতে নানা রঙের আলো ঝলমল করছে। সে যেতে যেতে কেবল মনোহারী দোকানগুলো দেখছে। সবগুলো দোকানেই বিভিন্ন ধরণে সাবান শো- কেসে গা ঘেঁষে ঠাসাঠাসি করে সুন্দর পোশাক পরে ঘুপটি মেরে বসে আছে। সাবানগুলো রূপ জৌলুসে উপচে পড়ছে। সমীরকে দেখেই ওরা খিল খিল করে হেসে উঠছে। এসব দেখে সমীরের মনটা আরো বিষাদে ছেয়ে গেল। সত্যি সত্যিই তার মনো- লোভা এ সবের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারবে না। বাজারে এন্ট্রি না পেয়ে আতুড় ঘরেই দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে। এভাবে ভাবতে ভাবতে সে আরো এগিয়ে এল। ব্রড রোডে বিরাট মনোহারী দোকানটার সামনে এসে থমকে দাঁড়ালো। দোকানটার সামনে বিশেষ ভঙ্গীমায় একটি সুন্দর রমণীর ফটোর চারিদিকে টুনি সেট জড়িয়ে দিয়েছে। সেগুলো জ্বলছে আর নিবছে। আলো জ্বলে উঠার সাথে সাথে বিভিন্ন ভাবে লেখা হরফগুলো সুন্দরভাবে দর্শনীয় হয়ে উঠছে। আলো জ্বলছে আর সে দেখছে লিরিল সাবান আপনাকে ঝর ঝর করে দেয়-লিরিল আপনার কমনীয়তা রক্ষা করে- লিরিল যৌবনের লাবণ্য অটুট রাখে- রমণীর সৌন্দর্য্যের - গোপন কথা লিরিল- লিরিল- লিরিল- লিরিল-লিরিল লিরিল চারদিক থেকে সমীরকে ঘিরে ধরছে। সামনে-পিছনে, ডানে-বায়ে সর্বত্র কেবল লিরিল। সে দেখছে হাজার হাজার লিরিল ক্ষিপ্ত হয়ে আসছে। লক্ষ লক্ষ লিরিল ক্ষিপ্ত হয়ে আসছে। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ লিরিল ক্ষিপ্ত হয়ে ওর সযত্নে রাখা বুকের ধন মনোলোভাকে হত্যা করছে। সমীর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। সে প্রায় সেখান থেকে দৌঁড়ে পালাল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সমীর হাপিয়ে পড়ল। ব্রড রোড থেকে তাড়াতাড়ি পালিয়ে এসে এখন সে ধীরে ধীরে হাঁটছে। গুলপুকুরের মোড়টাতে আসতেই মনে পড়ল সেদিন একটি ছেলে এই মোড়ের কোণে দাঁড়িয়ে মাইক ফুকে বলছিল। সে বলছিল, “মন্ত্রীত্ব বদলে ব্যাপক সাধারণ মানুষের কোন মৌলিক পরিবর্তন হয় না। জানেন, কোন দেশের ছোট ছোট শিল্প এবং কুটির শিল্পগুলোর বিকাশ ঘটতে পারে না যদি সেখানকার বৃহৎ একচেটিয়া শিল্পপতিদের অধিকার খর্ব করা না যায়। আমাদের পদ্মবাবুরা কি পারবেন উৎপাদন সামগ্রীর মালিক বৃহৎ একচেটিয়া পুঁজিপতিদের অধিকার খর্ব করতে?” ছেলেটি আরো অনেক কিছুই বলছিল। এই মূহূর্তে সমীর সব মনে করতে পারছে না। কেবল এগুলোই আবছা আবছা ওর মনে পড়ছে। মনোলোভার হত্যার প্রতিবাদে ওর মনে এখন কেবল ছেলেটির কথাগুলোই ক্রিয়া করছে।
সমকাল, অক্টোবর ১৯৭৮