এই পত্রিকার প্রতিবেদনটি ১৯৫৬ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী তারিখের, যেখানে কলকাতা সোশ্যালিস্ট পার্টির সম্পাদক শ্রীনরেশ ভৌমিকের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।
বিবৃতিটি রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের রিপোর্ট এবং তার প্রতিক্রিয়ায় প্রস্তাবিত বাংলা-বিহার সংযুক্তিকরণের তীব্র সমালোচনা করে। শ্রী ভৌমিক এই সংযুক্তি প্রস্তাবকে ডঃ বি.সি. রায় এবং শ্রীকৃষ্ণ সিংহের একটি “ম্যাজিক বোমা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা জনগণের ক্ষোভকে ভিন্ন পথে চালিত করার একটি প্রচেষ্টা বলে তিনি মনে করেন।
তিনি এই প্রস্তাবের প্রবক্তাদের দূরদর্শিতার অভাবের সমালোচনা করেন এবং তাঁদের কার্যকলাপকে মহম্মদ তোঘলকের খামখেয়ালিপনার সঙ্গে তুলনা করেন। শ্রী ভৌমিক রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সদস্যদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বিহারবাসী হিসেবে ফজল আলির নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনের শিরোনাম—“বাংলায় আগুণ জ্বলে নাই বলিয়া বাংলার অবলুপ্তির পুরষ্কার”—এই ধারণাকে তুলে ধরে যে, অন্যান্য অঞ্চলের মতো সহিংস প্রতিবাদ না করার জন্য বাংলাকে সংযুক্তির মাধ্যমে বিলুপ্ত করে “পুরস্কৃত” করা হচ্ছে।
সম্পূর্ণ নথিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন (PDF)
View Extracted Text
বাংলায় আগুণ জ্বলে নাই বলিয়া বাংলার অবলুপ্তির পুরষ্কার কলিকাতা সহর সোস্যালিস্ট পার্টির সম্পাদক শ্রীনরেশ ভৌমিকের বিবৃতি রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের ফলে যে দুর্গতিমূলক রিপোর্ট দেশবাসীর সামনে আসিয়া Socialen 24/2/56 و 5-24/2 উপস্থিত হয় তাহাতে দেশের লোক যখন ক্ষেপিয়া উঠিয়া সরকারী সম্পত্তির উপর আক্রমণ চালাইতে সুরু করে তখন কংগ্রেসী মহল হইতে পুনরায় একটি ম্যাজিক বোমা ডাঃ রায় ও শ্রীকৃষ্ণ সিংহ দেশবাসীর উপর সজোরে নিক্ষেপ করিয়াছেন। ইহার নাম বংগ বিহার সংযুক্তি করণ। নিক্ষেপকারীদের চাল- চলন দেখিয়া মনে হয় না যে এরূপ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সম্বন্ধে ইহাদের কিছুমাত্র কাণ্ডজ্ঞান আছে। দেশবাসীকে ক্ষ্যাপাইয়া দিয়া আনন্দ উপভোগ করিতে দিল্লীর মুঘল বাদশারা সাহস করিত না, মহম্মদ তোগলক করিত বটে। তবে বোধ হয় তোগলকী হাওয়া ইহাদেরও লাগিয়া গিয়াছে। হাওয়া যাহারই লাগুক বলিবার কিছু নাই তবে বেশী দূর গড়াইলে বর্তমানকালের জনসাধারণ কতদূর অগ্রসর হইবে তাহা বলা কঠিন নয়। এ সম্বন্ধে প্রাথমিক অন্যায় ন হইতেছে এই যে এমন কয়েকটা ক লোককে লইয়া রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয় যাহাদের যায় বিচার করিবার ক্ষমতা কত কম তাহা বিবরণ প্রকাশিত হইবার পূর্ব্বেই দেখা গিয়াছিল। ফজল আলি মহাশয় বলেন যে যেহেতু ই তিনি বিহারবাসী সেইহেতু তিনি বংগ বিহার সীমানা নির্ধারণ করিবার সময় কমিশনের কাজ ক্রমশঃ