তখন রাত্রি প্রায় আটটা। শীতের রাত্রি। চারিদিক কুয়াশায় আচ্ছন্ন করে ফেলছে। ঘর থেকে বেরুলে কিছুই দেখা যায় না। সারা এলাকা জুড়ে একটা নিস্তব্ধতার ভাব। রেমা একবার ঘরের বাইরে গিয়ে শীতের ঝাপটা খেয়ে পুণরায় ভিতরে এসে চুল্লীর পাশে বসে রইল। রোসাঙ্গী ততক্ষণে রাত্রির আহারের জিনিসগুলো প্রায় তৈরী করে ফেলছিল। এমন সময় দরজা ঠেলে জিটিঙ্গা প্রবেশ করল। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে গিয়ে কেবলমাত্র মুখখানা ছাড়া শরীরটাকে যে ভাবে গরম কাপড়ে আচ্ছাদিত করেছে তাতে এক ঝলক দেখে অতি আপনজনও বুঝতে পারবে না যে সে আসলে জিটিঙ্গা। রেমা ও রোসাঙ্গী দুজনেই আগন্তুকের দিকে ভালভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল।

— কিহে, তোমাদের চাউনি দেখে মনে হচ্ছে নতুন জিনিস দেখছ। আমাকে চিনতে পারছ না? জিটিঙ্গা বলল।

— জিটিঙ্গার কণ্ঠস্বর শুনেই রেমা এবং রোসাঙ্গী ওকে চিনতে পারল। কিন্তুত কিমাকারে, বিচিত্র পোষাকে শরীরটাকে আচ্ছাদিত করায় অত্যন্ত আপনজন হওয়া সত্বেও জিটিঙ্গাকে প্রথম নজরে চিনতে না পারায় রেমা এবং রোসাঙ্গী একটু অপ্রস্তুত হল। কিন্তু জিটিঙ্গার তাতে খুব আনন্দ।

প্রথম ঝলকে ওদেরকে বেওকুফ বানিয়ে দিতে পেরেছে, সেটা সেই মূহুর্তে ওর কাছে বেশ আনন্দদায়ক মনে হল। সে আস্তে আস্তে মাথার টুপিটা খুলে নিয়ে চুল্লীর পাশে রেমার গা ঘেসে একটা কাঠের টুকরার উপর বসে পড়ল। রেমা একটু সরে ওকে বসতে অভ্যর্থনা জানাল। রোসাঙ্গী যেন রসিকতা করেই জিটিঙ্গাকে বললো, — তুমি যে বেশে এসেছ তা দেখে তোমাকে প্রথম অবস্থায় চিড়িয়াখানার একটা আজব চীজ বলেই ধরে নিতে হয়। — বাইরে শীতের যা আক্রমণ তা থেকে বাঁচতে গেলে তোমাকেও এইরকম চিড়িয়াখানার আজব চীজ সাজতে হবে। ঘরে চুল্লির পাশে বেশ আমেজ করে বসে আছো তাই কিছু বুঝতে পারছ না।

— তা ঠিক বলেছ ভাই। বাইরে যা শীত। আমি একবার শরীরটা ঘর থেকে বের করেই আবার চট করে ভিতরে এসে বসে রয়েছি। শীত ত নয় যেন ইলেকট্রিকের শক্। আচ্ছা যাক, এখন বল বন্ধু কি হেতু আগমন তব। রেমা বলল।

— আজ একটা সুখবর দিতে এসেছি। এটা হঠাৎ ফস করে বলে ফেললে হবে না। বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে বলতে হবে।

একথাগুলি বলে জিটিঙ্গা রেমা এবং রোসাঙ্গী দুজনের দিকেই চেয়ে মুচকি হাসি হাসতে লাগল। রোসাঙ্গী এবং রেমা জানে জিটিঙ্গার ধরণটাই ওই। শত বাধা বিপত্তি থাকা সত্বেও মেজাজ কোন সময় কড়া করে না। কথাবলার ফাঁকে সবসময় মুখে একটা হাসি লেগেই থাকে। তাই সবাই ওকে ভালবাসে। ঝড় ঝাপটা, শীতের আক্রমণ ও শত্রু ভয় কোন কিছুই ওকে কাবু করতে পারে না। সে ঠিক যে খবর যে জায়গায় পৌঁছে দেবার সেটা দিবেই।

জিটিঙ্গার মুচকি হাসির রেখা মুখে থাকতে থাকতেই রোসাঙ্গী বলল- তোমার আবার ভাল খবর দেওয়ার মত আছে কি? তোমার খবর মানেইত আমাদের ৫/৬ জন খণ্ড যুদ্ধে মারা গেছে আর সাতজন আহত হয়েছেন। নয়ত লালবুং পুঞ্জি ঘেরাও করে শত্রুবাহিনী বুড়ো-জোয়ান, স্ত্রী, পুরুষ সবাইকে M.N.F. ভলান্টিয়ার্স সন্দেহে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। এগুলি কি আর ভাল খবর?

— নাহে, আজ আমি এসব খবর দিতে আসিনি। আজ অন্য খবর। হাসি মুখেই জিটিঙ্গা বলল।

জিটিঙ্গা এবং রোসাঙ্গীর আলাপের নমুনা যেভাবে এগোচ্ছে সেটা লক্ষ্য করে রেমা ভাবল, এভাবে দুজন এগুতে থাকলে আসল খবরটা জানতে বেশ সময় লাগবে। তাই সে মধ্যিখানে বলল, — তোমাদের কথার মারপ্যাচে এখন দরকার নেই বন্ধু, আসল ব্যাপারটা তুমি খুলে বল।

— আসল ব্যাপারটা হচ্ছে মিঃ য়‍্যাঙ্গায়া গত পরশুদিন সদর আইজলে এসে পৌঁছেছে।

— য়‍্যাঙ্গায়া এসেছে?

— হ্যাঁ য়‍্যাঙ্গায়া এসেছে। দু’তিন দিনের মধ্যেই য়‍্যাঙ্গায়ার সাথে আমাদের সশরীরে দেখা সাক্ষাৎ এবং আলাপ আলোচনা হবে। অতি নিকট ভবিষ্যতেই রেমা য়‍্যাঙ্গায়ার সাথে মিলিত হবে। আলাপ আলোচনা হবে। দীর্ঘদিন দেখা না হওয়ার পর বন্ধুর সাথে মিলিত হওয়ার আনন্দ ওর সমস্ত দেহ মনে ঢেউ বইয়ে দিল। আনন্দের রেশ টেনেই সে তাঁর মনকে সুদূর অতীতের স্মৃতিতে তলিয়ে দিল।

ডেমাগিরির পাশে অবস্থিত পাহাড়ের ছোট এক নির্জন পুঞ্জীতে য়‍্যাঙ্গায়ার জন্ম। সাধারণ মিজো ছেলে মেয়েরা পাহাড়ী পরিবেশে যেমন ভাবে শৈশব থেকে উত্তীর্ণ হয়ে কৈশোরে বর্দ্ধিত হতে থাকে তেমনিভাবে য়‍্যাঙ্গায়াও বর্দ্ধিত হয়েছিল। পরিপূর্ণ কৈশোরে রেমার সাথে য়‍্যাঙ্গায়ার পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যেই ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় হতে থাকে। আইজল শহরে মেট্রিক ক্লাস অবধি দুজনে পাঠ শেষ করে। নিজেদেরকে জীবনের বৃহত্তর ক্ষেত্রে একাত্ম করার অদম্য উৎসাহ ঠেলে নিয়ে যায় শৈল শহর শিলং এ। সেখানে দু’জনেই ইন্টারমেডিয়েট ক্লাসে ভর্তি হয়। ইন্টারমেডিয়েট পড়া সমাপ্ত করার পর য়‍্যাঙ্গায়া চলে যায় সুদূর বর্মার কাচিন এলাকায়, রেমা চলে আসে আইজল। আজ থেকে দশ বছর আগের ঘটনা। য়‍্যাঙ্গায়া কাচিন এলাকায় চলে যাওয়ার পর রেমার বড় নিঃসঙ্গ মনে হত। সব সময়ই য়‍্যাঙ্গায়ার চরিত্রের বৈশিষ্টগুলি তার মনে বারে বারে উঁকি দিত।

কাচিন এলাকাতে থেকেই য়‍্যাঙ্গায়া বার্মা Airforce বাহিনীতে চাকুরী নিয়েছিল। তখন অবশ্য মাঝে মাঝে রেমার কাছে খবর আসত য়‍্যাঙ্গায়া চাকুরী জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে বার্মা Airforce এর কেবলমাত্র একজন সাধারণ কর্মচারী নয়। সে একজন দক্ষ ইঞ্জিনীয়ার। খেলা ধূলাতেও যথেষ্ট উন্নতি করেছে। মিজো পাহাড়ের আইজল শহরে হকি খেলে যে যুবক ক্রীড়ামোদীদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল সে বার্মা Airforce টীমের একজন খেলোয়াড়। খবরগুলি পেয়ে রেমা বেশ আনন্দই অনুভব করত। কিন্তু বার্মাতে উ নু সরকারের পতনের পর সে আর বার্মাতে থাকে নি। সে চলে গিয়েছিল লণ্ডনে। তারপর রেমা ব্যক্তিগত ভাবে য়‍্যাঙ্গায়ার কোন খবর পায়নি। দীর্ঘদিন বিদেশ বসবাস করার পর এখন য়‍্যাঙ্গায়া স্বদেশে ফিরে এসেছে। কিন্তু কেন? সে কি জানেনা যে মিজো পাহাড় আজ ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে চলছে? এখানে স্বদেশ প্রেমিক প্রত্যেকটি মিজো ছেলে মেয়ের মনে নূতন প্রাণের স্পন্দন জেগেছে। মিজো পাহাড়ের বিগত দিনের নির্জন শান্ত পরিবেশ আজ উত্তপ্ত। গোটা মিজো জাতি আজ অগ্নি পরীক্ষার সম্মুখীন। দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষার নাম করে পূর্ণ সামরিক বাহিনীর সৈনিকদেরকে নিরাপত্তা বাহিনী নাম দিয়ে মিজো পাহাড়ের প্রতিটি অঞ্চলে চালিয়ে যাচ্ছে নির্মম অত্যাচার ও জুলুম। এ সব কিছুর ঠিক ঠিক খবর কি য়‍্যাঙ্গায়া জানে? য়‍্যাঙ্গায়া কি জানতে পেরেছে যে মিজো জনজীবন বিপর্যস্ত? নইলে কেন সে তাঁর সুন্দর সচ্ছল জীবন যাপনের আরাম আয়েস ছেড়ে দিয়ে আজ উত্তপ্ত এই মিজো পাহাড়ে ফিরে এসেছে? নিশ্চয়ই য়‍্যাঙ্গায়ার মনে আজ দেশমাতৃকার আহ্বান প্রচণ্ড ভাবে সাড়া জাগিয়েছে। আজ যেখানে পার্বত্য মিজো জণগণ নিজেদেরকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছে, প্রাণপণে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, সমস্ত রকম বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে-শিশু, জোয়ান, বৃদ্ধ সকলেই স্বাধীন মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে লড়াই করছে সে অবস্থায় য়‍্যাঙ্গায়া পারে না বিদেশে বসে আরাম আয়াসে স্বচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে। য়‍্যাঙ্গায়া নিশ্চয়ই জানে একটি জাতির জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে প্রত্যেকটি মানুষের মহত কর্তব্য সেটাতে অংশ গ্রহণ করা। তাই য়‍্যাঙ্গায়াকে প্রকৃত মানুষ হিসাবে জাতির জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে তথা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতেই হবে। সে যুদ্ধক্ষেত্রে মাভৈঃ বলে রেমার পাশে দাঁড়াবে। সে দাঁড়াবে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ কারী প্রতিটি মিজো ভাই বোনদের পাশে। সেটা আরও তীব্র ভাবে প্রমাণ করতে চাইবে যে, জাতি হিসাবে আমরা প্রকৃত স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকতে চাইছি, অত্যাচারের মাধ্যমে যতই দাবিয়ে রাখতে চেষ্টা করুক সেটা আমরা মানব না। আমরা চাই না আমাদেরকে পদানত করা হউক। শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু থাকা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা স্বাধীন জাতি হিসাবেই আমাদের ভবিষ্যৎ রচনা করব। তার জন্য যত মূল্যই দিতে হোক না কেন।

রোসাঙ্গী এবং জিটিঙ্গা যদিও রেমার পাশে বসেছিল তবুও তাঁদেরকে উপেক্ষা করে রেমার মন য়‍্যাঙ্গায়াকে নিয়েই তোলপাড় করছিল। য়‍্যাঙ্গায়ার প্রসঙ্গ কেন্দ্র করেই ওর মন এগিয়ে চলছিল।

জিটিঙ্গা রেমার মনের ভাব বুঝতে পেরেছে। তাই সে মিহি গলায় শান্ত ভাবে বলল, — তুমি দেখছি য়‍্যাঙ্গায়ার খবর শুনেই আমাদেরকে ভুলতে বসেছ। ওর সাক্ষাৎ পেলে বোধ হয় আমাদেরকে তোমার কাছে ঘেষতে দেবে না। রেমা সত্যি সত্যিই তার সামনে বসা জিটিঙ্গা এবং রোসাঙ্গীকে যথোচিত গুরুত্ব না দিয়ে কেবল য়‍্যাঙ্গায়াকে নিয়েই ভাবছিল। তাই জিটিঙ্গার প্রশ্ন ওকে একটু অপ্রস্তুত করে তুলল। অবশ্য সামলে নিয়ে সহজভাবে বলল — না, অনেক দিনের পুরানো বন্ধু কিনা তাই ওর প্রসঙ্গ আসতেই অনেক পুরানো স্মৃতি মনে আসছে।

— আমারও মাঝে মাঝে অবসর সময় পুরানো স্মৃতি মনে ভেসে উঠত। পুরানো স্মৃতিকে আমল দিলেই মনটা কেমন উন্মনা হয়ে যায়। আলস্য এবং জড়তা মন এবং শরীর দুটোকেই কেমন মশগুল করে ফেলে। তখন মনটাকে চাঙ্গা করতে আমার বেশ অসুবিধা হয়। তাই আজকাল আর স্মৃতি চারণকে আমল দেই না।

জিটিঙ্গার কথাগুলো যেন পরক্ষোভাবে রেমাকে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তুমি অতীতের স্মৃতি নিয়ে মশগুল হয়ো না। আমাদের ভবিষ্যৎ রচনার যে গুরু দায়িত্ব এসেছে সেটাকে বাধা দিতে বাস্তব রূঢ়ভাবে খচিয়ে আছে। শুধু অতীত সুখের কথা ভেবে মশগুল থাকলে আমাদের চলবে না। রেমা জিটিঙ্গার ইঙ্গিতটা বুঝতে পেরেছে। সে বলল — অতীতের স্মৃতি নিয়ে মশগুল থাকা যেমন ঠিক নয় তেমনি অস্বীকার করাটাও ঠিক নয়। অতীতকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে ভবিষ্যতের সোপান হয় না।

রোসাঙ্গী ততক্ষণে রাত্রির খাবার তৈরি করে চা তৈরি করেছে। সে দেখল রেমা এবং জিটিঙ্গা য়‍্যাঙ্গায়ার প্রসঙ্গ ছেড়ে দিয়ে এক তত্ব আলোচনায় লেগে গেছে। এখন ওদেরকে চা দিয়ে ওদের তত্ব আলোচনার মোড় ঘুরানো দরকার। সে নিজে এক ভাড় রেখে দুজনকে দুভার চা দিল। সে চা দিয়ে বলল- এবার তত্ত্ব আলোচনা বাদ দিয়ে চা খেয়ে শরীর কিছু চাঙ্গা করা যাক।

এসময়ে চা পেয়ে রেমা এবং জিটিঙ্গা দুজনেই তাদের তত্ত্ব আলোচনা বাদ দিয়ে জুতসই চুমুক দিয়ে চা পান করতে লাগল। রোসাঙ্গী য়‍্যাঙ্গায়াকে কোন দিন দেখেনি। রেমার নিকট থেকেই সে য়‍্যাঙ্গায়া সম্বন্ধে শুনেছিল। য়্যাঙ্গায়া সম্বন্ধে সে মোটামুটি একটা ধারণা করেছিল। য়‍্যাঙ্গায়া দীর্ঘদিন পরে দেশে এসেছে। রেমার পুরানো বন্ধু স্বদেশের ডাকে রেমার পাশে দাঁড়িয়ে সংগ্রামের অংশীদার হবে। এসব ভাবনা রোসাঙ্গীর মন জুড়ে বসে এবং ভাবনাগুলি ওর মনে বেশ আনন্দই দেয়।

ধীরে ধীরে ঘড়ির কাটা টক টক করে এগিয়ে চলে। গভীর কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকার রাত্রির নিস্তব্ধতা ভেদ করে রেমার গৃহের সন্নিকটস্থ গাছের পাতা থেকে টপ টপ করে কুয়াশা পড়ার শব্দ ভেসে আসে।

— এবার ওঠা যাক। রাত্রি প্রায় দশটা হতে চলল। জিটিঙ্গা উঠে তার টুপিটা মাথায় লাগিয়ে গায়ের গরম পোষাক গুলিকে আট সাট করতে লাগল।

— চলে যাবে? রেমা বলল।

— হ্যাঁ চলে যাই। খবরটা দেওয়ার জন্য এসেছিলাম তাতো বলেই ফেললাম।

— আজকের খবরটা সত্যিই একটা বিশেষ খবর।

— বিশেষ খবর বলেইতো এসেছি। নইলে কি আর এত শীতে বের হয়ে দেড়মাইল হেটে আসতাম।

— তোমাকে যে কি বলব। রেমা অত্যন্ত মিহিগলায় কৃতজ্ঞতার ভান দেখিয়ে বলল।

— থাক থাক, তোমাকে বিনয়ী হতে হবে না। বেশী কৃতজ্ঞতা দেখালে আমি পাংচাড়ড হয়ে যাব। গ্যাস আমার সহ্য হয় না। এ বলেই জিটিঙ্গা দরজা ঠেলে বেড়িয়ে গেল।

রোসাঙ্গী ও রেমা আজকের মত জিটিঙ্গাকে শেষ বিদায় অভিনন্দন জানাতে দরজা পর্যন্ত উঠে এল। জিটিঙ্গা ঘর থেকে বেরিয়ে পিছন ফিরে রেমা ও রোসাঙ্গী দুজনকেই উদ্দেশ্য করে বলল “মাংঠালে” অর্থাৎ গুডনাইট। প্রত্যুত্তরে রেমা এবং রোসাঙ্গী ও একসাথে বলল, “মাংঠালে”। ঘরের বাইরে সমস্ত এলাাকা কুয়াশায় অদ্ভুত অন্ধকারে ছেয়ে ফেলেছে। বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে দুতিন পা এগিয়ে যেতেই জিটিঙ্গার সমস্ত দেহ অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।