আজকে আমরা আমাদেরকে যে মিজো বলছি সেটা হচ্ছে আমাদের নূতন নামাকরণ। আমাদের ভাষায় মিজো মানে হচ্ছে যারা উঁচুতে বাস করে অর্থাৎ those who live in the high land. আমরা লুসাই, কুকি, মহার, পাইতো, রিয়াং, পাওয়াই, চাকমা, লাখের প্রভৃতি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সম্মিলিত নাম দিয়েছি মিজো।
এখন পর্যন্ত এমন কোন তথ্য সমৃদ্ধ আমাদের কোন পুরাতন গ্রন্থ নেই যা থেকে আমরা আমাদের প্রাচীন ইতিহাস জানতে পারি। তবে বংশ পরম্পরাগত ভাবে মুখে মুখে যে কাহিনী চলে এসেছে তা থেকে আমরা জানতে পারি এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরানো বাসিন্দা ছিল লুসাই, চীন এবং কাচিন এই তিনটি গোষ্ঠী। তারা সম্ভবত সুদুর চীন সীমান্ত থেকে ক্রমে ক্রমে গভীর জঙ্গলের মধ্যপথ ধরে এগিয়ে বার্মা হয়ে এখানে এসে বসবাস করতে আরম্ভ করে। তাদের বংশধররাই ক্রমে ডাল পালা মেলে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে এ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেক গোষ্ঠীরই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই গোষ্ঠীকে পরিচালনা করতেন। তাকে বলা হত লাল।জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে যখন সমস্যা বাড়তে থাকে তখন লালরা তাদের নিকটবর্তী অঞ্চলের লালের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধে মেতে থাকত। তখন যুদ্ধটা হত লালদের দ্বৈতযুদ্ধ। দুই পুঞ্জীর সীমান্ত অঞ্চলে দাঁড়িয়ে দুই গোষ্ঠীর প্রধান দুই লাল সাধারণ ভাবে নিজেদের প্রচলিত অস্ত্রদ্বারা যুদ্ধ করত। সে যুদ্ধ চলতে থাকত যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন মারা যেত। তারপর বিজিত লালের অনুগামীরা বাধ্য হয়ে বিজয়ী লালের অনুগামী হত। বিজয়ী লাল বিজিত লালের মাথার খুলি নিয়ে নিজের গৌরব বৃদ্ধির জন্য বাড়িতে রেখে দিত। যে লাল যতবেশী খুলি নিয়ে রাখতে পারত সেই ছিল সে সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী। এমনিভাবে বিভিন্ন লালদের পরিচালনাধীন বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলির জীবনযাত্রায় কালের প্রবাহে বিবর্তন ঘটে এগিয়ে চলছিল। লালরা তাদের ক্রমে ক্রমে বর্দ্ধিত জনসংখ্যা নিয়ে কেবলমাত্র পাহাড়ের সীমাবদ্ধ গভীর অরণ্যে থাকতে পারেনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে ওরা বাধ্য হয়ে নিজেদের বসবাসের অঞ্চলের পরিধি বৃদ্ধি করছিল। অরণ্যের দুর্গম অঞ্চল থেকে ক্রমশঃ সমতলের নিকটবর্তী পাহাড়ী টিলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। মনিপুর, কাছাড় এবং ত্রিপুরা প্রভৃতি সীমান্ত অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ওদের পুঞ্জীর বিস্তৃতি লাভ করেছিল।
...