“দিল্লীকা লাড্ডু যো খায়া ওহী পস্তায়া, যো নেহী খায়া ওহভী পস্তায়া”। প্রায় চীৎকার দিয়ে বলতে বলতে আমাদের রুমে প্রবেশ করলেন ভেজুদা।

ক্রিষ্টিন কীলারের পায়ে ধরে আয়ুবের সাঁতার, মাও সে তুঙএর তৃতীয় বিয়ের পর বর্তমান চীনা চিত্র জগতের সেক্সী অভিনেত্রীর সহিত চতুর্থ বিয়ে এবং অধুনা বিধান সভায় মহিলা সদস্যার উপর ডিম্ব নিক্ষেপের কাহিনী – সব কিছুই ভেজুদা অবসর সময়ে রসিয়ে রসিয়ে আমাদেরে শুনাতেন । তাই সাথে সাথে বলি, কিন্তু আজকেরটির মত কোনদিন দেখিনি।

– “ভেজুদা ব্যাপার কি?” – “আচ্ছা বল দেখিনি মাদলা, খেয়ে পস্তানো ভাল, না – না খেয়ে পস্তানো ভাল?” – “আমিত বিন্দুবিসর্গ কিছুই বুঝতে পারছি না ভেজুদা। তুমি এই বলছ, ‘দিল্লীকা লাড্ডু যো…।” আবার বলছ, “খেয়ে পস্তানো ভাল, না-না খেয়ে পস্তানো ভাল”। তুমি ব্যাপারটা ঠিক করে খুলে বলো ভেজুদা।

তা’ হলে শোন। এই বলে ভেজুদা নির্বাপিত অর্ধেক চারমিনারটা (সিগারেট) ধরিয়ে নিয়ে কয়েকটা রিং ছোড়ল । ধীর গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

— ”জানিস আমাদের হেডমাষ্টার সনাতন বাড়ুজ্যে খুব ভাল মানুষ। সব বিষয়েই অগাধ পাণ্ডিত্য। অবশ্য খুব স্ট্রিক্ট ছিলেন। ছেলেদের ফাইন না করে বেত দিতেন। আঃ ইংরেজী যা পড়াতেন না।”

এতটুকু বলেই ভেজুদা শেষ সুখটান দিয়ে কোয়ার্টার ইঞ্চি চারমিনারটা জানালা দিয়ে ফেলে দিল। আস্তে আস্তে হাসির আভাটুকু মুখে ফুটিয়ে আনতে লাগল। এটাই হল ভেজুদার বৈশিষ্ট। গৌরচন্দ্রিক। শেষ করে আসল পর্ব্বে পদক্ষেপের সঙ্কেত।

– “ জানিস মাদলা, হেডমাষ্টার মশাই চতুরাশ্রমের গার্হস্থ্যকে অফ করে বানপ্রস্থের শেষ পর্ব্বে পৌঁছেছিল। কিন্তু আয়ুর সীমানা যতই বানপ্রস্থকে ছেড়ে এগিয়ে যেতেছিল, গার্হস্থ্যের আকর্ষণ ওর কাছে ততই প্রগাঢ় হচ্ছিল। কিন্তু হায়! টাইম এন্ড টাইড ওয়েইট ফর নান।”

এই পর্যন্ত বলেই ভেজুদা আমাকে বললে, “কিরে? কিছু আঁচ করতে পেরেচিস?”

ভেজুদা শুষ্ক গল্পে রস সঞ্চার করে শুনিয়েছে। গল্পে বর্ণিত মিসেস ম্যালাফ্রপের মত ভুল ইংরাজী উচ্চারণ করে আমাদেরে হাসিয়েছে। কিন্তু এমনভাবে আমাদেরে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়া এই প্রথম। তাই তাক লাগবে বৈকি! কিন্তু কিছুই আঁচ করতে পারিনি দেখে ভেজুদা অ্যাক্টর লাইক বললে, – “একেই বলে না খেয়ে পস্তানো।”

ভেজুদাকে এটেনটিবলি ফলো করছি দেখে তেজু দা আত্মপ্রসাদের হাসি হেসে আবার বলতে লাগলেন, “এই ধর না আমাদের ও বাড়ীর কল্যানেশ বাসুর কথা। ইনকাম ট্যাক্স অফিসে চাকুরী করছে। গরমেন্টের পরিবার পরিকল্পনা আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এখন সাতটি ছেলেমেয়ের বাপ। চাকুরী ক্ষেত্রে নিজ বাম পকেট খানির দ্বার অবারিত রেখেও মাসান্তে মিসেস বাসুর হিমশীতল তৈল যোগাড় করে দিতে পরেছেন না। ছেলেমেয়েদের উশৃঙ্খলতা দেখে এবং মিসেস বাসুর প্রতাপে হাফ ছাড়তে ছাড়তে বলেন, – “ওঃ ভগবান, ওসব না থাকলেই ভাল হত।” বেচারী বাসু যখন ছোট চটের খলিটি নিয়ে সকালবেলা বাজার থেকে ধীর পদক্ষেপে বঙ্কিম হয়ে বাড়ী ফেরেন তখন কেমনটাই না লাগে!”

ভেজুদাকে আর এগোতে না দিয়ে আমরা সবাই ডুয়েট করলাম, - “একেই বলে খেয়ে পস্তানো।” ভেজুদা আর এক মিনিট ও অপেক্ষা না করে সোজা চলে গেলেন। কিন্তু দূর থেকে ভেজুদার আবৃত্তি আমাদের কানে ভেসে আসছিল। “দিল্লীকা লাড্ডু যো খায়া ওহী পস্তায়া, যো নেহী খায়া … ।”

সচিত্র ভারত, এপ্রিল, ১৯৬৪ ইং